ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী জীবন

কবি ফররুখ ও তার ইসলামী গান

ইসমাইল মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪৮ এএম

ইসলামী পূর্ণজাগরণের কবি ফররুখ আহমদের বহুমাত্রিকতা সর্বত্র সুবিদিত। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ইসলামী কবিতা, ইসলামী গান, কাব্য-নাটক, ছড়া, কিশোর-কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তবে অজ্ঞাত কারনে তাঁর ইসলামী রচনাবলীর অনেকটাই এখনো গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়নি। এ কারণে তাঁর কালজয়ী অনেক ইসলামী গানসহ নানা রচনাবলী আমাদের জানা সম্ভব হয়নি।

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় কবি ফররুখ আহমদের একমাত্র গানের বই ‘মাহফিল’। বইটি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ১৯৮৮ সালে প্রকাশের পর বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
বর্তমানে সারাবিশে ইসলামের প্রতি সাধারণ মানুষের ঝোঁক, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইসলামী গানের প্রতি আগ্রহও। সমসাময়িককালে গানের জগতে ইসলামী গান একটি পৃথক মর্যাদায় অধিষ্টিত।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর ইসলামি সংগীতে আমাদের অর্জন উল্লেখযোগ্য নয়। এরপর যিনি ইসলামী সংগীত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি হচ্ছেন কবি ফররুখ আহমদ। তাঁর রচিত গান ইসলামী গান আমাদের ধর্মীয় ধারাকে সমৃদ্ধ করতে অবদান রেখেছে। তবে তাঁর রচিত অনেত গান অধ্যাবদি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। কবির অনেক গান বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী এবং টেলিভিশন ও বেতারের প্রযোজকদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এসব গান নিয়ে কোন গ্রন্থ প্রকাশিত হলে এ ধারাটি আরো ব্যাপক সমৃদ্ধি লাভ করবে। যে সকল কণ্ঠশিল্পী কবির গানে সুরারোপ করেছেন ও কণ্ঠ দিয়েছেন, এরা অনেকেই এখন আর জীবিত নেই। যারা জীবিত রয়েছেন তাঁরা সকলেই বয়সের ভারে ন্যুজ। তাই এখনই তাঁদের সংগ্রহে থাকা কবি ফররুখ আহমদের রচিত ইসলামী গানগুলো সংগ্রহহের উদ্যোগ নেয়া এবং মুদ্রণ আবশ্যক। নতুবা এক সময় এসব গান চিরতওে হারিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত কবি ফররুখ আহমদের একমাত্র ইসলামী গানের বই ‘মাহফিল’ গ্রন্থটি মোট দুটি খন্ডে। এর প্রথম খন্ডে রয়েছে পাঁচটি অধ্যায়। অধ্যায়গুলো হলো-হামদ, নাত, নামাজ, জুমা ও মুহার্রাম। ‘হামদ’ অধ্যায়ে ৩১টি হামদ, ‘নাত’ অধ্যায়ে ১২টি নাত, ‘নামাজ’ অধ্যায়ে ৫টি, ‘জুমা’ অধ্যায়ে ৪টি এবং ‘মুহার্রাম’ অধ্যায়ে ৬টি গজল রয়েছে। গ্রন্থটির দ্বিতীয় খন্ডের প্রথম অংশে মোট ৩৩টি ইসলামী গান (রবিউল আউয়াল, ঈদে মিলাদুন্নবী বিষয়ক গজলসহ) এবং দ্বিতীয় অংশে মোট ৩৫টি দোয়া ও মুনাজাত স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটির প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড মিলিয়ে মোট ১২৬টি গান রয়েছে। এসব গানে কবি ফররুখ আহমদের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং রাসুল (সা.) প্রতি অনুরাগ ও বিশ^াস প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ‘মাহফিল’ গ্রন্থে মুদ্রিত প্রথম ‘হামদ’টি হলো সূরা ফাতেহার বঙ্গানুবাদ। এটি হলে-
‘সকল তারিফ তোমারি আল্লাহ-রাব্বুল আ’লামীন
তুমি রহমান, রহীম তোমার রহমত শেষহীন॥
কুল আলমের পালক হে প্রভু-তুমি দাতা, দয়াময়
রোজ কিয়ামতে বিচার দিনের মালিক অসংশয়,
তব অধিকারে হাশরের মাঠ, শেষ বিচারের দিন॥
করি বন্দেগী তোমারি হে রব, করি তব ইবাদত,
তোমারি সমীপে চাহি মোরা শুধু মদদ ও হিম্মৎ,
পাঠাও মদদ মোদের জীবনে হে প্রভু রজনী দিন॥
চালাও মোদেরে তাদের সুপথে নেয়ামত পেল যারা,
চির সত্যের সুদৃঢ় পথে সফল হয়েছে তারা,
তোমার রাসূল, নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালেহীন॥
চালায়ো না তুমি মোদেরে হে প্রভু তাহাদের ভুল পথে,
ঞ্ঝান্তিতে লীন যারা পেল শুধু ব্যর্থতা কিস্মতে,
যাদের উপরে আছে অভিশাপ রাত্রি ছায়া মলিন॥’
[হামদ : এক ॥ পৃ. ৯]
কবি ফররুখ আহমদেও আরেকটি ইসলামী গান অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সে গানটি হলো-
‘ওগো নূরনবী হযরত
আমরা তোমারি উম্মত
তুমি দয়াল নবী, তুমি নূরের রবি,
তুমি বাসলে ভাল জগত জনে
দেখিয়ে দিলে পথ।
আমরা তোমার পথে চলি
আমরা তোমার কথা বলি
তোমার আলোয় পাই যে খুঁজে
ঈমান, ইজ্জত।
সারা জাহানবাসী
আমরা তোমায় ভালবাসি,
তোমায় ভালবেসে মনে
পাই মোরা হিম্মত।

আল কোরআনের কাব্যানুবাদ
মুহিবুর রহমান খান
সূরা আ’রাফ
মক্কায় অবতীর্ণ : আয়াত ২০৬ রুকু : ২৪
আশ্রয় চাহি আল্লাহর, যেন শয়তান দূরে রয়,
(শুরু করিলাম) আল্লাহর নামে পরম করুণাময়
১৪৩। বরং (হে মূসা) তাকাও পাহাড় পানে,
আমাকে দেখিবে তুমি, যদি উহা স্থির থাকে স্বস্থানে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন