ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রদীপ-লিয়াকতের একে অন্যকে মদ্যপ বলে দায় চাপানোর চেষ্টা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০২০, ১০:১৭ এএম

মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী ঘটনার বিষয়ে এখন পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসি প্রদীপ জানিয়েছেন, ঘটনার সময় লিয়াকত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। অন্যদিকে পরিদর্শক লিয়াকতের দাবি ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে আসেন মদ্যপ অবস্থায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

একটি সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকত দাবি করেছেন যে, বাহাড়ছড়ার দিক থেকে সিনহার যে গাড়িটি আসছিল ওই গাড়িটি আটকানোর জন্য ওসি প্রদীপই তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু গাড়ি আটকানোর নিদের্শ দেননি সঙ্গে এও বলেছিলেন যে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয়েছে, পাহাড়ে ডাকাত দলের সদস্যরা মিটিং করছে। তারা বাহারছড়ার দিকে আসছে। যে গাড়িটি আসছে ওই গাড়িতে ডাকাত দলের সদস্যরা আছে। সতর্কভাবে গাড়িটি আটকাতে। যাতে তারা ক্রস করতে না পারে। এজন্য সড়কে কোনো রকমের ফাঁক না রেখে আড়াআড়িভাবে অবরোধ বসিয়েছিলেন লিয়াকত।
লিয়াকত এও দাবি করেছেন, ওসি প্রদীপ যখন তার সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গাড়িটি আসার পর পরই লিয়াকত সিনহাকে গুলি করে। গুলির পরেও সিনহা অনেকক্ষণ বেঁচে ছিলেন। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন তাকে দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো না প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এমন প্রশ্নে তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

সিনহা হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রদীপ-লিয়াকতসহ ৭ জন পুলিশসকে আদালত রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। র‌্যাব তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যেসব তথ্য পেয়েছেন তা চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সেইগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর এবং সরজমিনের সব তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে। এতে আসামিরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও তখন সরজমিনের তথ্যগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।
গত ৩১শে জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। তিনি তল্লাশিতে বাধা দিয়েছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলার এসপি বলেন, সিনহা বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তার কাছ থেকে ইয়াবা ও পিস্তল পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Nadim ahmed ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৩৮ এএম says : 0
Sinha murder is over now, wait for something else. Something more thrilling, Don't you know yet that about 2000 higher officials of Bangladesh will go to India for training!!! Training for what? Training to learn how to act against our country? Do you know the budget for this project?
Total Reply(0)
Murshed Ahmed ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৩ এএম says : 0
দায়িত্ব পালনের সময় মদ পান করার জন্য খুনি দুটাকে বড় অংকের জরিমানা করা হোক। খুনের জন্য ফাঁশিতে ঝোলানো হোক।
Total Reply(0)
Bahauddin Faruk ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৪ এএম says : 0
Pap care na bap re
Total Reply(0)
Saiful Islam ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৪ এএম says : 0
বিপদে পরলে এমনই হয় দারোগা বাবু
Total Reply(0)
Monir Howlader ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৫ এএম says : 0
কোন বাহানায় কাজ হবে না। এরা বিনা বিচারে বহু মানুষ হত্যা করছে। এদের বেলায় এত বিচার কেন? এদেরকে নিয়ে ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে যাওয়া হোক। এদের হাতেই কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ হতো। এদের কে ক্রস ফায়ার দেয়া হোক।।
Total Reply(0)
Sadak ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৬ এএম says : 0
এত কিছু বুঝিনা ওদের কে রাস্তায় ফাঁসি দিয়ে দেশে আঠার কোটি হৃদয় ঠান্ডা করে দেখান ৯০ দিনের মধ্যেই
Total Reply(0)
Mohammad Alim ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৭ এএম says : 0
দুইজনকেই ফাসি দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হউক।
Total Reply(0)
Mehedi Hasan ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৮ এএম says : 0
নাটক
Total Reply(0)
Md Jahed ১২ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৯ এএম says : 0
এই দুই ......... ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে, মেজর সিনহা কে, এবং আরও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাইকে এক রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হোক।
Total Reply(0)
Nazmul Hasan Biplob ১২ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ পিএম says : 0
শেষ পর্যন্ত এই মদের শাস্তি দিয়েই মার্ডার শাস্তি এরানোর চেষ্টা।
Total Reply(0)
মেহেদী ১২ আগস্ট, ২০২০, ১:৩৮ পিএম says : 0
শাস্তি এড়ানোর পায়তারা চলছে। এদের কঠোর শাস্তি না হলে দেশের সশস্ত্র বাহিনী িইমেজ সংকটে পড়বে।
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ১২ আগস্ট, ২০২০, ১০:৫২ পিএম says : 0
এক আসামী অন্য আসামীর উপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে দোষ মুক্ত করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। মেজর (অবঃ) সিনহা হত্যা মামলার বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় আশ্চার্য হচ্ছে এখনও কক্সবাজারের এসপিকে প্রত্যাহার করা হয়নি। এতেকরে মামলার প্রচুর ক্ষতি হবার সম্ভবনা রয়েছে। এসপি একটি ক্ষমতাধর পদ এখানে থেকে অনেক সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা তাঁর জন্যে খুবই সহজ কাজ। তাই মামলার স্বার্থে অনতিবিলম্বে এসপি সাহেবকে সাময়িক ভাবে অপসরণ করতে না পারলেও কমপক্ষে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। আল্লাহ্‌ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা প্রদান করুন। আমিন
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন