ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কুয়েত দূতাবাসে ভিসা প্রার্থীদের ভোগান্তি চরমে

প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১৪ দিন যাবত পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে না কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাতিল হচ্ছে
শামসুল ইসলাম : ঢাকাস্থ কুয়েত দূতাবাসে কর্মীদের ভিসা পেতে গলদর্ঘম পোহাতে হচ্ছে। দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির দরুণ কুয়েত গমনেচ্ছু অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই গত ১০ অক্টোবর থেকে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কুয়েতগামী কর্মীদের ভিসা ইস্যুর জন্য পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে না। এতে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হবার আংশকা দেখা দিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই কুয়েত দূতাবাসে প্রায় ২ হাজার কর্মীর ভিসার জন্য পাসপোর্ট আটকা পড়েছে। গতকাল রোববার সকালেও প্রায় ৫০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক-প্রতিনিধিরা কুয়েত গমনেচ্ছু কর্মীদের পাসপোর্ট জমা দেয়ার জন্য কুয়েত দূতাবাসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। অজ্ঞাত কারণে তাদের পাসপোর্ট জমা নেয়া হয়নি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট কবে নাগাদ জমা নেয়া হবে তা’ও জানানো হয়নি। প্রতি দিনই পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা দিতে না পেরে তারা নিরাশ মনে বাড়ি ফিরেছে। প্রায় তিন হাজার ভিসা সংগ্রহকারী দরিদ্র পরিবারের কর্মীরা ঋণের বোঝা ঘারে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কর্মীদের পাসপোর্ট ১৫/২০ দিন আগে দূতাবাসে জমা দেয়া হলেও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ২/৩ দিন আগে দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব কর্মীদের তড়িঘড়ি করে কুয়েত পাঠাতে চরমভাবে হয়রানি হতে হচ্ছে এজেন্সিগুলোকে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়া না হলে সম্ভাবনাময় কুয়েতের শ্রমবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কুয়েত গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে দূতাবাসে কারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে তা’ খতিয়ে দেখা জরুরী হয়ে পড়েছে। একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল কুয়েত দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাভেদ করিমে সাথে ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কুয়েতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ ছিল। ২০০৬ সালে ৩৫ হাজার ৭শ’ ৭৫জন কর্মী কুয়েতে চাকরি লাভ করেছিল। বহু কূটনৈতিক তৎপরতার পর কুয়েতের শ্রমবাজারে বরফ গলতে শুরু করে। ২০১৫ সালে ১৭ হাজার ৪শ’ ৭২ জন এবং গত জানুয়ারী থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়েতে ২৪ হাজার ৪শ’ ৩২ জন কর্মী কর্মসংস্থান লাভ করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৪শ’ ৬৪ জন কর্মী কুয়েতে চাকরি লাভ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়েত গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা ইস্যু নিয়ে একটি চক্র মনোপলি ব্যবসা করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে। ফ্লাই দুবাই-এর জিএসএ সাইফুল ইসলাম গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সার্ভিসের মাধ্যমে কুয়েত দূতাবাসের ভিসা সংক্রান্ত এজেন্ট লাভের জোর লবিং চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের এজেন্ট নিয়োগ করা হলে কুয়েতগামী কর্মীরা ঐ এজেন্টের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজন রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত রমজান থেকে কুয়েত দূতাবাসে ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত জটিলতা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে এসব দেখার কেউ নেই। কেউ কেউ ভিন্ন পথে ২শ’ মার্কিন ডলারের বকশিসের বিনিময়ে পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা দিচ্ছে বলেও অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এতে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী এতথ্য জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও বিএমইটি’র মহাপরিচালক সেলিম রেজাকে বিষয়টি অবহিত করে কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। সোহাগ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, প্রতিদিন কুয়েতে কর্মী প্রেরণের জন্য পাসপোর্ট নিয়ে কুয়েত দূতাবাসে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট কেন জমা নিচ্ছে না তা’ বুঝে আসে না। তিনি বলেন, যথা সময়ে কুয়েতগামী কর্মীদের ভিসা হাতে না পাওয়ায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন