ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

যুক্তরাজ্য লকডাউনে থাকতে পারে ৩ থেকে ৬ মাস

২০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী কাজে ফিরলেন, আক্রান্ত : ৭,৬৪,৮৬৬ মৃত : ৩৬,৮৬৫ সুস্থ : ১,৬০,১৪৮

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩১ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১২ এএম, ৩১ মার্চ, ২০২০

বিশ্বের সব জাতি যখন করোনাভাইরাসে মহামারীর ক্ষত সারাতে লকডাউনে, তখন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পূর্বাভাস থাকায় দেশটিতে চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা তথা লকডাউন ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে গতকাল বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরে প্রায় তিন হাজার আদম সন্তান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। গতকাল শুধুমাত্র ইতালিতেই মারা গেছে ৮১২ জন। এছাড়া স্পেনে ৫৩৭, ফ্রান্সে ৪১৮, যুক্তরাষ্ট্রে ২৩৪, ব্রিটেনে ১৮০, ইরানে ১১৭, হল্যান্ডে ৯৩, বেলজিয়ামে ৮২, সুইজারল্যান্ডে ৪৮, সুইডেনে ৩৬, তুরস্কে ৩৭, অস্ট্রিয়ায় ২২ এবং পর্তুগালে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে আরো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৯২ জনে। তবে আরো বেশ কিছু মানুষ হাসপাতালের বিছানা থেকে ছাড়া পেয়ে পরিবারে ফিরেছেন। ফলে মোট সুস্থতাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৮ জনে।
ইংল্যান্ডের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার জেনি হ্যারিস বলেছেন, বর্তমান পদক্ষেপগুলো জনগণের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কার্যকর বলে মনে হচ্ছে। ফল পেতে সময় লাগবে এবং সরকার আগামী সপ্তাহগুলোতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে।
তিনি বলেন ‘আমরা এ থেকে উত্তীর্ণ হতে পারছি কি না তা দেখতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে। আমাদের চারপাশে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে আমরা আসলে কোন পয়েন্টে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব’।
তিনি আরও যোগ করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে, ছয় মাসের জন্য দেশটি পুরো লকডাউনে থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রয়োজন দেখা দেয়া সাপেক্ষে এই লকডাউনের সময় বাড়ানো যেতে পারে।
কেবল তিনিই নন, যিনি বর্ধিত লকডাউনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন। হ্যারিসের প্রতিধ্বনি করে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক নীল ফার্গুসন বলেছেন, করোনভাইরাসটির খারাপ প্রভাব এড়াতে চাইলে লকডাউনটি জুন অবধি চলবে। তবে তিনি এও বলেছেন যে, আগাম পূর্বাভাসে বোঝা যাচ্ছে যে, লকডাউনের প্রভাবে শিগগিরই এর প্রভাব কমে আসবে।
অধ্যাপক ফার্গুসন বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন: ‘যুক্তরাজ্যে আমরা কিছু সূচককে ধীরগতির কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এরকম কম। কারণ পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মৃত্যু দীর্ঘ পিছিয়ে রয়েছে। ‘তবে আমরা উদাহরণস্বরূপ যদি প্রতিদিন নতুন নতুন হাসপাতালের ভর্তির সংখ্যার দিকে নজর রাখি তবে এটি এখন কিছুটা কমছে বলে মনে হচ্ছে। এখনও প্রতিদিন সংখ্যাটি বাড়তে পারে, তবে সেই বৃদ্ধির হার কমছে’।
২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী অবসর থেকে লড়াইয়ে ফিরলেন
এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা করেছেন যে, অবসরে যাওয়া ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অবদান রাখার প্রত্যয়ে পুনরায় কাজে ফিরেছেন। ‘সমাজের মতো কিছুই নেই’ বলে মার্গারেট থ্যাচারের বিখ্যাত দাবির বিরোধিতা করে তার ফ্ল্যাট থেকে আইসেলোশনে থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিডিওলিঙ্কের মাধ্যমে বলেন: ‘আমরা এটি করতে যাচ্ছি, আমরা একসাথে এটি করতে যাচ্ছি। আমি মনে করি করোনাভাইরাস সঙ্কট ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, সমাজের মতো সত্যই আছে’।
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইসোলেশনে চলে গেছেন। এছাড়াও সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৪১ জনে এবং গতকাল ১৮০ জনসহ মারা গেছেন ১ হাজার ৪০৮ জন। এদের মধ্যে ১৩৫ জন সুস্থ হয়ে ফিরলেও ১৬৩ জন রয়েছেন শঙ্কায়। সূত্র : ওয়ার্ল্ড মিটার, পিস.কম ম্যাগাজিন ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন