ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ০২ রজব ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

স্বপ্ন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

বাংলাদেশ ডিজিটাল ফেয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জয়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

সরকারের এই মেয়াদেই ফাইভজি : হুয়াওয়ের ৫-জিতে ১.৬ জিবিপিএস গতি
আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদেই দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো ফাইভ-জি শুরু করতে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের এই সরকারের শেষ সময়ে আমরা ফাইভ-জি চালু করব। আমরা আমাদের গত আমলে ফোর-জি শুরু করেছিলাম, তার আগে থ্রি-জি। ফাইভ-জি চালু করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রযুক্তি বিশ্বে এখন ফাইভ-জি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা এখন ধরে নিয়েছি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা ফাইভ-জিতে উন্নীত হব। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। আমরাও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করব। ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের’ কথা মাথায় রেখে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের ‘জ্ঞানভিত্তিক’ পণ্য ও সেবা বাড়ানোর পরামর্শ দেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে আমরা দেখছি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে আমরা প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করছি। তবে অধিকাংশ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা-ই যেহেতু ইন্টারনেটভিত্তিক, তাই রপ্তানির মাত্রা বের করা অসম্ভব। তবে আমরা আশা করব, আনঅফিসিয়ালি আরও এক বিলিয়ন বা আরও দুই বিলিয়ন ডলারও রপ্তানি হয়েছে। দেশে থ্রিজি ও ফোর-জি অ্যানাবল স্মার্টফোন না থাকার কারণে ডেটা ব্যবহারের সমস্যা থাকার কথা তুলে ধরেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করলাম। ভাবতে শুরু করলাম কীভাবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আমরা এই বিষয়টাকে চাপিয়ে দিতে পারতাম না। আমরা ঠিক করলাম, আমরা দেশেই মোবাইল উৎপাদন করে তা কম দামে মানুষের মাঝে দেব, যাতে বাংলাদেশের সব মানুষ মোবাইল ফোন কিনতে পারে। এক সময় আমরা ৩০ মিলিয়ন মোবাইল প্রতি বছর আমদানি করতাম, সেখানে আজকে ২০ মিলিয়ন মোবাইল ফোন বাংলাদেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এখন বাংলাদেশে তাদের মোবাইল ফোন সংযোজন করছে।

তিনি বলেন, ফোর-জি চালু করার জন্য আমাদের সে মানের স্মার্টফোন দরকার ছিল। তবে বিদেশে থেকে আনা স্মার্টফোনগুলো ছিল বেশ দামি। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে গিয়ে স্মার্টফোন উৎপাদনের সব বাধা দূর করেছি। আজকে শুধু বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরণের জন্যই আমরা স্মার্টফোন উৎপাদন করছি না। আমরা দেশের বাইরেও স্মার্টফোন রপ্তানি করছি, এমনকি বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ আমেরিকাতেও।

জয় বলেন, ডেটা কানেক্টিভিটির দিক থেকেও আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। ১১ বছর আগে এ দেশে ইন্টারনেটের দাম বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই কারণে আমাদের তেমন কোনো প্রযুক্তি খাত ছিল না বলার মতো। আমাদের আওয়ামী লীগ এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ১১ বছর আগে আমাদের এখানে টু জি কানেক্টিভিটি পাওয়াই যেত না, অধিকাংশ পেতাম ওয়ান জি। আমরা বিশ্বের অন্য সব দেশ থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলাম। আমরা ক্ষমতায় আসার পর প্রাইভেট সেক্টরগুলোর সঙ্গে বসলাম। নানা ইনসেনটিভ দিয়ে থ্রি জি স্পেকট্রাম অকশন দিলাম। তারপর পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা ফোর-জিতে উন্নীত হলাম। তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর ‘ইনফো সরকার-থ্রি’ প্রকল্পের আওতায় এখন দেশের সবগুলো ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক সংযোগ পৌঁছে দিতে কাজ করছে। জয় জানান, দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়নে এখন ফাইবার অপটিক সংযোগ পৌঁছে গেছে। ইন্টারনেট সংযোগ ছিল জটিল একটি ইস্যু। প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, আমরা ফাইবার অপটিক কেবল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করলাম। এখন আমাদের লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সবগুলো গ্রামে অপটিকাল ফাইবার কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়া। পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তিসহ (ফাইভ-জি) দেশের ডিজিটাল উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা আয়োজন করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

উদ্বোধনী পর্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকার জন্য ১৪টি শাখায় সম্মাননা দেওয়া হয়। মেলার তিন দিনে বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি আলোচনা সভা হবে, যেখানে সরকারের মন্ত্রী ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রযুক্তির মহাসড়ক’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, ডাক মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর উর রহমান, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং ঝেং জুন উপস্থিত ছিলেন।
হুয়াওয়ের ৫-জি’তে ১.৬ জিবিপিএস গতি: বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো ৫জি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেলো। গতকাল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা এই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে মেলার টাইটেনিয়াম সহযোগী ‘হুয়াওয়ে’। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশে ৫-জি সেবা পরীক্ষায় মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলো হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। তখন ৮০০ মেগাহর্স স্পেকট্রাম ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৪ জিবি পর্যন্ত ইন্টারনেট গতি পাওয়া গিয়েছিলো। সেখানে এখন মাত্র ১০০ মেগাহর্স স্পেকট্রাম (গতবারের ৮ ভাগের এক ভাগ) ব্যবহার করেই প্রতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ৪ জিবি থেকে ১ দশমিক ৭ জিবি পর্যন্ত গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হবে। দর্শনার্থীরা মেলার উদ্বোধনী দিনেই সেকেন্ডে ১ দশমিক ৬ জিবি গতিতে ডেটা ট্রান্সফারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ৫জি’র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণায় গত ১০ বছর কাজ করছে হুয়াওয়ে আর এর মধ্যেই এজন্য ব্যয় করেছে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং ঝেংজুন বলেন, প্রযুক্তিগত সুবিধাকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত ২১ বছর ধরে এদেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি, টেলিকম অপারেটর ও স্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে। এখন ৫-জি চালু হয়েছে এবং হুয়াওয়েও প্রস্তুত। ৫জি’র গবেষণা ও উন্নয়নে আমরা এক দশক ধরে কাজ করছি, যেখানে গত ১০ বছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৫জি গবেষণা ও উন্নয়নে আমরাই শীর্ষস্থানীয় এবং ২১ হাজারেরও বেশি থ্রিজিপিপি ৫জি এনআর সমেত ৫-জি পেটেন্টও আমাদের সবচেয়ে বেশি। মেলায় আগত একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিলন বলেন, এই মেলার আয়োজন একটি দারুন উদ্যোগ। আরও নতুন প্রযুক্তি আসলে আমাদের জীবনে কি প্রভাব পড়বে, কতটা সহজ হবে আমাদের জীবন , তার একটা ধারণা পেলাম এখানে। হুয়াওয়ে প্যাভিলিওনে আমি ৫জি উপভোগ করলাম। বুঝতে পারলাম, ভবিষ্যতে কতটা দ্রæত হবে আমাদের কাজ। আমরা সারাদেশে ৫ জি’র অপেক্ষায় থাকলাম।“

তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলাকালে আগত দর্শনার্থীগণ হুয়াওয়ের প্যাভিলিয়নে সরাসরি ৫জি স্পিড ও লো- ল্যাটেন্সি অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। এছাড়াও আকর্ষণ হিসেবে থাকছে, বিশেষ একটি রোবট, যাকে হাতের ইশারায় পরিচালনা করে ফুটবল খেলা যাবে। ৫জি প্রযুক্তিতে কত দ্রæত হিউম্যান টু মেশিন কিংবা মেশিন টু মেশিন কমিউনিকেশন সম্ভব তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন। পাশাপাশি আরও একটি প্লে-জোন থাকছে যেখানে সবাই ৫জি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ভি-আর উপভোগ করতে পারবেন। ৫-জি ভি-আর পরার সাথে সাথেই অংশগ্রহণকারী নিজেকে খুঁজে পাবেন স্কিইরত অবস্থায়। উন্নত প্রযুক্তি এবং অডিও কিংবা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সরাসরি অভিজ্ঞতা দিতেই হুয়াওয়ের এই আয়োজন। থাকছে হুয়াওয়ের ৫জি স্মার্টফোনের অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ। দর্শনার্থীরা চাইলে কিনতে পাবেন বাজারে বর্তমান হুয়াওয়ের ফোনগুলোও।

মেলায় ডিজিটাল প্রযুক্তির মহাসড়ক বিনির্মাণে অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং পরিবর্তিত বিশ্বে নতুন সভ্যতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, রোবটিক্স, বিগ ডেটা, বøকচেইন ও ফাইভ-জির বিস্ময়কর প্রভাব প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ট্রিপল প্লে (এক কেবলে ফোন লাইন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন সংযোগ), মোবাইল অ্যাপ, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ও নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে এ মেলায়। জেডটিই, হুয়াওয়ে, নকিয়া ও এরিকসন ফাইভ-জি প্রযুক্তির প্রদর্শন করছে মেলায়। ইন্টারনেট সেবাদাতাসহ (আইএসপি) ৮২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে।এতে ২৫টি স্টল, ২৯টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৮টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন