ঢাকা রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পাক-ভারত পাল্টাপাল্টি হামলা

প্রকাশের সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:৪৭ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

# ৮ ভারতীয় ও ২ পাকিস্তানী সৈন্য নিহতের
# ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না : নওয়াজ শরীফ
# সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নাকি সীমান্ত সংঘর্ষ তা নিয়ে ধুম্রজাল
ইনকিলাব ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয়বাহিনীর পরিচালিত হামলায় অন্তত ২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে পাকিস্তান ও ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জবাবে পাকিস্তানিবাহিনীর হাতে ৮ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি এক ভারতীয় সেনাকে আটক করার খবর দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বসহকারে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি হামলার ধরণ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন বিভাগের পরিচালক জেনারেল রণবির সিং এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে ভারত বৃহস্পতিবার ভোরে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভেতরে ঢুকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করে ব্যাপক হতাহত করেছে। তাতে বেশিরভাগই জঙ্গি সদস্য ছিলেন বলে তার দাবি। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দাবিকে অতিরঞ্জিত এবং মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, লাইন অব কন্ট্রোলের দুইপাশে থেকেই উভয় দেশের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে এবং তাতে পাকিস্তানের দুই সৈন্য নিহত হয়েছেন। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এ ধরনের হামলাকে নগ্ন আগ্রাসন এবং উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ধৈর্য্যকে দুর্বলতা ভাববেন না।
ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি :
সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যৌথ ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সেনা অভিযান বিষয়ক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং বলেন, “আমাদের ভূখ-ে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনারত সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” ‘নিজ দেশে জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রণবীর সিং বলেন, “ জাম্মু ও কাশ্মির এবং আমাদের অন্যান্য রাজ্যের বড় শহরগুলোতে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী হামলার জন্য লাইন অব কন্ট্রোল জুড়ে কয়েকটি জঙ্গি দল অবস্থান নিয়েছে, এমন সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য খবরের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করে ওইসব জঙ্গিঘাঁটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে।”
ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে, এটি ছিল ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করা হয়েছে, আশেপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি ও জঙ্গি মদদদাতা হতাহত হয়েছে বলেও তাদের ভাষ্য। ভারতীয় মন্ত্রিপরিষদের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর।
অন্যদিকে, পাক সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গিঘাঁটিতে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর। ‘মিথ্যা প্রভাব বিস্তারের জন্য’ ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করছে। ‘বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের লাইন অব কন্ট্রোলে কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই ভারতীয় সেনাদের গুলি বর্ষণে পাকিস্তানের সেনারা নিহত হয়েছে’, বলা হয়েছে বিবৃতিতে। পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে লড়াই শুরু হয় এবং ছয় ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে।
৮ ভারতীয় সৈন্যকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের :
এদিকে ভারতীয়বাহিনীর হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর হামলা চালিয়ে ৮ ভারতীয় সেনাকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার এক ভারতীয় সেনাকে আটক করারও দাবি জানিয়েছে তারা। পাকিস্তান সেনাসূত্র সে দেশের সংবাদমাধ্যম ডনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের তরফ থেকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এ ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গিকে হত্যার কথা জানানোর পর পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতীয় সেনা হত্যার কথা জানানো হয়। পাকিস্তান জানায়, আটককৃত চান্দু বাবুলাল চৌহানের পিতার নাম বাশান চৌহান, বয়স ২২ বছর। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা।
এদিকে জিও নিউজের ক্যাপিটাল টক শো’তে সাংবাদিক হামিদ মির বলেন, দুইটি সেক্টরে ১৪ ভারতীয় সেনা নিহত হন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ইজাজ আওয়ান এই দাবি করেন। আটককৃত সেনা চান্দু বাবুলাল চৌহানকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানায় পাকিস্তানি সেনা সূত্র। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সংঘর্ষে নিহত ভারতীয় সেনাদের লাশগুলো এখনও পায়নি ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়ে ওই লাশগুলো নিতে আসেনি ভারতীয় সেনাবাহিনী।
ধৈর্য্যকে দুর্বলতা ভাববেন না : নওয়াজ শরীফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ একে  ‘বিনা উস্কানিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নগ্ন আগ্রাসণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার যে কোনো ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করার সক্ষমতা আমাদের সেনাবাহিনীর আছে। আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না।” পাক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফও বলেছেন, দিল্লীর দাবি অতিরঞ্জিত। উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলি হয়েছে। তাতে দুই পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়েছেন। রাহিল শরীফ আরো বলেন, লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করলে ভারতের উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে চার ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’র হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোদী হামলার যোগ্য জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমি দেশবাসীকে এই হামলার পেছনে যারা জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
ভারত ইতোমধ্যে আসন্ন ইসলামাবাদ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ, ভূটান এবং আফগানিস্তানও সম্মেলনে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আঞ্চলিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার হুমকিতে রয়েছে পাকিস্তান।
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতকে সহযোগিতার অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে ফোন করে ভারতকে সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা এখবর দিয়েছে। উরি হামলা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথাও দোভালকে জানান সুসান। উরির সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলার পর এই প্রথম মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভালের সঙ্গে কথা বললেন।
সুসান দোভালকে  বলেন, ‘গত ১৮ সেপ্টেম্বর উরির সেনা ছাউনিতে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি হামলার কঠোর নিন্দা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি নিহত জওয়ানদের পরিজনদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। দোভালকে আশ্বাস দিয়ে সুসান আরও জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে যে সন্ত্রাসবাদ চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করবে মার্কিন প্রশাসন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার বিষয়টিও নিয়েও সুসান দোভালের সঙ্গে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা আরও জোরালো করার বার্তা দিয়েছেন সুসান।
পরমাণু অস্ত্র শোপিস হিসেবে রাখার জন্য নয় : পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এই হুমকি দেন। তিনি বলেছেন, অস্ত্র ‘শোপিস’ হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য নয়। বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতকে ওই হুমকি দেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে খাজা আসিফ বলেন, দেশ রক্ষার জন্য কৌশলগত অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো ‘শোপিস’ হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য নয়। কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেব।’ ওদিকে, পাকিস্তানের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে গত বুধবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনতারা জানায়, রাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও আইনবিষয়ক মন্ত্রী ভারিন্তো গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জেনারেল রশিদ মাহমুদের সাথে আলোচনায় বসেন। সেখানেই তিনি এমন প্রস্তাব দেন। ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও আইনবিষয়ক মন্ত্রী ভারিন্তো বলেন, আমরা তাদের কাছে প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব করেছি। পাকিস্তানের সাথে আমাদের প্রতিরক্ষাবাহিনীর সম্পর্ক অনেক গভীর। জেনারেল রশিদ মাহমুদ সে সম্পর্ক ধরে রাখার এবং তা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ওই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ থাকার অভিযোগ তুলেছে ভারত। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাবনায় দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গত বুধবার জরুরি বৈঠক করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এনএসএ নাসির জানজুয়া এবং পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখ্য উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই এই জরুরি বৈঠক হয়েছে। যদিও কি নিয়ে এই বৈঠক হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিশ্বের কাছে রীতিমত কোনঠাসা পাকিস্তান। ভারত সীমান্তই হোক আর দেশে জঙ্গিঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিতে বারবার ইসলামাবাদের উপর চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এমনকি, সার্ক সম্মেলনও বাতিল হয়ে গেছে। ফলে চাপ আরও বেড়েছে পাক প্রধানমন্ত্রীর উপরে। সেখানে দাঁড়িয়েই এই জরুরি বৈঠক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, উরি জঙ্গি হামলার বদলা নিতে ভারত-পাক সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে ভারত। মুহুর মুহুর চলছে মহড়া। সেখানে ভারতের প্রত্যাঘাতের ভয়ে তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানও। কার্যত এই অবস্থায় ভীত পাক সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ভারতের উপর প্রতি মুহূর্তের কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে জবাব দিতে তৈরি পাক সেনাও। ফলে এই বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ভারত দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর দেশ - মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার বলেছেন, ভারত একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ইতিহাস হচ্ছে উত্তেজনা-বিজড়িত। এ ব্যাপারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে কাজ করে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটার মিনট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে সম্প্রতি সাসটেইনিং নিউক্লিয়ার ডিটারেন্সের ওপর এক সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৫ বছরে পারমাণবিক অস্ত্রের গুণগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কার্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি হুমকি না হলেও পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র শুধু উত্তেজনাই তৈরি করতে পেরেছে। তবে আমরা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করেনি। এদিকে তিনি পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ভারতের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। চীন প্রসঙ্গে কার্টার বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের গুণগত ও পরিমাণগত মানোন্নয়নের পরও দেশটি তার পেশাদারিত্ব আচরণ বজায় রেখেছে। অ্যাস্টন কার্টার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বৈশি^ক উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি রাশিয়ার প্রসঙ্গও আনেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। তবে সম্প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে রুশ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
দুই দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
যুদ্ধের আবহে বড়সড়পতন ঘটেছে ভারত এবং পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর জেরে একলাফে ৫৭৩ পয়েন্ট পড়ল মুম্বাইয়ের সেনসেক্স। এদিন মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৫৭২.৮৯ পয়েন্ট পড়ে হয় ২৭,৭১৯.৯২। প্রায় ক্ষেত্রেই সূচক ছিল নিম্নমুখী। বিশেষ হারে পতন হয় আবাসন, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির শেয়ারের দর। সেনসেক্সের পাশাপাশি পতন হয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি-রও। একই ধরনের পতন হয়েছে পাকিস্তানেও।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উরির জবাবে ভারতের হামলায় ক্রমেই ঘনাচ্ছে যুদ্ধের পরিস্থিতি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দোলাচোল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে শেয়ার বাজারেও। এদিন উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, আদানি পোর্টস, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, টাটা মোটরস, সান ফার্মা, এসবিআই, ড রেড্ডিসহ বেশ কিছু নামজাদা সংস্থার শেয়ারে।
ওয়াঘা সীমান্তে বাতিল ভারত-পাক যৌথ রিট্রিট
আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে বাতিল করা হয় ভারত-পাক যৌথ রিট্রিট। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিদিন আধ ঘণ্টার যৌথ রিট্রিট করে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। গতকাল ভারতীয় সেনার কথিত সার্জিকাল হামলার পর সেই রিট্রিল বাতিল করার কথা জানায় বিএসএফ।
গতকাল জয়েন্ট রিট্রিট দেখতে যাওয়া পর্যটকদের পথেই আটকে দেন বিএসএফ কর্মীরা। রিট্রিট অনুষ্ঠিত হবে না বলে ঘোষণা করা হয়। আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে জয়েন্ট চেকপোস্টে এই রিট্রিট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কবে থেকে আবার রিট্রিট শুরু হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রিট্রিট যে ফের চালু হবে না, তা বলাই যায়।
আটারি-ওয়াঘা সীমান্তের জয়েন্ট চেক পোস্টে প্রতিদিন সূর্যাস্তের ঠিক আগে ভারতের বিএসএফ ও পাকিস্তানি রেঞ্জাররা আধ ঘণ্টার এই রিট্রিট করে থাকতেন। পর্যটকদের কাছেও এই রিট্রিট ছিল রীতিমত আকর্ষণীয়। সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডন, রয়টার্স ও দ্য ডিপ্লোমেট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
Mohin Khan ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১০:৩২ এএম says : 1
ভারত আগে আক্রমণ করে বিপদে পডলো।
Total Reply(0)
মোলাজেম ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:১৬ পিএম says : 0
উভয় দেশের উচিত সংযত হওয়া
Total Reply(0)
তানবীর ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:২৩ পিএম says : 0
তাহলে কি যুদ্ধ শুরু হয়েই গেলো ?
Total Reply(0)
নাসিম ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:২৬ পিএম says : 0
প্রকৃত যুদ্ধ শুরু হলে দুই দেশই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হবে
Total Reply(0)
রোমান ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:৩৫ পিএম says : 1
এই শুরুতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি
Total Reply(0)
সাইমন ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:৫০ পিএম says : 0
পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা কোনভাবেই ঠিক হবে না।
Total Reply(0)
S M. Bahauddin shah ১ অক্টোবর, ২০১৬, ১০:৩৫ এএম says : 0
মানবতার কথা চিন্তা করে উভয় দেশেরমধ্যে আলচনায় বসে একটি শান্তি চুক্তিতেআবদ্ধ হওয়া উচিত। ভারত সরকার কাশ্মীেরের জনগণের প্রতিযে জুলুম করছে তা বন্ধ করে তাদেরকে স্বাধীন দেওয়া উচিত।
Total Reply(0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন