ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মূলহোতাসহ ৩ জন গ্রেফতার

পাচারচক্র

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

ভিয়েতনামে ২৭ বাংলাদেশির মানবেতর জীবনযাপন

সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী দেশে ফেরেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অনুসন্ধানের পর বুধবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা হতে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিয়েতনামে পাঠানো পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ৩ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন নামীয় ২৫৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট। গ্রেফতাররা হলেন-মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা জামাল উদ্দিন সোহাগ (৩৪), কামাল হোসেন (৩৯) ও জামাল হোসেন (৩৭)। গত বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল রকিবুল হাসান।

তিনি বলেন, গত ৩ জুলাই বিশেষ ফ্লাইট নং-ভিজে ৬৯৫৮ যোগে ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী ফেরেন। এছাড়া আরও ২৭ জন অভিবাসী ভিয়েতনামে আটক অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভিয়েতনাম ফেরত ১১ জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে ঘটনার সাথে মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড এবং আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ স্থানীয় দালাল ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশি দালাল আব্দুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমির, মিলন, শোভন ও আতিকের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি বিশেষ দল মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস ও দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড ওই তিনজন মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

লে. কর্নেল রকিবুল হাসান আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতাররা একাধিকবার ভিয়েতনামে গিয়ে সেখানকার দালালদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভিয়েতনামের দালালরা জানায়, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ভিয়েতনামে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এরপর উল্লেখিত এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আয় করা সম্ভব বলে প্রলোভন দেখায়। আগ্রহী প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নেয়। ওই টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট বানানো এবং পাসপোর্টের তথ্যসমূহ ভিয়েতনামের দালালদের কাছে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, কুমিল্লাা নিবাসী নাজমুল হাসান (২৬) মার্চেও মাঝামাঝিতে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় গত ৩ এপ্রিল মৃত্যুবরন করেন। নাজমুলের স্বজনরা স্থানীয় দালাল ও জেকে ওভারসিসের সাথে যোগাযোগ করলেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি। গত ২৭ জুন ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির মুসলিম কলোনিতে নাজমুল হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়। জেকে ওভারসিস ২০১৯ সালের নভেম্বরে ডিএন ভিসার মাধ্যমে ১৪ জন বাংলাদেশিকে ভিয়েতনামে পাঠায়। যাদের কারোরই কাজের সুযোগ মেলেনি। যার ফলে এ সকল শ্রমিক অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিসের কোনো নিজস্ব রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই, দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যান্য এজেন্সির লাইসেন্স ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে দালাল নিয়োগের মাধ্যমে ভিয়েতনামে অভিবাসী প্রেরণ করে আসছে। এ ব্যাপারে আ্ইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন