বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ছড়াবে সুগন্ধি প্রতিরোধ করবে পোকা-মাকড়

গাজীপুর থেকে জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় আবারো নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। ব্রি’র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘ক্রিসপার ক্যাস-৯’ পদ্ধতিতে সুগন্ধি এবং মাজরা ও বাদামি ঘাসফড়িং (কারেন্ট পোকা) প্রতিরোধি জিন ঢুকিয়ে মিলবে ধানের নতুন জাত। ব্রি সূত্র জানিয়েছে, ফসলের জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ইনট্রোডাকশন, ক্রসিং ও সিলেকশন, হাইব্রিডাইজেশন, মিউটেশন ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। পরে জেনেটিক্যাল মডিফাইড ক্রপস (জিএমও) প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়। কিন্তু এসব প্রযুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে সারাবিশ্বে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এদিক থেকে ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তিটি আধুনিক এবং বিতর্কমুক্ত। এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান জার্মানির বিজ্ঞানী ইমান্যুায়েল চার্পেনিয়ার ও আমেরিকার জেনিফার দোদনা। এরপর থেকেই ফসলের জাত উন্নয়নে কৃষি বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিদুতে পরিণত হয় ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তি। ২০২০ সালের শুরুতে ব্রি’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কীটতত্ত্ববিদ ড. মো. পান্না আলীর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সম্প্রতি তারা সফলও হয়েছেন। সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধি বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে তারা ধানের ২৪টি গাছ পান। তারপর থেকেই উজ্জিবিত ব্রি’র বিজ্ঞানীরা। কীটতত্ত্ববিদ ড. পান্না আলী জানান, ‘সুগন্ধি চাল এবং মাজরা ও বাদামি ঘাসফড়িং পোকা প্রতিরোধি ধানের জাত উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। কারণ প্রচলিত জাতগুলোর চেয়ে সুগন্ধি চালের ফলন অনেক কম। এ কারণে আমাদের দেশের কৃষকরাও সুগন্ধি ধানের জাত চাষ করতে চায় না।’ তবে তিনি জানান, সুগন্ধি চালের দাম অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে এই চালের রয়েছে বিশাল বাজার। তা ছাড়া মাজরা ও কারেন্ট পোকার কারণে কৃষকরা প্রায় ১০-১৮ ভাগ ফলন হারান। এই পোকা দমনে কৃষকদের প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব চিন্তা থেকেই সুগন্ধি চাল এবং পোকা প্রতিরোধি ধানের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা শুরু করেন গবেষকরা। এ অবস্থায় দেশে বহুল চাষকৃত ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৮৯ ও ব্রি ধান ৯২ জাতের ধানে ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুগন্ধি বৈশিষ্ট্য ঢুকানো হয়। সেই সঙ্গে জিন পরিবর্তন করে মাজরা পোকা ও বাদামি ঘাসফড়িং প্রতিরোধি বৈশিষ্ট্য প্রবেশ করানো হয়। ড. পান্না আলী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধী ২৪টি গাছ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ধানের শীষগুলো পাকতে শুরু করেছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বীজ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। এ সফলতায় আমরা দারুণ আনন্দিত ও উজ্জিবীত।’ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রি উচ্চ ফলনশীলসহ বিভিন্ন প্রকার ধানের ১০৬টি জাত উদ্ভাবন করেছে। তবে মুজিববর্ষে এসে তাদের সফলতার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধি ধানের জাত। এটি ব্রি’র একটি যুগান্তকারী সফলতা।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps