ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ভারত বিরোধিতাই খালেদা জিয়ার স্বভাব

প্রকাশের সময় : ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১:৩৭ এএম, ২৮ আগস্ট, ২০১৬

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না

কেউ অর্থ না দিলে নিজেদের অর্থেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে


বিশেষ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারত বিরোধিতাই খালেদা জিয়ার স্বভাব। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যকে উদ্ভট, বানোয়াট ও অসত্য বলে উল্লেখ করে বলেছেন, খালেদা জিয়া জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ও দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে এ ধরনের কথা বলছেন। তিনি খালেদা জিয়ার উপস্থাপন করা বিভিন্ন তথ্য সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। এতদিন অন্তরালে থেকে ইন্ধন জোগালেও ২৪ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এই অপপ্রচারে প্রকাশ্যে শামিল হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই অপপ্রচারে প্রকাশ্যে যোগ দেয়ার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে যদি কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই থাকত, তাহলে তারা অনেক আগেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করত। তিনি বলেন, এতদিন ধরে চলে আসা আন্দোলনের পেছনে বিএনপি ছিল। বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।
গতকাল শনিবার বিকেলে গণভবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সুন্দরবন ও পরিবেশের ক্ষতি করবে না বলে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিও সংবাদ সম্মেলনে নাকচ করে দেন। ১৭৭টি সংগঠন ভারতের এক্সিম ব্যাংককে বলেছে, রামপালে অর্থায়ন না করতে। এ প্রসঙ্গ জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ অর্থ না দিলে নিজেদের টাকায় করা হবে। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর কাজও নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, সেখানকার জমি তিন ফসলি। খালেদা জিয়ার দেওয়া অন্যান্য তথ্য যেমন ঘনত্ব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা, জমির পরিমাণ সবই ভুল। তিনি কোথা থেকে, কার কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য পেয়েছেন, তা বোধগম্য নয়।
প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ৭০ শতাংশ ঋণ ভারতের এক্সিম ব্যাংক দিচ্ছে, বাংলাদেশ কেবল সেই ঋণের জামিনদার (গ্যারান্টার)। বাংলাদেশে প্রকল্প হচ্ছে। তাই ভারতের জামিনদার হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে লাভের অর্ধেক পাবে ভারত। বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। সেই বিদ্যুৎ কী হবে, তা বাংলাদেশ নির্ধারণ করবে। এখান থেকে ভারত কোনো বিদ্যুৎ নিচ্ছে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমি জানি এটা অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না। বাংলাদেশ কেন এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ কেন স্বনির্ভর হবে, মানুষ কেন ভালো থাকবে- এটা তাদের সহ্য হচ্ছে না। এজন্যই একটা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করছে তারা। যারা নিজেদের পরিবেশবাদী বলে জাহির করেন, তাদের কাছে প্রশ্ন, পরিবেশ সংরক্ষণে একটা গাছ লাগিয়েছেন জীবনে? নিজের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, যা করছেন সেগুলো কি মানুষের মঙ্গল বয়ে আনবে? ভুল, মনগড়া. মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না। আপনারা যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করছেন, সেগুলো ৬০’র দশকের।
তিনি আরো বলেন, ২০১৩-১৫ সালে পেট্রোল বোমা মেরে একশোর বেশী মানুষ হত্যা করে, জঙ্গীদের মদদ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ মেরে, হলি আর্টিজেন ও শোলাকিয়ায় ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা আদায়ে ব্যর্থ বিএনপি নেত্রী এবার ভাবছেন, একটা মওকা পাওয়া গেছে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবেন। জনগণকে এতো বোকা ভাববেন না। জনগণ আপনার দুরভিসন্ধি বোঝে। একটা নন-ইস্যুকে ইস্যু করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করতে চায়, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করতে আমরা পিছপা হব না।
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমরাই এ দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। কাজেই এতটুকু আস্থা আমার ওপর রাখা উচিত। কোনো ক্ষতি হলে আমি অন্তত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতাম না। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য যা কিছু ভালো মনে হবে, আমি সেটাই করবো। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা। আমি এমন কাজ আগেও করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না, যা দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য সামান্যতম ক্ষতি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় সরকার সবদিক থেকে সর্বোচ্চ তর্ক থাকছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে জার্মানির একটি ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা কোনো আপোস করবো না। তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন গ্যাস-এসিড নিঃসরণে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বসানো হবে। বাতাসে ওড়া ছাই ধরে রাখার ব্যবস্থা হবে। এই ছাই আবার সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহার হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনায় সালফার গ্যাস শোষিত হবে। এই গ্যাস থেকে জিপসাম সার তৈরি হবে।
তিনি জানান, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনির উচ্চতা হবে ২৭৫ মিটার। এই চিমনি দিয়ে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হবে তা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১.৬ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। অন্য যেসব গ্যাস সামান্য পরিমাণে বের হবে সেগুলোর ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃত মাত্রার চেয়ে অনেক কম হবে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে বলে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে আসেন। বড়পুকুরিয়া একটা সাব-ক্রিটিক্যাল। সাব-ক্রিটিক্যাল ও আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্ল্যান্টের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০০০ সালে কাজ শুরু হয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া সেটা বন্ধ করেননি। তখন কোনো মায়া কান্নাও ছিলো না। আপনারাও লিখতে পারেননি কোনো ক্ষতি হয়েছে। তাহলে এটা নিয়ে কেন কথা হচ্ছে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনার পাল্টা সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নবিরোধী একটি মহল মানুষকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এতোদিন খোঁজার চেষ্টা করছিলাম এর পেছনে শক্তিটা কোথায়? এতদিন পরে আমরা দেখলাম, খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এই অপপ্রচারে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করার নামে খাম্বা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছিলো। আর আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। সেটা দিয়ে আলো জ্বলে-এসি চলে, সেখানে বসে আমাদের সমালোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর সুন্দরবন রক্ষা করা, বাঘ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করায় এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য বলে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো যে এলাকাকে স্বীকৃতি দিয়েছে তা থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবহন সহজলভ্যতা ও বসত-বাড়ি স্থানান্তর প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু অনেকে অজ্ঞতাবশত সমালোচনা করছেন। যারা সমালোচনা করছেন, বিশেষ করে যখন বিএনপি নেত্রী যখন কথা বলেন, তখন আমার মনে হয় মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ভিয়েতনামের কুয়াং নিন বিদ্যুৎকেন্দ্র, জাপানের ইয়াকোহোমার ইসোগো বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাইওয়ানের তাইচুং বিদ্যুৎকেন্দ্র, জার্মানির জলিং বিদ্যুৎকেন্দ্র, হেইলব্রোন হ্যাফেন বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্রাফটওয়ার্ক-মুরবার্গ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদী ও আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে বলেন, এরা নিজেরা ভালো কিছু করতে পারে না। আবার কেউ ভালো কিছু করতে গেলে তাতে বাধা দেয়। রামপালে সুন্দরবনের কথা বলে বিরোধিতা করছে। কিন্তু আনোয়ারায় সুন্দরবন নেই। কিন্তু সেখানেও বিরোধিতা করছে কেন? এদের কথা শুনতে গেলে তো কোনো উন্নয়ন কাজই হাতে নেয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী এসময় আন্দোলনকারীদের রোড মার্চসহ নানা কর্মসূচির অর্থ যোগানের বিষয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই যে শত শত মানুষ জড় করে রোডমার্চ করে, সমাবেশ করে, এগুলো করতে টাকা কে দেয়?
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই দেশপ্রেমিক, সুন্দরবনপ্রেমিক। আপনারাই শুধু পরিবেশ বোঝেন, আর আমরা কিছুই বুঝি না! একটা কথা বলে রাখি। যদি এই সুন্দরবন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনে সামান্যতম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকতো, তাহলে আমিই সুন্দরবনের বিরোধিতা করতাম।
প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন রক্ষায় তার সরকারের কিছু পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, আমাদের নেয়া পদক্ষেপের ফলে সুন্দরবনের আয়তন দিন দিন বাড়ছে। গাছের ঘনত্ব বাড়ছে। উপকূল এলাকায় সুবজবেষ্টনী সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুন জেগে ওঠা চরে গাছ লাগিয়ে সেগুলোর ভূমিক্ষয় রোধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সবসময় উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করেছে। জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। সরকার জনগণের সেবক, এটা আওয়ামী লীগই কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি দেশের উন্নয়নের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে বলেন, গুলশান হলি আর্টিজানে মানুষ খুন করেছে জঙ্গিরা। সেখানে পাওয়া গেলো মেট্রোরেল নির্মাণকর্মীদের। বাংলাদেশকে যখন সবাই বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেই উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়াই যেনো উদ্দেশ্য ছিলো তাদের। সেই হত্যাকারী আর এদের সঙ্গে আমি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। উন্নয়ন থামিয়ে দেয়াই যেনো তাদের উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম।
শুরুতেই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তারপর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।
বামদের কাজ উল্টো রাজনীতি করা
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এর বিরোধিতাকারী বামপন্থী দলগুলোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের ‘উন্নয়নবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, উল্টো রাজনীতি করেন বামপন্থীরা।
ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে, যা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ক্ষতি করবে দাবি করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বাম দলগুলো।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে শেখ হাসিনা বলেন, বামরা বিশ্লেষণ করতে করতে অণু-পরমাণুতে পরিণত হয়েছে। তারা ভাঙতে ভাঙতে শূন্য থেকে অণু-পরমাণুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়ার সাথে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে খাল কাটতে চলে গেল।
ওই সময় বাম রাজনৈতিক দলগুলো জিয়াউর রহমানকে ‘ছাড়’ না দিলে যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় বসতে পারত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বামদের কাজ হলো, উল্টো রাজনীতি করা’।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন
নারায়ণগঞ্জে পুলিশি অভিযানে জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গুলশান হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গণভবনে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।”

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
MD Azizul Hoque Chowdhury ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১০:৫৮ এএম says : 1
জনগনের জন্য সরকার। আর সরকার হল প্রজাতন্ত্রের সেবক। যেখানে জনগণ রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাইনা সেখানে কিসের সার্থ এটা করার জন্য উঠেপরে লেগে আছে?
Total Reply(0)
Tahmidul Islam ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:০০ এএম says : 0
সুন্দরবন একটাই।বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই তবে সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি বানাতেই হয় সেটা গোপালগঞ্জে বানানো হোক।
Total Reply(0)
Nazmul Hasan ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:০২ এএম says : 2
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ রামপাল চুক্তির বিপক্ষে ।
Total Reply(0)
H M Maimun Sorkar ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:০৫ এএম says : 1
থাকবেইত কেননা খালেদা ভারতকে নয় দেশকে ভালবাসে
Total Reply(0)
Zamir Uddin ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ পিএম says : 0
আমরা সুন্দবন চাই বিদু্য চাই না।
Total Reply(0)
Maruf ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১২:১৪ পিএম says : 0
tini je ata e bolben seta amra age theke e dharona koresilam
Total Reply(0)
Galen cho ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:৩৯ এএম says : 0
ভারতের লোন , ইন্টারেস্ট ভারত পাবে। আবার লাভের অর্ধেক ভারত পাবে। বিদ্যুত বাংলা দেশ কিনবে । সুন্দরবন ধংস হবে।ওখানকার হাজার হাজার বিঘা, চিংড়ি প্রজেক্ট নষ্ট হবে। চিংড়ি ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। সব দিক থেকেই লচ হবে বাংলাদেশের ।লাভবান হবেন ভারোত ও বিদ্যুত বিভাগের উচ্চ করমর্দন ।সরকারকে অনুরোধ বাঘের হাট এলাকা কোরিয়ান একটি কোম্পানি নিতে ইচ্ছুক আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ি প্রজেক্ট করতে যদি, সরকার সহযোগিতা করতে পারেন । ওখান থেকে কুটি কুটি টন চিংড়ি উপাদান করে বিদেশে রপ্তানী করে দিবে। যেটা বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে লাভবান হবে ।
Total Reply(0)
MD Rahat Islam Shuvo ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:৫০ এএম says : 0
যেহেতু পরিবেশের ক্ষতি হবে না সেহেতু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঢাকা শেরেবাংলা নগরে সংসদ বভনের পাশে করা হোক
Total Reply(0)
Jalal Uddin ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:৫৫ এএম says : 0
সব বিদ্যুৎ বন্ধ করে দাও। আমরা কেরোসিন আর মোমবাতি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাবো। তবুও সন্দরবন ধ্বংস হউক এটা আমরা চাইনা ।
Total Reply(0)
সৌরভ ২৮ আগস্ট, ২০১৬, ১১:৫৬ এএম says : 0
কার কি স্বভাব সেটা জনগন ভালো করে জানে।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন