শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬ বৈশাখ ১৪৩১, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হিজাবি ছাত্রীরা কারো শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে না

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে ছাত্রীদের আইনজীবী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

হিজাবের বিষয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এমন কিছু আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্বকারী সিনিয়র অ্যাডভোকেট দুশান্ত দেব গতকাল সুপ্রিম কোর্টকে বলেছেন, ‘হিজাব নারীর মর্যাদা বাড়ায় এবং তিনি যখন হিজাব পরেন এটি তাকে আরো বেশি মর্যাদাবান করে তোলে, যেমন একজন হিন্দু নারী তার মাথা ঢেকে রাখেন, এটি খুবই মর্যাদাপূর্ণ’।
বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত এবং সুধাংশু ধুলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দেবকে বলেন, ‘মর্যাদার সংজ্ঞা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এটি পরিবর্তিত হচ্ছে’- দেব উত্তর দেন, সত্যি!

দেব যুক্তি দেন, স্কুলে হিজাব পরা মেয়েরা কারো শান্তি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে না, তাদের মাধ্যমে কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। তিনি আরো বলেন, জনশৃঙ্খলার একটি মাত্র দিক রয়েছে, যা যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
দেব প্রশ্ন করেন, মেয়েরা হিজাব পরতে চায়, তাহলে কার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে? অন্য ছাত্রদের? স্কুলের? তিনি শবরীমালা রায় এবং হিজাব মামলার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। জবাবে বেঞ্চ বলেন, সেক্ষেত্রে আবেদনকারীদের মন্দিরে প্রবেশের মৌলিক অধিকার নেই। দেব বলেন, এখন এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সবাই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবে।

বেঞ্চ দেবকে প্রশ্ন করেন, অনেক স্কুলে বৈষম্য থাকতে পারে, তাই ইউনিফর্ম আছে এবং কে ধনী বা দরিদ্র দেখা হয় না। উত্তরে দেব বলেন, আমি ইউনিফর্মের পক্ষে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই স্বতন্ত্র পরিচয় পছন্দ করে।
বেঞ্চ বলেন, এটির একটি খুব সীমিত প্রশ্ন রয়েছে - হেডগিয়ারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে কিনা? দেব বলেন, ইউনিফর্ম সমাজে একটি অপ্রয়োজনীয় বোঝা এবং বেশিরভাগই এটি বহন করতে পারে না।

দেব দাবি করেন, কর্ণাটের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে একের পর এক কাজ করা হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কর্ণাটক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে বলেন, ‘আমরা কোনো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে নেই। অনুগ্রহ করে বিতর্কে থাকুন’।
বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত এবং সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চকে মেহতা জানান, ইউনিফর্মের উদ্দেশ্য হল সমতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং অভিন্নতা এবং যখন কাউকে এর সীমা অতিক্রম করতে দেয়া হয়, তখন সে ব্যক্তিকে উচ্চতর বিবেচনা করা হয়।
তিনি বলেন যে, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং এমনকি ইরানের মতো সাংবিধানিকভাবে ইসলামিক দেশগুলিতেও সমস্ত মহিলা হিজাব পরে না, এর পরিবর্তে তারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তিনি যোগ করেছেন যে, কুরআনে এর উল্লেখ ‘অর্থাৎ এটি অনুমোদিত.. অপরিহার্য নয়’।
মেহতা আরো প্রশ্ন করেন যে, এটি কি এতটাই বাধ্যতামূলক যে, যারা এটি মেনে চলে না তাদের বহিষ্কার করা হয় বা তারা এটি ছাড়া তাদের অস্তিত্বের কথা ভাবতে পারে না?

এসময় বিচারপতি ধুলিয়া বলেন, তারা (আবেদনকারীরা) বলছে, আমরা ইউনিফর্ম পরব এবং তারা বলছে না আমরা ইউনিফর্ম পরব না। তিনি মেহতাকে জিজ্ঞাসা করেন, ইউনিফর্মে মাফলার না থাকাবস্থায় যদি কোনো শিশু শীতকালে মাফলার পরে তাকে কি আটকানো হবে? মেহতা বলেন, নিয়ম বলে যে, কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারবে না এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলে একজনকে ইউনিফর্ম পরতে হবে।
বিচারপতি গুপ্ত তখন মেহতাকে জিজ্ঞাসা করেন, একটি চামড়ার বেল্ট যদি ইউনিফর্মের অংশ হয় এবং কেউ বলে যে, আমরা চামড়া পরতে পারি না, তাহলে এটি কি অনুমোদিত হবে?

মেহতা বলেন, ইউনিফর্মে যদি ছোট প্যান্ট বলা হয়, তবে কেউ এটি এত ছোট পরতে পারে না যে, এটি অশালীন পর্যায়ে যায় এবং সবাই ইউনিফর্ম এবং শৃঙ্খলা বোঝে। তিনি যোগ করেছেন যে, কিছু দেশে মহিলাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই, তবে তিনি কোনো ধর্মের সমালোচনা করছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন।
শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, হিজাব পরা জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য বা নৈতিকতার জন্য হুমকি।
মেহতা বলেন, ইউনিফর্মটি স্কুলগুলোতে অপরিহার্য শৃঙ্খলার অংশ হিসাবে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে তারপরে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আন্দোলন শুরু হয় এবং আন্দোলনটি একটি আন্দোলন তৈরির জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।

তিনি যোগ করেছেন, হিজাব পরা শুরুর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা ছিল এবং এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত কাজ ছিল না, বরং এটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ ছিল এবং শিশুরা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছে।
বিচারপতি ধুলিয়া মৌখিকভাবে মন্তব্য করেছেন যে, কর্ণাটক হাইকোর্টের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন পরীক্ষায় যাওয়া উচিত ছিল না। মেহতা সম্মত হন যে, উচ্চ আদালত অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলনের ইস্যুতে যাওয়া এড়াতে পারত, তবে তিনি যোগ করেছেন যে, আবেদনকারীরাই ‘হিজাব একটি অপরিহার্য’- এ যুক্তি উত্থাপন করে আদালতে গিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ১৫ মার্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনের শুনানি করছে। আজ বুধবারও এ বিষয়ে শুনানি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র : আইএএনএস।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Pmrafiqulislam ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:১৯ এএম says : 0
হিজাব হলো বডি গার্ড নারী জাতির দন্য, বিরুধীতা করে যারা শিয়াল বানরে গন্য৷
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন