ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

লাদাখে সংঘাত অব্যাহত, অরুণাচলেও মুখোমুখি চীন-ভারত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:২২ পিএম

লাদাখে ভারত-চীন সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রায় প্রতিদিনই দুই দেশের সেনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। ৪৫ বছর পর সেখানে পর পর দুই দিন গুলির ঘটনা ঘটলো। এর জন্য একে অপরকে দায়ী করছে দেশ দুইটি। এর মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তেও চীন-ভারত উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর আগে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত লাদাখ সংকট কাটেনি, বরং বেড়েছে। সীমান্তে গুলিও চলেছে। তারই মধ্যে চীনের সেনার নতুন কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাতে বর্শা, রড হাতে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে টহল দিচ্ছে পিপলস লিবারেশন আর্মির সৈন্যরা।

শুধু লাদাখ সীমান্তই নয়, অরুণাচল সীমান্তেও উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার অরুণাচলে চীন সীমান্তের একটি গ্রাম থেকে ৫ ভারতীয় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে চীন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনও খবর নেই। সেই বিবৃতিতে তারা বলেছে, অরুণাচলপ্রদেশ বলে ভারতের কোনও রাজ্যের অস্তিত্বই তারা মানে না। ওই এলাকা দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। ভারত তা দখল করে বসে আছে। মঙ্গলবার অবশ্য চীন জানিয়েছে, পাঁচ ভারতীয় চীনের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছেন। তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

গত জুন মাসে গালওয়ানে সংঘর্ষ হয়েছিল ভারত এবং চীনের সেনার। প্রায় সারা রাত ধরে সেই সংঘর্ষ চলার পরে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। ভারত দাবি করেছিল, চীনা সেনারও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু চীন কোনও তথ্য দেয়নি। গালওয়ান সংঘর্ষে গোলাগুলি চলেনি। সেনা সূত্র জানিয়েছিল, বড় বড় লাঠির গায়ে কাঁটাতার জড়িয়ে ভারতীয় সেনার উপর আক্রমণ করেছিল চীন। তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। গালওয়ানের সেই ঘটনা নিয়ে শুধুমাত্র ভারত-চীন নয়, গোটা বিশ্বেই আলোড়ন হয়েছিল। এরপর ভারত এবং চীনের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক বৈঠক হয়েছে।

ভারত এবং চীনের মধ্যে সীমান্তে গুলি না চালানোর চুক্তি আছে। যদিও গালওয়ান কাণ্ডের পরে ভারতীয় সেনাকে প্রয়োজনে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বস্তুত গত কয়েক দিনে শূন্যে গুলি চলেছে দুই প্রান্ত থেকেই। কিন্তু গুলির লড়াই শুরু হয়ে গেলে আরো প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। তাতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে গুলি না চালিয়ে আরো একটি গালওয়ান কাণ্ডের দিকে পরিস্থিতি এগোচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সে কারণেই বর্শা হাতে চীনের সেনাকে সীমান্তে দেখতে পাওয়া গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে দুইটি পাহাড় চূড়া সম্প্রতি ভারতীয় সেনা দখলে নিয়েছে। ভারতের দাবি ওই দুইটি পাহাড় ভারতীয় ভূখণ্ডে। চীনের দাবি, ওই দুইটি পাহাড়ের দখল নিয়ে ভারত স্থিতাবস্থার নীতি ভেঙেছে। বস্তুত, ওই দুইটি পাহাড় চূড়া থেকে সীমান্তের ওপারে চীনের সামরিক কাঠামো দেখতে পাওয়া যায়। চীন সীমান্তের ও পারে কী রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাও দেখতে পাওয়া যায়। ফলে ভারতীয় সেনাকে সেখান থেকে নামাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীন। একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। বস্তুত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধও হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে বাস্তব পরিস্থিতির রিপোর্ট দিয়েছেন সেনাপ্রধান। সামরিক বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন। চীনও লাগাতার ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে।

১৯৬২ সালে ভারত এবং চীনের মধ্যে শেষ যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হলেও সরাসরি যুদ্ধ হয়নি। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অরুণাচল। এ বার একদিকে লাদাখ, অন্য দিকে অরুণাচল। বস্তুত সিকিম সীমান্তেও রেড অ্যালার্ট রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বেশ কিছুদিন ধরেই বলছেন, শীতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। বস্তুত, দুই দেশই সীমান্তে যে ভাবে অস্ত্র এবং সৈন্য সাজাচ্ছে, তাতে এই আশঙ্কা আরও বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও আলোচনাই ফলপ্রসূ হয়নি। বরং প্রতিদিনই উত্তাপ বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অন্য অংশের বক্তব্য, বিশ্ব কূটনীতি এবং আর্থিক মন্দার কথা মাথায় রেখে কোনও দেশই এখন সরাসরি যুদ্ধে যেতে চাইবে না। তবে সংঘাত যে এখনই থামার নয়, তা অনেকটাই স্পষ্ট। সূত্র: পিটিআই, এএনআই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন