সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

ইসলামী বিশ্ব

তদন্তের সারাংশে পাওয়া পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

(পূর্ব প্রকাশের পর)
ইনকিলাব ডেস্ক : চিলকট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ইরাকে মার্কিন ও যুক্তরাজ্যের সৈন্যরা গণবিধ্বংসী হামলা চালিয়েছিল। ইরাকে তিনটি মিলিটারি ব্রিগেড নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে ঝুঁকি যাচাই করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের উপকরণের ঘাটতি পরে। সুস্পষ্ট সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও আক্রমণের ফলাফলকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। ইরাক নিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরে ব্লেয়ারের সরকার ইরাকে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
২০০৩ সালে শুরু হওয়া ইরাক যুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ সৈনিকদের পরিবার চিলকট তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেয়। চিলকট তদন্ত কমিশন ‘দি ইরাক ইনকোয়ারি’ নামে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে ২৬ লাখ শব্দে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে নিহত সৈনিকদের অভিভাবকরা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিসি) মামলা করবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও তারা কিছু ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও জেনারেলের বিরুদ্ধেও মামলা করবেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ৫২ বছর বয়সী রোজ জেন্টেলের পুত্র গর্ডন ২০০৪ সালে ইরাকের বসরায় মারা গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চরম মিথ্যাচারের জন্যও ব্লেয়ারের বিচার হওয়া উচিত।’ তিনি গত ১২ বছর থেকেই সুবিচার কামনা করে ব্রিটেনজুড়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ব্লেয়ার মিথ্যা বলেছেন। তদন্তের জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে ফেলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে আমরা হয়তো আমাদের অনেক প্রশ্নেরই জবাব পাব না।
চিলকট প্রতিবেদনের সারাংশ লিপিবদ্ধ করলে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয় লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই ৫টি বিষয়কে ৫টি তথ্য হিসাবে গণ্য করা যায়। তথ্যগুলো হচ্ছেÑ
ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ২০০৯ সালে চিলকট কমিশন গঠিত হয়। দীর্ঘ সাত বছর এই কমিশন ইরাক যুদ্ধের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। স্যার জন চিলকট গত বছর বলেছিলেন, এ বছর তিনি রিপোর্টটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইরাক যুদ্ধের ১৩ বছর পর ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তিনি।
১. কোনও বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও সৈন্যরা গণবিধ্বংসী হামলা করেছে। ইরাকে তিনটি মিলিটারি ব্রিগেড নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে ঝুঁকি যাচাই করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের উপকরণের ঘাটতি দেখা দেয়।
২. প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুস্পষ্ট সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও আক্রমণের ফলাফলকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। ইরাক নিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরে ব্লেয়ারের সরকার ইরাকে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
৩. প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ইরাক যুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ সৈনিকদের পরিবার চিলকট তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য প্রস্তুত। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে নিহত সৈনিকদের অভিভাবকরা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিসি) মামলা করবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
৪. ৫২ বছর বয়সী রোজ জেন্টেলের পুত্র গর্ডন ২০০৪ সালে ইরাকের বসরায় মারা গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চরম মিথ্যাচারের জন্যও বেয়ারের বিচার হওয়া উচিত।’ তিনি গত ১২ বছর থেকেই সুবিচার কামনা করে ব্রিটেনজুড়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বার্তা সংস্থা মী-কে বলেছেন, ব্লয়ার মিথ্যা বলেছেন। তদন্তের জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে ফেলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে আমরা হয়তো আমাদের অনেক প্রশ্নেরই জবাব পাব না।
৫. চিলকট তদন্ত কমিশন ‘দি ইরাক ইনকোয়ারি’ নামে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে ২৬ লাখ শব্দে। এছাড়াও তারা কিছু ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও জেনারেলের বিরুদ্ধেও মামলা করবেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ইরাক যুদ্ধে ১৭৯ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয়। সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড। এই যুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ ইরাকি নিহত হয় এবং ১০ লাখের বেশি ইরাকি বাস্তুহারা হয়। সূত্র : বিবিসি, ডেইলি মেইল, মিরর, দি গার্ডিয়ান। (সমাপ্ত)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন