ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

লাইফস্টাইল

অফিস পলিটিক্স থেকে কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

মো. ইকরাম | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:১৯ পিএম

অফিস বা কর্মক্ষেত্রে কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে পলিটিক্সের কথা সম্পর্কে সবাই কম বেশি জানি। দৃশ্যত, মনে হতে পারে এ অফিস পলিটিক্সের কারনে অনেকে চাকুরিতে সুবিধাজনক পযায়ে পৌছে যায়। আবার অনেকে অন্যের পলিটিক্সের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ পলিটিক্সের কারনে অনেকের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানেরও এতে ক্ষতির পরিমান কম নয়।

তাই অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে দূরে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এর থেকে দুরে থাকা এত সহজ না। তাই ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত আপনাকে এর সাথে নিজেকে জড়াতে হচ্ছে।

অফিস পলিটিক্সে জড়ালেও সেটি যেন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যায় সেই প্রচেষ্টা করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগীতার পরিবেশ তৈরি করে এর সুফল লাভ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ চাকুরির নিশ্চয়তার জন্য প্রস্তুতির গাইডলাইন

অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে সুরক্ষার উপায়:

  • কারও সাথে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব ও সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। ছোট একটা মনোমালিণ্য হয়তো আপনার কর্ম পরিবেশে স্থায়ী শত্রু তৈরি করে দিবে, যে আপনার অগোচরেই হয়ত ভুল ধরার কাজে সব সময় নিয়োজিত হয়ে যাবে।
  • আপনার কলিগের কাজে নাক না গলিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিন। সে ফাকি দিচ্ছে, সেটার তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুঝবে। আপনার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করাতো দুরের কথা, সেটা নিয়ে ভাবারও দরকার নাই।
  • কারও কারও অভ্যাস থাকে অন্যের কাজের ভুল খোজা। সেই খুজে পাওয়া ভুল ধরে সেই ব্যক্তিকে বলে হিরো হতে চায় কিংবা অন্য কলিগদের সাথে আড্ডাতে ভুল নিয়ে আলোচনা করে নিজেকে বড় প্রমান করতে চায়। কিন্তু এ দুটি কাজই পলিটিক্স করার জন্য একটা নতুন শত্রু গ্রপ তৈরি করে দেয়।
  • নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, এবং নিজের কাজে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিজেকে অফিস পলিটিক্স থেকে মুক্ত রাখতে পারেন। কাজ দিয়েই নিজেকে প্রমান করে অফিসের বড় কর্তাদের কাছে যোগ্যতার তালিকাতে ঢুকতে হয়।
  • অন্যের খারাপ দেখে কিংবা বড় কর্তাদের কোন সিদ্ধান্তে কিংবা কাজে অপ্রয়োজনীয় কোন প্রতিক্রিয়া দেখালেই বিপদ। আপনার চোখে কাজটি ভুল হলেও প্রতিক্রিয়া দেখাতে যতটা সম্ভব নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করুন। কিংবা যদি বলাটা জরুরী মনে করেন, তাহলে কর্পোরেট কার্লচার মেনেই ভদ্রতার সাথে বিষয়টি নজরে আনতে পারেন, কিন্তু তর্ক করা যাবেনা।
  • অফিসে অন্যের ব্যক্তিগত কোন সমস্যাতে নিজেকে যুক্ত করবেন না, এমনকি মতামতও দিবেন না। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না। তাতেই পলিটিক্স অনেকটুকু অ্যাড়াতে পারবেন।
  • অনেকেরই বদ অভ্যাস রয়েছে, অফিসের অন্যের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর। নিজের মধ্যে এ গুণ থাকলে সেটি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। এ ধরনের বদ অভ্যাস যাদের রয়েছে তাদের সংগ যতটা সম্ভব অ্যাড়িয়ে চলার চেস্টা করুন।
  • বাসার পরিবেশের মতও অফিসেও নিজের মেজাজ দেখালে আপনার বিরুদ্ধে পলিটিক্স গ্রপ তৈরি হয়ে যাবে। তাই সব সময় নিজের মেজাজকে নিয়ন্ত্রনে রাখবেন। বস কিংবা কলিগ কিংবা অধীনস্থ কর্মচারী কারও বিরুদ্ধেই মেজাজ গরম আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • যে অফিসে চাকুরি করছেন, সেই জায়গাতে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে নিজের সর্বোচ্চ মনোযোগ দিন ও একাগ্রতা দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার লক্ষ্য পূরনে সফল হলে অফিসে ভাল একটি পজিশন অর্জন করতে পারবেন।
  • নিজের কাজকে, কাজের পরিবেশকে উপভোগ করুন। নিজের সব কলিগদেরকে ভালবাসুন। কাজকে ভালবাসলেই কাজে মনোযোগী হতে পারবেন, কাজে ডেডিকেশন বাড়বে। সব অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই কাজে ডেডিকেটেড কর্মকর্তাকে সবচাইতে বেশি ভালবাসে।

অনেকেই অফিসে নিজের অবস্থান ভাল করার জন্য সচেতনভাবে অন্যের বিরুদ্ধে পলিটিক্স করে। সচেতনভাবে হোক কিংবা অসেচতনভাবেই হোক কারও বিরুদ্ধেই পলিটিক্স করা যাবেনা, কারণ মাথাতে রাখতে হবে নোংরা পলিটিক্স করে বড় হওয়া যাবেনা। নিজের পলিটিক্সের জালে নিজেকেই জড়াতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন