শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

৬ বছরেও শুরু হয়নি খুলনা মংলা রেলপথ নির্মাণ কাজ

ঝুলে আছে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া : মহিষ প্রজনন খামার নিয়ে জটিলতা

প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : ৬ বছরেও শুরু হয়নি খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ কাজ। দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলার সঙ্গে খুলনার রেল সংযোগ স্থাপন প্রকল্প নেয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর পরামর্শক নিয়োগ ও নকশা প্রণয়নেই চলে গেছে প্রায় ৫ বছর। গত অক্টোবরে প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। তবে এখনো জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আবার রেলপথের মধ্যে অবস্থিত মহিষ প্রজনন খামার নিয়েও রয়েছে জটিলতা। লিখিতভাবে ওই সমস্যা সমাধান হলেও বাস্তবে হয়নি। এসব সমস্যা সমাধান ও খুলনা-মংলা রেলপথের অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তে গত ১ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, প্রকল্পটির পরামর্শক নিয়োগেই দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। ২০১২ সালের জুনে এ-সংক্রান্ত চুক্তি করা হয়। প্রাথমিক সমীক্ষা শেষে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শুরু করা হয় আরো এক বছর পর। আর ২০১৪ সালের জুনে বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত করা হয়। এর এক বছর পর প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে হয় দ্বিগুণের বেশি।
রেলওয়ের তথ্যমতে, প্রকল্পটি দুই প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজের আওতায় রূপসা রেল সেতু নির্মাণে চুক্তি হয় গত বছর ২৪ আগস্ট। দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় রয়েছে মূল রেলপথ নির্মাণ। এটির জন্য চুক্তি হয় ২০ অক্টোবর। তবে কোনো প্যাকেজের ভৌত কাজই এখনো শুরু হয়নি। যদিও ২০১৪ সালেই প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সূত্র মতে, খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ৭৬৭ একর জমির প্রয়োজন। এর মধ্যে সরকারের খাস জমি ২২ দশমিক ৫০ একর। ৯০ একর জমি হস্তান্তর করবে মংলা বন্দর। আর মহিষ প্রজনন কেন্দ্রের জমি রয়েছে ৩ দশকি ৬৭ একর। বাকি ৬৭৬ দশমিক ৩০ একর অধিগ্রহণ করতে হবে। এজন্য ১ হাজার ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০৮ কোটি টাকা দেয়া হলেও মাত্র সাড়ে সাত একর জমি বুঝে পেয়েছে রেলওয়ে। ২০১৪ সালে খুলনায় ৪০১ দশমিক ২৮ একর জমির জন্য ৭২৯ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করে জেলা প্রশাসক। আর ৬৪৬ কোটি টাকা প্রদান করে রেলওয়ে। তবে মাত্র দেড় একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর সরকারি খাস জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটে ২৭৫ একর জমির জন্য ২৭৮ কোটি টাকা চায় জেলা প্রশাসন। এর বিপরীতে ২৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা দেয়া হলেও এখনো কোনো জমি পাওয়া যায়নি। এর বাইরে মংলা বন্দরের ৬ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানতে চাইলে রেলপথ সচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, প্রকল্পের কাজের জন্য পুরো জমি একসঙ্গে দরকার নেই। পর্যায়ক্রমে জমি দরকার হবে। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় জমি বুঝে পাওয়া গেছে। ঠিকাদাররা সয়েল টেস্ট শুরু করেছে। রেলপথের অ্যালাইনমেন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি জমিও দ্রুতই পাওয়া যাবে। শিগগিরই রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
জানা গেছে, মহিষ খামারের ভেতরে ১ হাজার ১০০ ফুট জায়গার ওপর দিয়ে রেলপথ অতিক্রম করবে। এজন্য ৩ দশমিক ৬৭ একর জমির প্রয়োজন, যা মহিষের চারণভূমির মধ্য দিয়ে যাবে। এতে আপত্তি তোলে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। পরে মহিষের প্রজনন ক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে উড়ালপথে রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব করে রেলওয়ে। এতে একটি মহিষের শেড সামান্য ভাঙতে হবে। তবে এ প্রস্তাবেও আপত্তি জানায় সংস্থাটি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করা হয়। এতে মহিষ প্রজনন খামারকে কিছুটা পশ্চিম দিকে স্থানান্তরের সুপারিশ করে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে খুলনা-মংলা রেলপথ বিদ্যমান অ্যালাইমেন্টেই ভূমিতে থাকবে। আর মহিষের চারণভূমি কিছু স্থানান্তর করা হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ করে দেবে রেলওয়ে। এতে সম্মত হয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, রেলপথ এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও কমিটিতে রয়েছেন। ওই কমিটি ফিল্ড ভিজিট করে প্রতিবেদন দেবে। এর ভিত্তিতে রেলপথটি নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ২০১০ সালে খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়। এখন আর এর অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে মহিষের খামারটি কিছুটা পশ্চিম দিক দিয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মধ্যে এটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। পরে এর নির্মাণকাল বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। আর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। তবে নির্মাণকাল বিলম্বে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps