বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

লেনদেনের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তারা

রাসেল ও তার স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী (চেয়ারম্যান) শামীমা নাসরিন। তিন দিন রিমান্ডের শেষ দিন গতকাল সোমবার রাসেল ও তার স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলশান থানা পুলিশ। তবে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি আবারও অস্বীকার করেন দুজনই। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এমন একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রিমান্ডের বিষয়ে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে রাসেল ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ও সেলারদের কাছে পাওনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। পাশাপাশি তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রিমান্ডের তৃতীয় দিন ই-ভ্যালির বর্তমান পরিস্থিতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতিবাচক প্রতিবেদন, গ্রাহক ও সেলারদের অসন্তোষ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাসেল বলেন, তার ব্যবসায়িক কৌশলে কিছু ভুল ছিল। পাশাপাশি করোনাকালীন লকডাউনের কারণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের ক্ষোভের পেছনে চেয়ারম্যানের (তার স্ত্রী শামীমা) কোনো দায় নেই বলেও দাবি করেন রাসেল।

গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, রাসেল প্রতিষ্ঠানের মালিক। মালিক হিসেবে তার দায় না নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কত টাকা খরচ করেছেন এবং কত টাকা দেনা আছে, ব্যাংকে কত টাকা আছে ইত্যাদি বের করার। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে তার কোনো প্রতারণা আছে কি না সেটিও জানার চেষ্টা চলছে। রিমান্ড শেষে রাসেলকে মঙ্গলবার সকালে নিম্ন আদালতে পাঠাবে পুলিশ।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাসেল ও তার স্ত্রীকে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। ৩৬ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে গত শনিবার মামলাটি দায়ের করেন একজন সেলার। এদিকে ই-ভ্যালির বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের কাছে ই-ভ্যালির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আমরা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনগুলো নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাতে র‌্যাব সদরদপ্তরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। পর দিন হস্তান্তর করা হয় গুলশান থানায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম তাদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চান। আদালত তাদের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের প্রথম দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও তার স্ত্রী ব্যবসায় কোনো ধরনের প্রতারণা করেননি বলে দাবি করেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে রাসেল বলেন, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা কারো সঙ্গে প্রতারণা করিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলার ও করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের কারণে অনেক ডেলিভারি হয়নি। যারা ডেলিভারি পায়নি ভবিষ্যতে টাকা পেয়ে যাবে। এখানে প্রতারণার কোনো বিষয় ছিল না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৩ এএম says : 0
তোমরা ওবায়দুল কাদেরের কাছে ফোন কর ।এবং বলিবা আমরা আওয়ামী লীগের অনুসারী দেখবে কিছু হবে না।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন