বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

গোল্ডেন বিলিয়নের আগ্রাসন এবং পুতিনের দৃষ্টিভঙ্গি

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০২২, ১২:০১ এএম

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির বর্তমান অবস্থাকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘গোল্ডেন বিলিয়ন’ বা স্বর্ণময় ১শ’ কোটি নামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গোল্ডেন বিলিয়ন বিশ্বকে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষে বিভক্ত করে এবং সেকারণেই মূলত বর্ণবাদী এবং নব্য ঔপনিবেশিক।’ বুধবার মস্কোতে বক্তৃতায় পুতিন ঘোষণা করেন যে, তথাকথিত গোল্ডেন বিলিয়নের আধিপত্যের ধারাটি সম্পূর্ণ অন্যায্য। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পৃথিবীর সমস্ত জনসংখ্যার মধ্যে এই সোনালী বিলিয়ন কেন সবার উপরে আধিপত্য বিস্তার করবে এবং নিজস্ব নিয়ম-নীতি চাপিয়ে দেবে?

ফেব্রুয়ারী থেকে রাশিয়া দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেন সঙ্ঘাতের জন্য রাশিয়া দায়ী নয় বরং এর বিরুদ্ধে একটি অনিবার্য বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। পুতিন বলেন, ‘অবশ্যই, এই গোল্ডেন বিলিয়ন একটি কারণে স্বর্ণালী হয়ে উঠেছে। এটা অনেক অর্জন করেছে। তবে এটি কেবল কিছু বাস্তবায়িত ধারণার জন্যই এই অবস্থানে আসেনি, অনেকাংশে এটি এশিয়া এবং আফ্রিকায় অন্যান্য জনগণকে লুট করে তার অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রকৃতপক্ষে এটাই ঘটেছে। দেখুন ভারত কিভাবে লুণ্ঠিত হয়েছে।’

‘গোল্ডেন বিলিয়ন’ তত্ত্ব¡টি ১৮ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ অর্থনীতি ও জনসংখ্যাবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাস তৈরি। ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়ান বুদ্ধিজীবী সের্গেই কারা-মুর্জা লিখেছিলেন যে, গোল্ডেন বিলিয়ন মানে উচ্চ আয়ের গণতন্ত্রের জনসংখ্যা যেমন, ওর্গানাইজেশন অফ ইকোনোমিক কো-অপারেশন এন্ডডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) বা জি-৭ এর অন্তর্গত দেশগুলি, যারা বিশ্বের সম্পদকে একটি অন্যায্য অনুপাতে ব্যবহার করে।

এ. কুজমিচ ছদ্মনামে আনাতোলি যিকুনভও ৯০’র দশকে তার ‘দ্য প্লট অফ ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট: রাশিয়া অ্যান্ড দ্য গোল্ডেন বিলিয়ন’ এ ধনীদেশগুলির রাশিয়ার বিরুদ্ধে পৃথিবীর শেষ সময়ের ষড়যন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। যিকুনভ তার বইয়ে লিখেছেন যে, ধনী পশ্চিমা অভিজাতরা পরিবেশগত পরিবর্তন ও বৈশ্বিক বিপর্যয়ের কারণে বিশ্ব সম্পদ দখলের আরও প্রতিযোগিতা ঘটবে বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত তাদের ১ বিলিয়ন বা ১শ’ কোটি জনসংখ্যা বাদে সকলের জন্য বিশ্বকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে। এই অভিজাতরা উপলব্ধি করে যে, রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ বিশাল আয়তন এবং উত্তরে অবস্থানের কারণে তাদের নিজেদের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও উপায়ে দেশটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ, যাকে কেউ কেউ পুতিনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে দেখেন, মে মাসে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আর্গুমেন্তি আই ফ্যাক্তির একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পশ্চিম মানবাধিকার, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের কথা বলতেই পারে, কিন্তু গোপনে এটি গোল্ডেন বিলিয়নের মতবাদ অনুসারে কাজ করছে।’ তিনি এও বলেন, ‘করোনা মহামারীটি এই উদ্দেশ্যে ঘটানো হতে পারে এবং সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, লন্ডন এবং ওয়াল স্ট্রিটের মুষ্টিমেয় কিছু ধনকুবেরের জন্য বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে।’

দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকাতে আধিপত্য ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এবং এই তিনটি অঞ্চলে পশ্চিমারা মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯ মার্চ সাবেক রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট এবং রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান, দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন, ‘আপনারা নিজেকে যত খুশি গোল্ডেন বিলিয়ন ঘোষণা করতে পারেন, তবে বিশ্বের জনসংখ্যা বহুগুণ বেশি, এবং স্বর্ণের চেয়ে অন্য ধাতুগুলি অনেক বেশি ব্যয়বহুল।’

অনেক বিশ্লেষক যুদ্ধের মূল কারণকে রাশিয়ানদের জন্য পুতিনের আকাক্সক্ষা হিসাবে নয়, বরং আঞ্চলিক বৈধতা অব্যাহত রাখার জন্য পুতিনের ইচ্ছা হিসাবে দেখেন। ইতিহাসবিদ ইয়েকভ ফেইগেন এই সপ্তাহে লিখেছেন, ‘যুদ্ধটি পুতিনকে রাশিয়ার রাজনীতির শীর্ষে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছে যিনি অপূরণীয় ব্যক্তি হিসাবে দায়িত্বে আছেন।’ তবে প্রশ্ন হ’ল, এই মহান রাজনীতিবীদের কৌশল কি গোল্ডেন বিলিয়নের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন এবং উপনিবেশ বিরোধী ভয়ের সাথে সহাবস্থান করতে পারবে? আপাতত, ক্রেমলিন তাই আশা করছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
Chandan Amin ২৪ জুলাই, ২০২২, ৫:৪৮ এএম says : 0
একটা মানুষকে জগন্য থেকে জগন্যত করতে হলে তার সম্পর্কে কুৎসা রটান কিংবা তাকে নিয়ে আপনি যেই লেভেলের সেই লেভেলের সমালোচনা করুন। এতে সেই মানুষটার ক্ষতি না হলেও আপনি যে একজন কুৎসিত মনের মানুষ তা প্রকাশ পাবে। এটা উইলিয়াম বার্নাস এর বেলায় প্রযোজ্য।
Total Reply(0)
Bishwajit Kumar Ray ২৪ জুলাই, ২০২২, ৫:৪৮ এএম says : 0
কিছুদিন আগে মি. পুতিনের ক্যান্সার হয়েছে ফলাও করে নিউজ করেছে পশ্চিমা মিডিয়া
Total Reply(0)
Moshiur Rohman ২৪ জুলাই, ২০২২, ৫:৪৯ এএম says : 0
যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেন দখল করে, এই যুদ্ধ শেষ করুন। এত আমেরিকার উপযুক্ত শিক্ষা হবে, বিশ্বে স্থিতি আসবে।
Total Reply(0)
Tushar Chakma ২৪ জুলাই, ২০২২, ৫:৫০ এএম says : 0
মেঘ দেখে কেউ করিস নি ভয়,আড়ালে তাঁর সূর্য হাসে।।যত বড়,বড় হুমকি আসবে তত পরাজয়ের পথে।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন