ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরকে ফুল দিতে গিয়ে চট্টগ্রামে আ’লীগের দুই গ্রুপে মারামারি

প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে হাতাহাতি, ঘুষাঘুষিতে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নেতাকর্মীদের দু’টি গ্রুপ। গতকাল (শনিবার) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ ঘটনা ঘটে।
দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সংবর্ধনা সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম আসেন ওবায়দুল কাদের।
তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে সার্কিট হাউসে হাজির হন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও ঘুষাঘুষিতে জড়িয়ে পড়েন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশেদ মনোয়ারের অনুসারীদের মধ্যে এ মারামারি হয়। এ সময় এক পক্ষ অপর পক্ষের দিকে তেড়ে যায় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে। সার্কিট হাউসের নিচতলায় হাতাহাতি, ধস্তাধস্তির মধ্যে চলে মল্লযুদ্ধ। একজন অপরজনের গলা টিপে ধরে, কেউ কাউকে ঘুষি মারতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ এ অবস্থা চলার পর নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনার সময় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও রাশেদ মনোয়ার ছাড়াও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন এবং শ্রমবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
মোতাহেরুল বলেন, তেমন কোনো সমস্যা হয়নি, ফুল তো সবাই দিলাম। হাতাহাতির ঘটনা উপস্থিত লোকজন দেখেছে জানালে তিনি বলেন, সামান্য ব্যাপার, পার্টির মধ্যে এগুলো হয়ই।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা সভাপতি রাশেদ বলেন, আমরা সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। ওই সময় কিছু ‘সাইড টক’ হয়েছে। আমাদের একজন জুনিয়রকে মোতাহেরুল ইসলামের লোকজন গলা টিপে ধরে। এ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ‘কিছু সমস্যার’ কথাও দলের সাধারণ সম্পাদককে জানান রাশেদ। তিনি বলেন, আমরা এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করতে পারছি না। সেটা তাকে বলেছি। তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় উপজেলার বড়লিয়া ও শোভনদ-ি ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাদের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের নাম বাদ দিয়ে কেন্দ্রে অন্য নাম জমা দেয়া হয় বলে অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশেদ মনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের।
এ বিষয়ে গত অক্টোবরে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে তারা লিখিত অভিযোগ করেন। গত ৩ অক্টোবর এ বিষয়ে লিখিতভাবে দলের সেসময়ের সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরকেও জানানো হয়।
এর দুই দিন পর ৫ অক্টোবর পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের ৩৪ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৩৩ জন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থা জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে তাদের অপসারণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে দলের বাইরের লোকজনকে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ তোলেন আনোয়ারার সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। সেই থেকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিরোধ তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন