স্টাফ রিপোর্টার : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পরপর তিনটি নির্বাচন (সর্বশেষ ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলোতে ইইউ’র পর্যবেক্ষকেরা ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন) পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার জন্য ইইউ অন্য দাতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
বাংলাদেশে ২০১৫ সালে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে এবং বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের অবিচলিত পতন ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুম এবং বিরোধী ও মানবাধিকারকর্মীদের কার্যক্রমে বিধিনিষেধসহ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্রমেই অবনতি হয়েছে। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা বেড়েছে। আবার কিছু শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণœ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে গত মঙ্গলবার এই অভিমত দেয়া হয়েছে। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: ইইউ অ্যানুয়াল রিপোর্ট ২০১৫’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন গতকাল গৃহীত হয়েছে। ইইউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগের সংস্কার; মৃত্যুদ- বিলোপ; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা; সংখ্যালঘু, মানবাধিকার, নারী ও শিশু অধিকার কর্মীদের অধিকার; নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন ও শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা ২০১৫ সালে কয়েক গুণ বেড়েছে। চারজন ‘নাস্তিক’ ব্লগার এবং একজন প্রকাশকের হত্যায় প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ ধর্মীয় জঙ্গিবাদ উত্থানের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। দুই বিদেশি নাগরিকের হত্যাকা- নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
মন্তব্য করুন