শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পাকিস্তানী বাহিনী বিমান যুদ্ধে ঘায়েল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:৫৬ পিএম

বিজয় মাসের আজ চতুর্থ দিন। হাজার বছর ধরে স্বাধীনতাহীন বাঙালী জাতি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ অর্জন করেছে এ মাসেই। ডিসেম্বরের মুক্তিযুদ্ধ এক ভিন্ন মাত্রা পেতে শুরু করে। বর্ষা, শরৎ আর হেমন্ত পেরিয়ে শুরু হয় শীতের মৌসুম। গ্রামবাংলা জুড়ে শীত নামে। কিন্তু শীত নেই মুক্তিপাগল বাঙালীর। চারদিকে ছিল পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দখলদার পাক হানাদারদের পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।
নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পাকিস্তানিরা সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি ক‚টনৈতিক যুদ্ধও শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের দোসর হয়ে ওঠে। কিন্তু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন অকৃপণ সহযোগিতায় সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। ৪ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কারণে সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়নি।

একাত্তরে এই দিন সকালে নয়াদিল্লীতে প্রবাসী সরকার এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধানরা আলোচনায় বসে দেখলেন যৌথ বাহিনী ঠিক ঠিকই এগিয়েছে। প্রথমত, তারা কোথাও শহর দখলের জন্য অগ্রসর হয়নি। দ্বিতীয়ত, কোথাও শত্রæ পাকিস্তানি ঘাঁটির সঙ্গে বড় লড়াইয়ে আটকে পড়েনি। তৃতীয়ত, পাকিস্তানি সমরনায়করা তখনও বুঝতে পারেনি ভারতীয় বাহিনী ঠিক কোন দিক দিয়ে ঢাকায় পৌঁছতে চাইছে। বরং তখনও তারা মনে করছে ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের মূল পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালাবে।

চতুর্থত, ব্যাপক বিমান এবং স্থল আক্রমণে শত্রæপক্ষকে একেবারে বিহŸল করে দেয়া গিয়েছিল। পঞ্চমত, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীকে অনেকটা ঘায়েল করে ফেলা হয়েছে। তাদের বিমান ঘাঁটিগুলোও বিধ্বস্ত। ষষ্ঠত, পাকিস্তানের প্রধান নৌবন্দরগুলো অর্থাৎ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চালনা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জে জাহাজ বা স্টিমার ভেড়ানোর ব্যবস্থাও অনেকটা বিপর্যস্ত এবং সপ্তমত, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক এবং বাড়িঘরও মোটেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী তাই যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেও একই লক্ষ্যে এগিয়ে চলল।
পশ্চিম দিক থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিফৌজের সব কয়টা কলাম সামনে এগিয়ে চলল। কিন্তু কোথাও তারা সোজাসুজি পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর দিকে এগুলো না। মূল বাহিনী সর্বদাই ঘাঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলল এবং ঘাঁটিতে অপেক্ষমাণ পাকিস্তানি বাহিনী যাতে মনে করে যে, ভারতীয় বাহিনী তাদের দিকেই এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে। সেজন্য প্রতি পাকিস্তানি ঘাঁটিতে অবিরাম গুলিবর্ষণও চলতে থাকল। এ উদ্দেশ্যে প্রতি পাকিস্তানি ঘাঁটির সামনে ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীর কিছু কিছু সদস্য রেখে যাওয়া হলো।

এদিকে ভারতীয় বিমান ও নৌবাহিনীর জঙ্গী বিমানগুলো বারবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, চালনা প্রভৃতি এলাকায় সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। ঢাকায় সেদিনও জোর বিমানযুদ্ধ হলো। কিন্তু সেদিনই প্রায় শেষ বিমানযুদ্ধ। অধিকাংশ পাকিস্তানী বাহিনী ঘায়েল হলো। বিমানবন্দরগুলোও বোমার আঘাতে প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
Md Bashar ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৪৫ এএম says : 0
বিজয় আমাদের গর্বের।
Total Reply(0)
মামুন রশিদ চৌধুরী ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৪৫ এএম says : 0
বিজয়ের মাসে সবাইকে অভিনন্দন।
Total Reply(0)
নিলিমা জাহান তনুশ্রী ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৪৬ এএম says : 0
মহান আল্লাহ আমাদের এই অসাধারণ বিজয়কে অক্ষুন্ণ রাখুন প্রতিবেশীদের কুনজর থেকে।
Total Reply(0)
সত্য উন্মোচন ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৪৬ এএম says : 0
বিজয়ে মাস ডিসেম্বর।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন