সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ যিলহজ ১৪৪৫ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

হঠাৎ করেই সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দেশ পুতিনের

প্রকাশের সময় : ১৬ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : সিরিয়া থেকে হঠাৎ নিজেদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি দাবি করেছেন, যে লক্ষ্যে ছয় মাসের সামরিক অভিযানে নেমেছিল রাশিয়া সে লক্ষ্যের অনেকখানিই অর্জন হয়ে গেছে। এই সিদ্ধান্তের খবর গত সোমবার ফোনালাপ করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে জানিয়ে দেন পুতিন। সিরিয়া প্রসঙ্গ নিয়ে গত সোমবার পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে সিএনএন জানিয়েছে। এদিকে, পুতিনের এ হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কূটনীতিকরা। জেনেভায় শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া এক কূটনীতিক বলেন, আমরা ব্যাপারটা শুনেছি। এখন পর্যবেক্ষণ করছি। দেখি কী ফল আসে। এটা আসলে পুতিন, যিনি এর আগে এমন ঘোষণা আরও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিছুদিন আগেও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামাতে জেনেভায় শান্তি আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোয় অভিযান শুরু করলে ওই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এবার আবার শান্তি আলোচনা শুরু হচ্ছে। তার আগেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই ঘোষণা দিলো রাশিয়া।
গতবছরের সেপ্টেম্বরে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করেছিল রাশিয়া। তারা গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সহায়তা করার জন্যই দেশটিতে ওই হামলা শুরু করেছিল। তার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট তার বাসভবন ক্রেমলিনে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন। গত মঙ্গলবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। বৈঠকের পর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ফোনালাপে পুতিন তার মিত্র আসাদকে জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দামেস্কের পাশে থাকতে এবং আইএস দমনে যে সৈন্য গিয়েছিল সিরিয়ায়, তারা মঙ্গলবার থেকে ফিরতে শুরু করেছে। তবে, কতদিনে প্রত্যাহার শেষ হবে, সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি রুশ প্রেসিডেন্ট। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরিয়ার ভূ-খ- থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হলেও দেশটির তারতুস বন্দর ও লাটাকিয়া প্রদেশের হিমেইমিম বিমান ঘাঁটিতে থেকে যাবে রুশ সৈন্য। জেনেভায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নতুন করে সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে পুতিন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আসাদের বিদ্রোহীরা এই ভেবে খুশি হলেও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার আর ভেঙে পড়বে না নিশ্চিত ধরেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন সূত্রের খবর, সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়ার পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট তার কূটনেতিক সহকর্মীদের সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাধানে নিজেদের প্রচেষ্টা আরও দৃঢ় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
খবরে আরো বলা হয়, গত সোমবার সেনা প্রত্যাহারের ওই ঘোষণা দেয়ার সময় পুতিন বলেন, আমি মনে করি, আমাদের সশস্ত্রবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরিয়ায় তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। এ কারণেই আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়কে সিরিয়া থেকে রুশ সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। রাশিয়া এমন এক সময়ে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনায় মিলিত হয়েছে সিরিয়ার সরকারি ও বিরোধী দল। এই ঘোষণার আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন পুতিন। ক্রেমলিন বলছে, দুই নেতা সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান বাহিনীর পরিচালিত অভিযানের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এরপরই সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক মিশন সফল হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Mohiuddin ১৬ মার্চ, ২০১৬, ৯:৫৩ এএম says : 0
রাশিয়া হঠাৎ করে এসে আবার চলেই যাচ্ছে কেন???এটা নতুন কোন ফন্দি নয় তো???
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন