বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাড়বে যাত্রী পরিবহন গতিশীল হবে রেল

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ছাত্রসহ প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ঢাকার যানজট নিরসন এবং জনসংখ্যার চাপ কমাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলের গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীতের কাজ এখনো চলমান। এই পথে বর্তমানে মিটার গেজের একটি রেলপথ রয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জুরাইন রেলগেট পর্যন্ত রেলপথটি ডাবল লাইন করা হচ্ছে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের মাধ্যমে।

জুরাইন থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত একটি নতুন ডুয়াল গেজ লাইন নির্মাণ করে পুরো রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীতের কাজ করছে রেলওয়ে। এজন্য খরচ হচ্ছে ৬৩২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে সমান্তরালে ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য এ পথটি ডাবল লাইনে উন্নীত করা, যার মাধ্যমে সেকশনটিতে ট্রেন চলাচল আরো গতিশীল হবে, বাড়বে যাত্রী পরিবহন। তবে এ কাজে চাষাঢ়া স্টেশন এলাকার মাত্র ৩১ কাঠা জমি রেলপথটি ডাবল লাইন করার পথে বাধা হয়ে রেলওয়েরই অধিগ্রহণ করা জমিটি এখন বেহাত হয়ে চলে গেছে ব্যক্তি মালিকানায়।

রেলপথ তৈরির জন্য ১৮৮২ সালে চাষাঢ়া থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৬২ ফুট প্রস্থে জমি অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। তবে চাষাঢ়া স্টেশন সংলগ্ন রেলগেট টি-১ থেকে টি-২ পর্যন্ত ৩১ কাঠা জমি সিএস ও আরএস জরিপে ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড হয়ে যায়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নতুন ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের যখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়, তখন তারা ধরেই নিয়েছিলেন জমির মালিকানা রেলওয়ের হাতেই। এজন্য প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি। জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে নতুন রেলপথটির নকশা তৈরির সময়। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান ১৮৮২ সালে অধিগ্রহণ করা জমির বেশকিছু অংশ সিএস ও আরএস জরিপে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে গেছে। এসব জমিতে বর্তমানে টিনশেড থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভূমি অধিগ্রহণ আইনে বেদখল হয়ে যাওয়া দশমিক ৫১ একর জমি পুনরায় অধিগ্রহণ করতে খরচ হবে প্রায় ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর এ জমিতে যেসব স্থাপনা রয়েছে, পিডব্লিউডি নারায়ণগঞ্জ রেট অনুযায়ী সেগুলোর ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ হবে ৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেহাত হওয়া জমি পুনরায় দখলে নিতে রেলওয়ের খরচ হবে ১৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জমির দাম বেশি, অধিগ্রহণ করা জমি পুনরায় অধিগ্রহণ হলে অডিট আপত্তি উঠতে পারে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশ বাদ রেখেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পটির যাচাই কমিটির সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার বলেন, চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশটি ডাবল লাইন করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এ কাজটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে আপাতত চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশটি মিটার গেজ লাইন থেকে ডুয়াল গেজ লাইনে উন্নীত করার পক্ষে মত দেন তিনি। চাষাঢ়া স্টেশন থেকে রেলগেট টি-২ পর্যন্ত রেলভূমি বেদখল হওয়ার হাত থেকে রক্ষা এবং চাষাঢ়া ইয়ার্ডের শান্টিং-স্ট্যাবলিং সুবিধা বৃদ্ধির জন্যই এটা করতে হবে।

নিয়মিত ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, সকল বাঁধা অতিক্রম করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথটি ডুয়াল গেজ লাইনে উন্নীত করা প্রয়োজন। এই পথে ট্রেনের কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি করলে মানুষের সুবিধা হতো। রেলে যত সহজে যাতায়াত করা যায়, তা অন্য মাধ্যমে সম্ভব নয়। নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ লোকই এই পথে ঢাকায় নিয়মিত চলাচল করে। বিশাল জনগোষ্ঠির যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ঢাকার যানজট নিরসন এবং জনসংখ্যার চাপ কমাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলের অবদান অনেক। কাজেই দ্রুত ডাবল লাইনে রূপান্তর করাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps