মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩ বৈশাখ ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

মহানগর

সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী কোস্টার উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ঘটনা তদন্তে বন বিভাগের কমিটি গঠিত

প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা : সুন্দরবনের শেলা নদীর হরিণটানা এলাকায় তলাফেটে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া সি হর্স-১ নামের কোস্টারটির উদ্ধার কাজ (রোববার দুপুর পর্যন্ত) এখনো শুরু করা যায়নি। গতকাল রোববার সকালে বন বিভাগ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ) আলাদা আলাদাভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। শনিবার বিকালে সুন্দরবনের শেলা নদীর হরিণটানা এলাকায় তলাফেটে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে সি হর্স-১ নামের কোস্টারটি ডুবে যায়।
এদিকে কোস্টার ডুবির ঘটনা তদন্তে রোববার সকালে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। এই কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কিভাবে পণ্য বোঝাই কোস্টারটি পানিতে নিমজ্জিত হলো এবং এতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, চাঁদপাইরেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার গাজী মতিয়ার রহমান খান, ফরেস্টার সুলতান মাহমুদ ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, রোববার সকালে পণ্যবাহী কোস্টারটি যে এলাকায় ডুবেছে সে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পণ্যবাহী কার্গোটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তা একেবারেই দেখা যাচ্ছে না। আমরা ডুবে যাওয়ার স্থানটি চিহ্নিত করেছি। এখান থেকে চলাচলকারী নৌযান যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেজন্য লাল পতাকা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া কোস্টারটি দ্রæত কিভাবে তোলা যায় সেজন্য বিআইডবিøউ, কোস্টারের মালিক পক্ষ এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্টার ডুবির ঘটনা তদন্ত করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পণ্যবাহী কোস্টার ডুবিতে কোস্টারের মাস্টারের (চালক) কোন গাফিলতি, কোস্টারে যে কয়লা রয়েছে তা জলজপ্রাণীর জন্য কতটা ক্ষতিকর তা নিরূপণ করতে কাজ শুরু করেছি। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মোহাম্মদ হাসান বলেন, কয়লা বোঝাই কোস্টার ডুবিতে মংলা বন্দরের আগমন ও নির্গমনকারী নৌযান চলাচলে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। রোববার সকালে চিফ হাইড্রোগ্রাফার ফারুকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পরিদর্শনে গেছে। ডুবে যাওয়া ওই যানটিকে কিভাবে দ্রæত অপসারণ করে চ্যানেলটি স্বাভাবিক রাখা যায় তার জন্য আমাদের ওই দলটি কাজ করবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, কোস্টার ডুবির ঘটনা শুনে বিআইডবিøউটিএ-এর নৌপথের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কিভাবে ডুবে যাওয়া ওই কোস্টারটি উদ্ধার করা যায় তার ব্যবস্থা করা হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম বলেন, সুন্দরবনের শেলা নদীর হরিণটানা এলাকায় তলাফেটে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া সি হর্স-১ নামের কোস্টার কিভাবে ডুবলো তা জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোমিনুর রশিদকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ফিরে আসার পর ডুবে যাওয়া কোস্টারটি কি উপায়ে দ্রæত অপসারণ করা যায় তার ব্যবস্থা করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন