সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

ইসলামী বিশ্ব

ইরাকে হামলার প্রয়োজন ছিল না, ফেঁসে যাচ্ছেন টনি ব্লেয়ার

চিলকট প্রতিবেদন

প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

দীর্ঘ বিলম্বে হলেও অবশেষে প্রকাশিত ইরাক যুদ্ধ-সংক্রান্ত চিলকট রিপোর্ট বিশ্বময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে উত্থাপিত হচ্ছে এই যুদ্ধের কার্যকারণ এবং উদ্দেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন। ইতিহাসের জঘন্যতম অন্যায় ও আগ্রাসীমূলক এই যুদ্ধ ইরাকসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়, তার রেশ
বর্তমানে গোটা বিশ্বকে গ্রাস করেছে। আজকে যে আইএস সংকটকে দুনিয়াব্যাপী এক মহসংকট হিসাবে দেখা
হচ্ছে তাও ইঙ্গ-মার্কিন অপশক্তির সেই আগ্রাসী যুদ্ধেরই ফল। চিলকট রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে জনরোষ ধুমায়িত হচ্ছে। লেবার পার্টি থেকে তার বহিষ্কার
দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযানও শুরু হয়েছে। এমনকি ওই অন্যায় ও আগ্রাসী যুদ্ধের মূল হোতা বুশ-ব্লেয়ারের
বিচারের দাবিও ক্রমশ সোচ্চার হয়ে উঠছে। ২৬ লাখ শব্দের ওই প্রতিবেদনে ইরাক যুদ্ধ-সংক্রান্ত তদন্ত
কমিশনের প্রধান জন চিলকট ব্রিটেনের ইরাক যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়াকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে
বিতর্কিত সেনা সম্পৃক্ততা বলে মন্তব্য করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের সারাংশ হিসেবে তিনি
বলেন, ইরাক যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি ভুল ছিল, যার ফল
বিশ্ববাসীকে আজো ভোগ করতে হচ্ছে।
ইনকিলাব ডেস্ক : ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে মিলে যুক্তরাজ্য ইরাকে যে হামলা চালিয়েছে তা কোনো যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে ছিল না। গত বুধবার ইরাক হামলায় যুক্তরাজ্যের যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনের পর মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরাকে হামলা চালানোর দায়ে সে সময়কার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্লেয়ারের বিচারের দাবিতে পার্লামেন্টেও প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। চিলকট রিপোর্টে বলা হয়, অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে এবং বিস্তারিত পরিস্থিতি অনুধাবন ছাড়াই ইরাকে হামলা চালানোর ঘটনা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করেছে। সেই সঙ্গে ইরাকসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতে কোনো দেশে হামলা কিংবা বড় ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হতে গেলে এই প্রতিবেদনের প্রাপ্তিগুলো বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকে হামলায় যুক্তরাজ্যের যৌক্তিকতা অনুসন্ধান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সরকারের ভূমিকা তদন্তে স্যার জন চিলকটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে গঠিত ওই কমিটি দীর্ঘ সাত বছর পর তাদের ঐতিহাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্যার জন চিলকটের নাম অনুসারেই এ প্রতিবেদনকে ‘চিলকট রিপোর্ট’ বলা হচ্ছে। স্যার জন চিলকট রিপোর্ট প্রকাশের সময়ে বলেন, বিচার কিংবা রায় দেয়ার দায়িত্ব তাদের নয়। তারা কেবল ইরাক যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে কাজ করেছেন। তবে যেখানে প্রত্যাশিত মানদ- লঙ্ঘিত হয়েছে সেখানে কাক্সিক্ষত সমালোচনা করেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, সাদ্দাম ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছেন এবং সাদ্দাম হোসেন বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ইরাকে হামলার উদ্যোগ নেয় বুশ সরকার। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও একই দোহাই দিয়ে ইরাকে হামলা চালাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন নেন। শুরু থেকেই এই হামলার বিরোধিতায় ফুঁসে ওঠে যুক্তরাজ্যের মানুষ। যার পরিণতিতে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নিতে হয় ব্লেয়ারকে। ইরাক যুদ্ধে ১৭৯ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয়। সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড। এই যুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ ইরাকি নিহত হয় এবং ১০ লাখের বেশি ইরাকি বাস্তুহারা হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেনকে নিরস্ত্র করতে কিংবা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার শান্তিপূর্ণ উপায়গুলো পাশ কাটিয়ে ইরাকে হামলা চালানো হয়েছে। ওই সময়ে ইরাকে হামলা করা ‘শেষ অবলম্বন’ বা ‘অনিবার্য’ ছিল না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যই চেয়েছিল হামলা না চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখতে। ইরাকের কাছে থাকা সমরাস্ত্র বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি-এমন বিবেচনা ছিল ভিত্তিহীন। সাদ্দাম হোসেন রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত অব্যাহত রেখেছে বলে যে গোয়েন্দা তথ্য দেয়া হয়েছিল সেটা সন্দেহাতীত কি-না তা নিশ্চিত করা হয়নি। ইরাক যুদ্ধের পুরো পরিকল্পনাই একটি গলদপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সব তথ্যের পুনঃযাচাই বা চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। ব্রিটিশ সৈন্যদের ইরাকে হামলায় অংশ নেয়ার বৈধতা কোনোভাবেই সন্তোষজনক ছিল না। ব্রিটিশ সৈন্যদের ইরাকে হামলার প্রস্তুতি নিতে পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়নি। এই হামলার ঝুঁকিও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদকে জানানো হয়নি। যার ফলে একপর্যায়ে সামরিক রসদের ঘাটতিতে পরে ব্রিটিশ বাহিনী। বিস্তারিতভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও এই হামলার পরিণতিকে খাটো করে দেখা হয়েছে এবং প্রস্তুতিও ছিল অপর্যাপ্ত। সরকার এই হামলার যে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল তা অর্জন করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করতে নিজের সামর্থ্যরে অতিরঞ্জন করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কে কোনো শর্তহীন সমর্থনের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে কোনো দেশে হস্তক্ষেপ কিংবা হামলার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতে করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি হামলার চ্যালেঞ্জ ও পরিণতি নিয়ে কঠোর বিশ্লেষণ হতে হবে। এসবের ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্তের পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। মিরর, দি গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, বিবিসি। (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
MD.DELWAR HOSSAIN ১০ জুলাই, ২০১৬, ১:১৮ পিএম says : 0
Bush- Blair- ......................................
Total Reply(0)
Md Masud ১০ জুলাই, ২০১৬, ২:৩০ পিএম says : 0
বেআইনি ভাবে ইরাক যুদ্ধ বাধিয়ে,আই এস সৃষ্টি করে সাড়াটা পৃথিবীটাকে আজ অস্তির করার অপরাধে উনাকে প্রধান আসামি করে বিচারের কাটগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ।
Total Reply(0)
Anwar Hossain ১০ জুলাই, ২০১৬, ২:৩৪ পিএম says : 0
এত দিনে হুশ হল?
Total Reply(0)
Ronnie Rahman ১০ জুলাই, ২০১৬, ৩:১০ পিএম says : 0
Bush and Blair should face trial in an International Court.
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন