শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ইসলামী জীবন

দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

| প্রকাশের সময় : ২৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

প্রশ্ন : আমার বাসার কাজের বুয়া প্রতিদিনই কিছু না কিছু চুরি করে। বললেও স্বীকার করে না। এই মুহূর্তে আর কোনো অপশন নাই তাকে বাদ দেয়ার। আমি তার প্রতি নির্দয় হতে চাই না। কি করি?
উত্তর : সরিয়ে ফেলার মতো জিনিসপত্র গুছিয়ে বা তালা মেরে রাখুন। যদিও এটি খুবই কঠিন কাজ। চুরি করতে চাইলে অনেক কিছুই করা যায়। যদি এটি তার অভাবজনিত কারণে হয়ে থাকে, তাহলে তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিন। পাশাপাশি অন্য বাসায়ও কাজের সুযোগ দিন। যদি চুরি করা অভ্যাসবশত হয়ে থাকে, তাহলে, এসবে কাজ হবে না। চোখে চোখে রাখুন। যেহেতু বিদায় করার উপায় নেই, তাই শাস্তি দিয়েও লাভ নেই। শুনে খুশি হলাম যে, আপনি তার প্রতি নির্দয় হতে চান না। এটি বড় গুণ। দয়া করুন, ক্ষমা করতে থাকুন, সম্ভব হলে বুঝিয়ে বলুন ও আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। হয়তো তার অভ্যাস ফিরে যাবে। অন্য মানুষও পেয়ে যেতে পারেন। তা ছাড়া এসব অত্যাচার ও ক্ষতি সহ্য করার ফলে আল্লাহ আপনাকে অনেক বেশি প্রতিদান দিতে থাকবেন।
প্রশ্ন : আমাদের দেশে প্রায়ই ধর্ষণকারীর সাথে ভিকটিমকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে জেনাকারীর কোনো শাস্তি হয় না। মেয়েটিকে সমাজের চাপে পড়ে মেনে নিতে হয়। এ পক্ষত্রে ইসলাম কী বলে? মেয়েটি কী বিচার পাবে?
উত্তর : ধর্ষণকারীর শাস্তি ক্ষেত্রবিশেষে বেত্রাঘাত বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু। অসহায় ধর্ষিতার কোনো শাস্তি বা গুনাহ নেই। আমাদের দেশে শরিয়তের আইন চালু নেই, অতএব দেশীয় আইনে যে বিচার আছে তাই হওয়া উচিত। তবে এ দেশে সাধারণত অসহায় পক্ষ আইন আদালত করেও সুবিচার পায় না। তাদের ক্ষমতা ও টাকা কিছুই থাকে না। ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টা আরো জুলুম করে। এসব বিবেচনায় লোকেরা মেয়েটিকে ধর্ষকের হাতেই গছিয়ে দেয়। কারণ, এমন মেয়ের বিয়ে দেয়া কঠিন। উপস্থিত এ সমাধানটিই মন্দের ভালো বলে বিবেচনা করা হয়। এ সুযোগে ধর্ষকও শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। ইসলামি মতে শাস্তি হওয়া জরুরি, এরপর বিয়ের প্রশ্ন। বিয়ে করে ফেলা শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো রাস্তা নয়। নিরুপায় মানুষ অল্পে রক্ষা পেতে চায়, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা বলতে কিছু থাকে না। জীবন-মরণ সমস্যায় মনের কষ্ট কিছুই না। অতএব, এ দেশে অসহায় ধর্ষিতাদের এমন বিভীষিকাময় সংসার করতে হয়। এরপরও নানা ফেকরা লেগেই থাকে। দীর্ঘ প্রায় হাজার বছর ইসলামি শরিয়ায় শাসিত বাংলাদেশে মানব রচিত আইনের কুফল এসব। সমাজব্যবস্থা ভেঙে নতুন করে না সাজানো পর্যন্ত এসব কান্না ও হাহাকার শেষ হবে না।
প্রশ্ন : আমার স্ত্রীর সাথে বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক ছিল। আমি বিয়ের পর আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়েছি। এটি কি জেনা হবে? এখন কী করণীয়?
উত্তর : বিবাহপূর্ব মিলন অবশ্যই জেনা হয়েছে। এ জন্য সারাজীবন কঠিন তওবা ও কান্নাকাটি করে যেতে হবে। যেহেতু পরে বিয়ে করেছেন, তাই বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন। তওবা ইস্তেগফার ও দোয়া বন্ধ করবেন না। মৃত্যু পর্যন্তই ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকুন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন