ঢাকা, শুক্রবার , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

এবার সিডিএ ভবনে ছাত্রলীগের হামলা

প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : এবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মারধর করলো ছাত্রলীগ। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কোতোয়ালী থানার বিপরীতে সিডিএ ভবনের তৃতীয় তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দারোয়ান মাহফুজ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ আহমদকেও মারধর করে তারা। ভাঙচুর করা হয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তার অফিস কক্ষ। তৃতীয় তলায় দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এমপি লতিফের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে লালদীঘি মাঠে সমাবেশে যোগ দিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিডিএ ভবন চত্বরে সমবেত হয়। সেখানে তারা মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে ভবনের দারোয়ান মাহফুজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মিছিল-সমাবেশ না করে ভবনের বাইরে যেতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা মাহফুজকে মারধর শুরু করে। তাকে মারতে মারতে তৃতীয় তলায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ আহমদের কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা তাদের সাথে ‘বেয়াদবি’ করার অভিযোগে দারোয়ান মাহফুজকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে চাপ দেন। তিনি এতে অপারগতা প্রকাশ করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকেও লাঞ্ছিত করে। এ সময় তার অফিস কক্ষ এবং তৃতীয় তলায় দরজা-জানালা ব্যাপক ভাঙচুর করে। দীর্ঘ সময়ের তা-ব শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লালদীঘি মাঠে চলে যায়। এ বিষয়ে সিডিএ সচিব তাহেরা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ‘লালদীঘির পাড়ে একটি মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা যাচ্ছিল। তারা সিডিএ ভবনের গেটের ভেতর জড়ো হলে সেখান থেকে দারোয়ান সরে যেতে বলায় দারোয়ানকে মারধরের পাশাপাশি ভবনের তৃতীয় তলায় এসে সিকিউরিটি ইনচার্জের রুমে ভাঙচুর করে।’ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ আহমদ বলেন, সিডিএ’র মতো সংরক্ষিত ভবন চত্বরে মিছিল-সমাবেশ করায় ভবনের নিরাপত্তা কর্মী মাহফুজ তাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাকে মারধর করে। তাকে মারতে মারতে তৃতীয় তলায় আমার কক্ষে নিয়ে আসে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে বরখাস্ত করতে আমাকে চাপ দেয়। তাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা আমার নেই, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি দেখবেন এমন আশ্বাস দেয়ার পর তারা আমার উপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ আহমদকে মারধরের পাশাপাশি জামায়াত জামায়ত বলে শাসিয়ে যান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তার টেবিলের কাচ ভাঙার পাশাপাশি রুমের দরজাও ভাঙা হয়। তবে এসময় ওই ফ্লোরে সচিব, প্রধান প্রকৌশলী থাকলেও দেশের বাইরে থাকায় সিডিএ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুচ ছালাম ছিলেন না। হামলার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সিডিএ’র সদস্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবসহ সিডিএ কর্মকর্তারা জরুফর বৈঠকে বসেন। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনা শুনেছি তবে সিডিএ এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ জানায়নি।
এদিকে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে ছাত্রলীগ। সম্প্রতি নগরীর প্রবর্তক মোড়ে সড়ক বন্ধ রেখে প্রতিবাদ সভা করার সময় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করার চিত্র ধারণ করার সময় ফটো সাংবাদিক জুয়েল শীলকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। চমেক ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে মারধরের পর ওই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে রাস্তায় কান ধরে উঠবস করানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামে সাংবাদিকরা। পরে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের সমাবেশে হাজির হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। এ সময় তারা কয়েকটি বাড়িঘরেও হামলা করে। তাদের হামলায় আহত হয় বেশ কয়েকজন। ২৮ জানুয়ারি রাতে নগরীর জিইসি মোড় থেকে গোলপাহাড় পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক তা-ব চালিয়ে অর্ধশত যানবাহন ক্লিনিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এক এনজিও নেতাকে বরণ করতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বন্দরটিলা এলাকায় স্থানীয়দের সাথে মারামারির জেরে রাতের আঁধারে ব্যস্ততম জিইসি মোড়ে ভাঙচুর করে তারা। তাদের হামলায় রাস্তার দুইপাশে পার্কিং করা অসংখ্য যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনসহ আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন