ঢাকা, শুক্রবার , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী জীবন

অপ্রদর্শিত আয় এবং সম্পদ প্রসঙ্গে

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

 ॥ ছয় ॥

জুয়া খেলা শব্দ দ্বারা জুয়া বা বাজী ধরা বুঝাইবে (কেবল ঘোড়া দৌড়েঁর উপর বাজী ধরা ছাড়া) যখন উক্ত জুয়া বাজী অনুষ্ঠিত হয়-
ক. অনুরূপ ঘোড়া দৌড়েঁর দিনে, খ. এমন স্থানে যা সরকারি অনুমোদন লইয়া স্টুয়ার্ডরা ঘোড়া দৌড়েঁর জন্য পৃথক করিয়া রাখিয়াছে এবং গ. কটি লাইসেন্স যুক্ত বুক মেকারসহ; অথবা ১৯২২ সালের বঙ্গীয় প্রমোদ কর আইনের ১৪ ধারার সংজ্ঞানুসারে টোটোলাইজেটরের দ্বারা কিন্তু লটারী উহার অন্তর্ভূক্ত নহে; খেলার কাজে ব্যবহৃত যে কোন হাতিয়ার বা সামগ্রী ‘‘ক্রীড়া সামগ্রী’’ শব্দের অন্তর্গত, এবং ‘‘সাধারণ ক্রীড়া ভবন’’ অর্থ যে কোন ঘর, কক্ষ, তাঁবু বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থান বা প্রাঙ্গণ বা গাড়ি অথবা যে কোন স্থানে যেখানে মালিকের রক্ষকের বা ব্যবহারকারীর মুনাফা বা উপার্জনের জন্য যে কোন ক্রীড়াসামগ্রী বা অন্য কিছু ভাড়া বা অর্থের বিনিময়ে রাখা বা ব্যবহৃত হয়।
এই আইনের এখতিয়ারভুক্তি এলাকায় যে কোন ব্যক্তি যে কোন ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী ব্যবহারকারী হিসেবে অনুরূপ স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত করিতে দিলে; এবং উপরোক্ত ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ, বা প্রাচীর বেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণেকারী বা ব্যবহারকারী হিসেবে যে কোন ব্যক্তির জ্ঞাতসারে বা স্বেচ্ছায় অন্য লোককে, উক্ত স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত করিতে দিলে; এবং যে কেহ উপরে বর্ণিত স্থানকে উক্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কাজে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করিলে অথবা যে কোন ভাবে সাহায্য-সহায়তা করিলে; এবং অনুরূপ গৃহের, তাঁবুতে, কক্ষে, প্রাঙ্গণে বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানে যে কেহ জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান বা নিয়োজিত করিলে অভিযুক্ত হইয়া যে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট বিচারে সোপর্দ হইবে এবং অনূর্ধ্ব দুইশত টাকা পর্যন্ত জরিমানায় এবং পেনাল কোডের সংজ্ঞানুসারে অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত কারাদ-ে অথবা উভয় দ-ে দ-নীয় হইবে।
চাদাবাঁজি করে সম্পদ উপার্জন করা ও এক ধরণের জুলুম এবং ইসলামী শরীয়তে এ জাতীয় উপার্জনকে কটোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বলা হয়েছে: “কেবল তাদের বিরুেেদ্ব ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে যারা মানুষের ওপর জুলুম করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়কআযাব রয়েছে।” যারা জোর করে চাঁদা আদায় করে তারা নিজেরাও জুলুমবাজ এবং তারা জুলুমবাদের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারীও। চাঁদাবাজরা যে চাঁদা আদায় করে, তা যেমন তাদের প্রাপ্য নয়, তেমনি যে পথে তা ব্যয় করে তাও বৈধ নয়। জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কারী আল্লাহর বান্দাদের ওপর জুলুম ও শোষণ চালায়। তাদের কষ্টার্জিত অর্থ কেড়ে নেয়। এ ধরনের লোকেরা কিয়ামতের দিন মজলুমদের প্রাপ্য দিতে পারবে না। যদি তাদের কবুলকৃত কোন সৎকর্ম থাকে, তবে তাই দিতে হবে। অন্যথায় মজলুমদের পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে। রসূল স. বলেছেন, ‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র হলো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন প্রচুর নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত নিয়ে আসবে। কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়ে আসবে, প্রহার করে আসবে অথবা কারো সম্পদ আত্মসাৎ করে আসবে। এরপর এই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের একে একে তার পুণ্যকর্ম দিয়ে দেয়া হবে। যখন পুণ্যকর্ম ফুরিয়ে যাবে, তখন মজলুমদের পাপ কাজ তার ঘাড়ে চাপিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এ জন্য রসূল স. বলেছেন: ‘‘অবৈধ চাঁদা আদায়কারী জান্নাতে যাবে না।’’
এ থেকে বুঝা যায়, এটি কত বড় গুনাহের কাজ। জোরপূর্বক অর্থ আদায় করার কাজটি ডাকাতি ও রাহাজানির নামান্তর। জোরপূর্বক চাঁদা যে আদায় করে, সে তার সহযোগিতা করে, যে লেখে, যে সাক্ষী থাকে, তারা সবাই এ পাপের সমান অংশীদার। তারা সবাই আত্মসাৎকারী ও হারামখোর। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, জাবির রা. রসূল স. কে বললেন: ‘‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মাদক ব্যবসায় ছিল। সেই ব্যবসায় থেকে আমার বেশ কিছু সঞ্চিত নগদ অর্থ আছে। আমি যদি তা দিয়ে আল্লাহর কোন ইবাদত বা সাওয়াবের কাজ করি, তবে তাতে কি আমার উপকার হবে? রসূল স. বললে: তুমি যদি সেই অর্থ হজ্জ্ব, জিহাদ, অথবা সাদকায় ব্যবহার করো, তবে তা আল্লাহর কাছে একটা মাছির ডানার সমানও মূল্য পাবে না। আল্লাহ পাক পবিত্র সম্পদ ছাড়া কোন কিছু গ্রহণ করেন না।’’
প্রচলিত ও ইসলামী আইনে চুরি একটি জঘণ্য অপরাধ। যার শাস্তিও ভয়াবহ। চুরির মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ ভোগ করা হারাম ও দন্ডনীয় অপরাধ। চুরি শব্দের অর্থ-অপহরণ, চৌর্য, পরের দ্রব্য না বলে গ্রহণ, গোপনে আত্মসাৎকরণ ও অন্যের অলক্ষ্যে চুরি করা, সম্পদ কুক্ষীগত করা ইত্যাদি। চুরির আরবী প্রতিশব্দ হলো আস-সারাকাহ। এর আভিধানিক অর্থ-অপরের সম্পদ গোপনে হস্তগত করা। গোপনীয়ভাবে অন্যের নিকট হতে সম্পদ বা অন্য কিছু নিয়ে নেয়া। কোন বালেগ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি কর্তৃক অপরের দখলভূক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ সংরক্ষিত স্থান হতে গোপনে হস্তগত করাকে চুরি বলে। আব্দুল কাদির আওদা বলেন: ‘‘চুরি হচ্ছে গোপনে অন্যের সম্পদ নেয়া অর্থাৎ গোপন পন্থায় অথবা প্রাধান্য বিস্তার করে অন্যের সম্পদ হস্তগত করা।’’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন