ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

করোনাভাইরাসের কোনও ধর্ম নেই

গোঁড়ামির নিন্দায় কেরালার মুখ্যমন্ত্রী

মাশাবেল ইন্ডিয়া | প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০১ এএম


আপনি যদি কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এর টুইটার প্রোফাইলে ব্রাউজ করেন তবে আপনি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই তিনি কী করেছেন তার একটি পরিষ্কার চিত্র পাবেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, কতজন মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে (অবশ্যই তার রাজ্যে), কতজন সুস্থ হয়েছেন, কতজন এখনও চিকিৎসাধীন এবং কতজন পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছেন। তার সরকার প্রায় ৮৭ লাখ পরিবারকে রেশন ও ট্রান্সজেন্ডারদের কিট সহায়তা দিচ্ছে। তিনি মানুষকে অনুপ্রাণিত করছেন যাতে তারা এই মহামারীটির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মানসিকভাবে ফিট থাকতে পারে এবং সর্বোপরি, বিজয়ন কোভিড-১৯ এর চারপাশে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের মতে বিজয়ন বলেছেন,
‘একটি ভাইরাসের কোনও ধর্ম নেই এবং এটি কোনও ধর্ম বা স¤প্রদায়ের ভিত্তিতে ছড়িয়ে যায় না। কিছু শক্তি পরিস্থিতি সা¤প্রদায়িক করার চেষ্টা করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জঘন্য প্রচার শুরু করেছে। কেরালার মতো রাজ্যে এ জাতীয় প্রচেষ্টা সফল হবে না। সেখানে এ জাতীয় অসহিষ্ণুতার দরকার নেই। আমরা তা সহ্য করব না। কমপক্ষে ৬০ জন লোক জামাত থেকে ফিরে এসে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আমরা বিশদ সংগ্রহ করেছি এবং সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলায় পৌঁছেছি’।
সুতরাং, যদি আপনি কোনও শিলার নীচে বাস না করে থাকেন তবে আপনি সম্ভবত বুঝতে পারবেন যে, তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তাবলীগ জামায়াতের কথা বলছিলেন। এবিপি নিউজ অনুসারে, ১৩ মার্চ মারকাজে এক ধর্মীয় সমাবেশে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ লোক একত্রিত হয়েছিল। ১৬ মার্চ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন যে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনও ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। ২০ মার্চ, তেলেঙ্গানায় জামায়াতে অংশ নেয়া ১০ জন ইন্দোনেশিয়ান পরীক্ষায় পজেটিভ হন। ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনতার কারফিউ ঘোষণা করেন এবং ২৩ মার্চ ১৫০০ জন মারকাজ খালি করে দেন। ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী লকডাউন কার্যকর হয়।
২৫ মার্চ প্রায় ১০০০ লোক মারকাজে অবস্থান করে এবং জামায়াত কর্মকর্তারা এসডিএম কার্যালয়ে গিয়ে কর্মীদের স্থানান্তর করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ২৬ মার্চ এসডিএম মারকাজে গিয়ে জামায়াত কর্মকর্তাদের ডিএমের সাথে বৈঠকের জন্য ডেকে আনে। কোভিড-১৯ সন্দেহভাজনদের ৬ জনকে মারকাজ থেকে চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপরে হরিয়ানার ঝাজ্জরে কোয়ারেন্টাইন সুবিধার জন্য প্রেরণ করা হয়। ২৮ মার্চ এসডিএম এবং ডবিøউএইচও দল মারকাজে যান এবং ৩৩ জনকে রাজীব গান্ধী ক্যান্সার হাসপাতালে মেডিকেল চেকআপের জন্য নেয়া হয়। ২৮ মার্চ লাজপাত নগরের এসিপি মার্কাজ খালি করার জন্য একটি নোটিশ পাঠান। ২৯ মার্চ এসিপি-র চিঠির প্রতিক্রিয়ায় মারকাজ কর্মকর্তারা বলেন যে, কোনও নতুন লোক ভবনে প্রবেশ করেনি, বর্তমান সমাবেশটি লকডাউনের আগেই শুরু হয়েছিল এবং তারা যেখানে ছিল সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলছিল। ২৯ মার্চ রাত থেকে পুলিশ এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মারকাজ থেকে লোকজনকে নিয়ে যাওয়া শুরু করে এবং ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৫৪৮ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়।
এসবই ঠিক আছে, কিন্তু কিছু লোক এর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানালো, তা দেখা যাক।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস অনুসারে, কেজরিওয়াল জানিয়েছেন যে, নিজামউদ্দিন মারকাজ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন,
‘দিল্লি সরকার লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে এফআইআর রেজিস্ট্রেশন করার জন্য চিঠি দিয়েছিল, আমার পুরো আশা আছে যে, তিনি শিগগিরই আদেশ দেবেন। যদি কোনও কর্মকর্তার পক্ষ থেকে অবহেলা পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভী বলেছেন যে, তাবলীগি জামায়াত একটি তালিবানি ক্রাইম।
‘এটি দলটির একটি অপরাধমূলক কাজ ছাড়া আর কিছুই নয় - তারা প্রত্যেকের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যখন সউদী আরব হজযাত্রীদের ইসলামের পবিত্রতম স্থান কা’বা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং মসজিদগুলো তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মুসলিমদের বলেছিল ঘরে বসে প্রার্থনা করতে, দলটির উচিত ছিল তাদের সমস্ত জামাত বন্ধ করা এবং তাদের সব সদস্যকে স্থানচ‚্যত করে দেয়া। এটি তাদের পাঠানো একটি ভুল বার্তা। সময়টি ছিল মেডিকেল জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, নিয়মে অবহেলা নয়। তাদের কারণে ইতোমধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ পড়ছে
এবং এভাবেই কয়েকটি চ্যানেল তাবলীগি জামায়াতের কারণে কোভিড-১৯ মামলার আকস্মিক বৃদ্ধি কভার করেছিল।
জাতীয় লকডাউনের আগে ভারতে যেসব ঘটনা ঘটেছিল তার একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যদিও ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে যে, মোদি সরকার ৮ জানুয়ারির পর থেকে কোভিড-১৯ যুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। কোয়ার্টজ ইন্ডিয়া অনুসারে, ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে পুরষ্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শহরটিতে করোনায় পজেটিভ পাওয়ার পর দিল্লি স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তার হোলি উদযাপন বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনই কেরালার এক ধর্মীয় উৎসবে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। ২৪ মার্চ মোদি লকডাউন ঘোষণার দিন ইউপি সিএম যোগী আদিত্যনাথ অযোধ্যায় রাম নবমীর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ১৫ মার্চ কর্ণাটকের সিএম বিএস ইয়েদুরাপ্পা রাজ্য বিধায়ক মহান্তেশ কাভাতগীমথের মেয়ের বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন, যাতে শত শত লোকও ছিল।
অপেক্ষা করুন, এটাই শেষ নয়, কোয়ার্টজ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাজস্থানের সিএম বসুন্ধরা রাজে, তার ছেলে দুশান্ত সিং, ইউপির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয় প্রতাপ সিংহ এবং এএপি-র সঞ্জয় সিংহ লখনউয়ের একটি জন্মদিনের পার্টিতে কিছু রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যেখানে বিটিডবিøউর পরীক্ষায় ৫ম দফা পজেটিভ কণিকা কাপুরও ছিলেন। ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী একটি কোভিড-১৯ আক্রান্ত শিখ প্রচারক পাঞ্জাবের একটি মেলায় অংশ নিয়েছিলেন যার কারণে তার প্রায় ৪০ হাজার ভক্ত আইসেলোশনে রয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, ২০০ জনেরও বেশি লোক বেশিরভাগ শিখ গুরুদুয়ারায় আটকা পড়েছিল এবং সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে নেহেরু বিহার বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে এবং গ্রুপটি সম্ভবত পাকিস্তানের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত।
দ্য প্রিন্ট অনুসারে, ১২ মার্চ ভোপালে বিজেপি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে স্বাগত জানাতে কয়েকশ’ লোককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ২২ মার্চ জনতা কারফিউ ঘোষণার দিন শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রান্সমিশনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। অবশেষে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ২৪ মার্চ জাতীয় লকডাউনের ফলে হাজার হাজার লোক পদযাত্রা শুরু করেছিল, যা ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে দেখা যায়নি। দ্য গার্ডিয়ান-এর মতে, এতে প্রায় ২০ জন অভিবাসী মারা গেছেন। ভাইরাসের কারণে নয়, তাদের ওপর আক্রমণও করা হয়নি। তবে তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং এই নিবন্ধটি লেখার সময় রাম নবমী উদযাপনে যোগদান থেকে বিরত থাকার বারবার আবেদন করা সত্তে¡ও পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলেঙ্গানায় দুটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে হ্যাঁ, এগুলোর মধ্যে নিজামুদ্দিন মারকাজের পরিস্থিতি যেমন মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে, অন্য কোন বিষয়ে তেমন কোনও সা¤প্রদায়িক পক্ষপাতিত্বমূলক রঙ তাদের উপর ছড়িয়ে পড়েনি। সুতরাং, আপনি বুঝতে পারেন, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Dip Roy ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪০ এএম says : 0
পৃথিবীর অন্যয় অবিচার দুর হলেই করোনা শেষ হবে।এর থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল হিংসা বিবাদ ভুলে মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে শিখি পৃথিবীটা সুন্দর হবে।অন্যর ধর্মকে সম্মন করতে শিখি আর সৃষ্টি কর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে যে যার ধর্মের আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবানকে ডাকুন তাহলে ঝড় থেমে যাবে।
Total Reply(0)
Md Mobarak ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
সারা ভারত জুড়ে হাজার হাজার মন্দিরে সর্বদা হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে,সেগুলোকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছেনা কেন,সেখান থেকে কি করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই।
Total Reply(0)
Anuba Anaa ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪২ এএম says : 0
ইন্ডিয়া তো এমনিতেই মুসলমানদের উপর অকারণে অত্যাচার করে, ইন্ডিয়ার এ ধরণের News এর উপর ভরসা কি করে করা যায়!! এত সঙ্কটময় সময়েও মুসলমানদের পিছনে লাগতে ভূলছেনা বিধর্মীরা
Total Reply(0)
Hasan Zafrul ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪২ এএম says : 0
আবারো প্রমানিত হলো। বিজেপির দালালেরা মুসলমানদের দ্বিতীয় সারির নাগরিক বানাতে চাই। গো-মুত্রতে যদি রোগ সারে তো এতো চিন্তা কেন.?
Total Reply(0)
Habibur Rahman ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪২ এএম says : 0
এটা মেনে নিচ্ছি যে তাবলিগ জামাত কাজটা একমত ঠিক করে নি, ওদের একগুঁয়েমিটা আশংকা অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু ওরাই যে টোটাল ব্যাপারটার জন্য দায়ী, বিজেবির এই statement নোংরা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
Total Reply(0)
Eng Md Monjur Rahman ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪২ এএম says : 0
নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে সাধারন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের দায়ীকরা হিনমন্মতা ছাড়া আর কিছুই না।
Total Reply(0)
Akas Chowdhuru ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৩ এএম says : 0
বু‌দ্ধিমান মাত্রই সহ‌জেই বুজ‌তে পার‌বেন যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও সরকার মুস‌লিম নিধ‌নের এক‌টি মহা প‌রিকল্পনা বাস্তবায়ন ক‌রে চ‌লে‌ছে। পর্যায়ক্র‌মে ধা‌পে ধা‌পে সে‌দি‌কে তারা অগ্রসর হ‌চ্ছে। প্রথ‌মে অাসাম,এর পর কাস্মীর,দিল্লী,উত্তর প্র‌দেশ,অাবার দিল্লী। এর পরবর্তী টা‌র্গেট কী তা সময় ই ব‌লে দি‌বে।
Total Reply(0)
Muzaffer Khan ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৪ এএম says : 0
আমাদের মানে মুসলিমদের সব সময় একটা গোয়ারতোমি ভাব খাকে।এটা ঠিক না।যখন যেমন তখন তেমন ভাবে চলতে হয়।এই ধারনাটা আমাদের একেবারেই নেই।এই মুহুর্তে কি দরকার ছিল সমাবেশ করার?আসলে মৌওলানা সাদ একটু ঘাড়তেড়া মানুষ।বাংলাদেশে উনার সমর্থকের বিশ্ব এস্তেমায় লড়াই করেছে একজন মারাও গেছে।তাই বলছি সারা দুনিয়াই এখন মুসলমানদের দুর্যোগ চলছে।এই আমাদেরও সেই চলতে হবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন