ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ‘টাকা দাবির’ অভিযোগ

এবার জগন্নাথ ছাত্রলীগ নেতার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদা হিসেবে দাবির অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফারজানা ইসলাম।

গতকাল তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঈদের জন্য ওই চাঁদা দাবি করেন। ওই অভিযোগবিদদের মধ্যেই ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে কমিটি বিলোপের প্রায় ৭ মাস পর শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন। অবশ্য আলোচিত গোলাম রাব্বানী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেটের’ পরামর্শে তার বিরুদ্ধে শেখ রাসেল টাকা দাবির ভিত্তিহীন এই অভিযোগ করছেন।

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সম্পাদক শেখ রাসেলের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর ওই দিনই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিলুপ্ত করা হয় এ কমিটি। গত শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ওই কমিটি টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তার কাছে অর্থ চেয়েছিলেন রাব্বানী।

শেখ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, সংঘর্ষের পর সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও তিনি কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে গোলাম রাব্বানীকে অনুরোধ করেছিলেন। ‘তখন তিনি (রাব্বানী) বলছিলেন, এর আগে সোহাগ ভাই-নাজমুল ভাই ছিল, তাদের বিভিন্নভাবে সুবিধা দিত শরীফ-সিরাজ (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদক)। ‘তোরা তো আমাকে কিছু দিস না। তোরা মাসে কত দিতে পারবি বল, তাহলে দেখি কমিটি ঠিক করা যায় কিভাবে।’

ওই শর্তে রাজি হননি বলে দাবি করেন শেখ রাসেল। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির নেতারা নাখোশ ছিলেন। বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প আছে, তারা (শোভন-রাব্বানী) যখন দেখছে আমরা তাদের মতো চলছি না; তখন তারা বুঝছে আমরা থাকলে প্রকল্প থেকে ওরা কিছু পাবে না। এই দুই কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় দাবি করে রাসেল বলেন, দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে এসব বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণ জমা দিয়েছি আমরা।

গত ২২ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার পর দেড় মাসেও কমিটি ঘোষণা না করার সমালোচনা করেন রাসেল। শেখ রাসেল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ নিয়ে ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

রাসেলের অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারামারিতে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছিল। এই ঘটনায় তিন সাংবাদিকও আহত হয়েছিল। এছাড়া জগন্নাথ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নানা অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে প্রথমে আমরা কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করি। পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্যার, ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাই, আব্দুর রহমান ভাই, বাহাউদ্দিন নাছিম ভাই ও বিএম মোজাম্মেল ভাইয়ের পরামর্শে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করি। এখানে জগন্নাথের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কমিটি বাঁচানোর বিষয়ে কথা বলার প্রশ্নই উঠে না। অনেক তদবির করে কমিটি টিকিয়ে না রাখতে পেরে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৫ এএম says : 0
আওয়ামী লীগ গর্জে ওঠো, দুর্নীতি মুছে ফেলো, দেশ গড়তে অনেক সময় তো পাওয়া গেছে, এখনো না হলে আর কবে হবে!
Total Reply(0)
Mizanur Rahman ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৫ এএম says : 0
শুধু বাদ দিলে হবে না। শোভন আর রাব্বানী যত অবৈধ অর্থ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছ তার যথাযত বিচার করতে হবে। কারণ তাহলে পরবর্তীতে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নেতা/নেত্রী হবে তাদের মধ্যে দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা থাকবে। দুদুকের উচিত দ্রুত শোভন & রাব্বানীর অবৈধ টাকা পয়সা ধন সম্পদের অনুসন্ধা করা।
Total Reply(0)
miraj hossain ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৮ এএম says : 0
এদের দলিয় পদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি প্রচলিত আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে পরবর্তীতে যারা আসবেন তারা সাবধান হবে।
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৮ এএম says : 0
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো সততার সাথে দিনরাত পরিশ্রম করেন। তাহলে এই চরম অসৎ ও দুর্বৃত্তদের আপনি প্রশ্রয় দেন কেন?
Total Reply(0)
মহররম আলী ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও পড়াশুনায় আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের জন্য, দুর্বৃত্তদের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ, অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দিন। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এটা নেই।
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
লাগামহীন আশকারা/ স্বেচ্ছাচারিতা এদের এই পর্যায় এনেছে।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
চাঁদাবাজির জন্য তাদের শুধু বহিস্কার করলে হবে না, মামলা করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন