ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানে গ্যাসের ব্যবসা

চান্দিনা (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

দেখলে মনে হবে কাভার্ডভ্যান। ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে ৫০টির মতো গ্যাস সিলিন্ডার। রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস ভরে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। এ উপজেলার জগন্নাথপুর মাতুরবাড়ি মোড় এলাকায় যানবাহনে বিক্রি করা হয় ওই গ্যাস। এভাবেই অভিনব উপায়ে চলছে অবৈধ গ্যাস ব্যবসা। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরপিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ বলছে ওই এলাকায় কাভার্ডভ্যানে করে গ্যাস বিক্রির কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, কভার্ডভ্যানে করে গ্যাস নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা বেআইনি।

ব্্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কোনো সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই। ওই উপজেলার সিএনজি চালিত যানবাহন পাশের জেলা কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুরাদনগর ও দেবীদ্বারে এসে গ্যাস নিতে হয়। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র কভার্ডভ্যানে অবৈধভাবে সিলিন্ডার লাগিয়ে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস ভরে এনে এখানে বিক্রি করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক এ গ্যাস বিক্রি চলছে অবাধেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাভার্ডভ্যানে থাকা এসব গ্যাস বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদরের মাতুরবাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। কিন্তু সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে। তাদের দাবি- এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব আশঙ্কার কথা জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফেরদৌস হোসেন ঢাকার বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও রূপান্তরিত গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মো. নিজামুদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিক্রেতাদের দাবি তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে বাখরাবাদ গ্যাসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাঈমুল করিম খান বলেন, এ রকম বিক্রি বেআইনি। কোনো সিএনজি ফিলিং স্টেশন এভাবে গ্যাস বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, বাঞ্ছারামপুর এলাকায় কাভার্ডভ্যানে করে গ্যাস বিক্রির কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। এভাবে গ্যাস বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, দেশে মাদার ও ডটার এ দুই পদ্ধতিতে গ্যাস বিক্রি ও বাজারজাত করার অনুমোদন রয়েছে। মাদার পদ্ধতি হচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন যেভাবে গ্যাস বিক্রি করছে সেটি। আর ডটার পদ্ধতি হচ্ছে পরিবহনের মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে গ্যাস বিক্রি করা। ডটার পদ্ধতিতে নিরাপদে গ্যাস বহনের জন্য গাড়িতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের নিরাপদ সরঞ্জাম স্থাপন করতে হয়। এ পদ্ধতিতে গ্যাস বিক্রির জন্য আরপিজিএসএল ও বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিতে হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন