মঙ্গলবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাজেট সহায়তায় জাইকার ৬০ কোটি ডলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০৭ এএম

দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশকে ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিতে চায় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১০৫ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গতকাল সোমবার জাইকার বিদায়ী বাংলাদেশ প্রধান ইয়ো হায়াকাওয়া এবং নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইডের সঙ্গে বৈঠক শেষ পরিকল্পনামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এটা আলোচনা পর্যায়ে আছে, এখনও চ‚ড়ান্ত হয়নি। যেহেতু আমি সরকারের একটা দায়িত্বে আছি, তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বাজেট সহায়তা চেয়ে জাইকাকে আভাস দিয়েছে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে, তাদের কথা শুনে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। তবে সবকিছুর আইনকানুন আছে, সেগুলো মেনেই কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস, সব প্রসেসিংয়ের পর আমরা বাজেট সহায়তা পাব।
এম এ মান্নান বলেন, এটা নিয়ে কাজ করবে ইআরডি। তবে যেহেতু সরকারে আছি, মন্ত্রণালয়ে আছি, তাই আলোচনা করেছি। পরিবেশটা অনেক ইতিবাচক। ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা জাইকা আমাদের দেবে। নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে জাপানি অর্থায়নে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। সেখানে কাজ করতে চায় জাইকা। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রকল্পটি দ্রæততর সময়ে একনেক সভায় উঠবে। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুতেও জাপান কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা আরও আগ্রহী। এ খাতে জাইকা কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা আমাদের নৌবন্দরগুলোতে আরও কাজ করতে চাই। অবকাঠামো খাতে জাইকা বেশি কাজ করতে চায়। রেল, সমুদ্র খাত নিয়ে কাজ করতে চায় তারা।
বৈঠক শেষে জাইকার বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি ইয়ো হায়াকাওয়া দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি, বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে। কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা আমার জন্য খুব অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি বাংলাদেশে কাজ করার সময়টাকে খুব উপভোগ করেছি। জাইকার নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইড বলেন, বাংলাদেশ আমার জন্য নতুন নয়। তিন বছর আগে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশের অনেক কিছুর সঙ্গে আমি পরিচিত। এই দেশের কয়েকটি প্রকল্পে আমি কাজ করেছি জাইকার হেড অফিসে বসে। তিনি বলেন, আমার আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার বয়স আর বাংলাদেশের বয়স সমান। বাংলাদেশের জন্য আমি একটি টান অনুভব করি। আমি বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে আনন্দিত।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হলো জাইকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হলো জাইকা। জাইকার অর্থায়নে ঢাকায় বহুলপ্রতীক্ষিত মেট্রোরেল তৈরি হচ্ছে।
জাইকার ঋণের সুদের হার বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্য উন্নয়ন সংস্থার চেয়ে কম। জাইকার অনেক ঋণ অনুদান হিসেবেও পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল প্রথম কাতারে। জাপান শুধু বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নয়, শিক্ষা ও কৃষিতেও অবদান রেখেছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল জাপান। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিয়েছে জাইকা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন