সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

ইসলামী বিশ্ব

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ব্যাপক ধরপাকড়

প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

৫ জেনারেল ও ২৯ কর্নেল বরখাস্ত। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৫ জন বিচারককে

ইনকিলাব ডেস্ক : তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর তিন সহ¯্রাধিক বিদ্রোহী সেনাসদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন বলে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৬১ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। বাকি ১০৪ জন অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সেনাসদস্য বলে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান উমিত দানদার জানিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান চেষ্টার পর দানদারকে তুরস্কের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি পাঁচজন জেনারেল ও ২৯ জন কর্নেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৫ জন বিচারককে। গত শুক্রবার রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনী রাজপথে অবস্থান নেয়। তারা ইস্তাম্বুলের বসফরাস ও সুলতান মেহমুত সেতুর উপর অবস্থান নিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। সিএনএন-তুর্ক টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দল জাস্টিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) ইস্তাম্বুলের দফতরেও হানা দেয় বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা। এ সময় উপকূলের শহর মারমারিসে অবকাশে থাকা এরদোগান অভ্যুত্থানের খবর পেয়েই স্মার্টফোনে দেয়া এক ভাষণে জনগণকে এ অভ্যুত্থান প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার বিপুলসংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে এবং অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। গত শনিবার ভোরে আত্মসমর্পণ করে বিদ্রোহী সেনারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম বলেন, বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরো এক হাজার ৪৪০ জন সামরিক-বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। দুই হাজার ৮৩৯ জন বিদ্রোহী সেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এমআইটি) প্রধান হাকান ফিদান বলেন, সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত অভিযান শেষ হয়েছে। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, ইস্তাম্বুলের প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশে জনগণ তুরস্কের লাল-সাদা রঙের পতাকা হাতে সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একাধিক ছবিতে আত্মসমর্পণকারী সেনাসদস্যদের এরদোগান সমর্থকদের মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে। অভ্যুত্থানের পর তড়িঘড়ি করে ইস্তাম্বুল পৌঁছে এক ভাষণে এরদোগান বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি দল অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল, তারা রাষ্টদ্রোহের অপরাধ করেছে, এজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। আমি জনগণের সঙ্গে আছি এবং তাদের ছেড়ে কোথায়ও যাচ্ছি না। আঙ্কারার একটি সেনা ঘাঁটিতে জিম্মিদশা থেকে সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে সরকার অনুগত উদ্ধার করেছে বলেও জানিয়েছে আল-জাজিরা। বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন