শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

যাত্রা বাতিল ১১ রেলের

মাইলেজ জটিলতায় চালক সঙ্কট

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

চালকদের মাইলেজ জটিলতার জেরে গতকাল বুধবার বিভিন্ন রুটে ১১টি রেলের যাত্রা বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চালক সঙ্কটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। মাইলেজ আন্দোলনের অংশ হিসেবে চালকরা ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি না করার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ৫টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী ৩টি শাটল ট্রেন এবং লালমনিরহাট থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ৩টি লোকাল রেলের যাত্রা বাতিল করা হয়।

রেলের রানিং স্টাফরা অতিরিক্ত ডিউটি পালন করায় ব্রিটিশ আমল থেকে অতিরিক্ত বেতন ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি এসব সুযোগ-সুবিধা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেলের রানিং স্টাফরা আন্দোলেনের ডাক দেয়। প্রাথমিকভাবে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার কর্মসূচির ফলে চালক সঙ্কটে পড়েছে রেল। আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে মাইলেজ সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে রেলের রানিং স্টাফরা।
আগের নিয়মে মাইলেজ ভাতার দাবি পূরণ না হলে আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চালানো বন্ধের ঘোষণা দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারকে চিঠি দিয়েছে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও কর্মচারী শ্রমিক সমিতি। তবে ২৫ জানুয়ারি থেকে কর্মঘণ্টার বেশি কাজ না করার ঘোষণার বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টি সুরাহা করতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। অর্থ সচিবের সঙ্গেও কথা চলছে। ৩১ জানুয়ারির আগেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।
রেলের চালক (লোকো মাস্টার), গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটি) রানিং স্টাফ বলা হয়। তারা দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বা ১০০ মাইলের বেশি ট্রেন চালালে একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা মাইলেজ বা রানিং ভাতা হিসেবে পেতেন। ভাতার ৭৫ শতাংশ পার্ট অব পে হিসেবে ধরে পেনশনে যোগ হতো। গত ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে জানায়, মাইলেজ ভাতা পেনশনে যোগ হবে না। ভাতার পরিমাণ মাসিক মূল বেতনের বেশিও হতে পারবে না। এ প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলতরত রানিং স্টাফ সমিতির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ৩১ জানুয়ারি থেকে রেল না চালালে কী পরিস্থিতি হবে, তা রেলের কর্তৃপক্ষকে বোঝাতেই আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না চালকরা।
নেতারা বলেছেন, ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে একটি ট্রেনের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাগে। মাঝ রাস্তায় রেল বন্ধ না করে শেষ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে, যাতে যাত্রী দুর্ভোগ না হয়। কিন্তু পণ্যবাহী ট্রেন আট ঘণ্টার বেশি চালাবেন না চালকরা। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ১২ ঘণ্টা বিশ্রাম পাওনা চালকের। চালক সঙ্কটের কারণে তিন চার ঘণ্টার বেশি বিশ্রাম পান না। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে যাত্রা সম্পন্নের পর ১২ ঘণ্টা বিশ্রাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চালাবেন না।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রেলের চালকসহ রানিং স্টাফদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এতোদিন অতিরিক্ত সময় ডিউটি করেছি। আগে বিশ্রাম না নিয়ে অতিরিক্ত সময় ডিউটি করলে সুযোগ-সুবিধা পেতাম।
কিন্তু সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছে। যাতে করে সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে বিশ্রাম না নিয়ে চাকরি করতাম। কিন্তু আমাদের মাইলেজ সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে। এক বছর ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন দাবি দিয়েছি। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি না মানলে ৩১ তারিখ থেকে রানিং স্টাফরা কর্মবিরতিতে যাবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন