ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

অরুন্ধতীর বক্তৃতা, ভোটার দিবস ও প্রসঙ্গ কথা

মহিউদ্দিন খান মোহন | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

একটি অনুষ্ঠানে বুকার পুরষ্কার বিজয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়ের বক্তৃতা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৪ও ৫ মার্চ যে ঘটনা ঘটে গেল, তাকে নিন্দনীয় বলা যথেষ্ট নয়, বোধকরি ন্যাক্কারজনক বলাই শ্রেয়। যা ঘটেছে তা সবারই জানা। তারপরও কিছুটা উল্লেখ করা দরকার বলে মনে করছি। অরুন্ধতী রায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোকচিত্র উৎসব ছবিমেলা উপলক্ষে। আয়োজকরা তাকে এ উপলক্ষে বক্তৃতার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি ঢাকায় এসেছিলেন গত ৩ মার্চ। তার বক্তৃতার তারিখ নির্ধারিত ছিল ৫ মার্চ। পুলিশের অনুমতি নিয়ে স্থান নির্ধারিত ছিল ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তন। সে অনুযায়ী অতিথিদের রেজিষ্ট্রেশনও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৪ মার্চ রাত বারোটায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ আয়োজকদের জানায়, অনিবার্য কারণবশত কৃষিবিদ মিলনায়তনের অনুষ্ঠানটির অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর আয়োজকরা ধানমন্ডিস্থ মাইডাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেন। বিকাল চারটার মধ্যে অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু পুলিশের অনুমতি পাওয়া যায়নি- এ কারণে মাইডাস কর্তৃপক্ষ মিলনায়তনের গেট বন্ধ রাখে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়া যায় এবং অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। ভারতীয় এই লেখক কী বলেন তা শোনার জন্য নগরীর বিশিষ্টজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে অরুন্ধতী রায় কথা বলেছেন উপমহাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে। ফরমাল বক্তৃতার পর তিনি বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মঞ্চে বসেই। সেখানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
অরুন্ধতী কী বলেছেন সে প্রসঙ্গে যাবার আগে আমরা একটু কথা বলে নিই তার বক্তৃতাকে ঘিরে যে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল তা নিয়ে। অরুন্ধতীর বক্তৃতাকে বাধাগ্রস্ত করতেই যে অনুমতি নাটকের অবতারণা, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কেন? তিনি তো এদেশে এসেছিলেন আমন্ত্রিত হয়ে। এমন তো নয় যে তিনি এ দেশে ‘পারসন ননগ্র্যাটা’ বা অবাঞ্ছিত। তাকে একটি সংগঠন আমন্ত্রণ করে এনেছিল এবং তিনি বৈধ ভিসা নিয়েই এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, এখানে আসার পরদিন তিনি দেশের একটি বড় দৈনিক পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন। তাহলে? পুলিশ তার বক্তৃতার অনুমতি নিয়ে যে ভানুমতির খেল দেখালো, তাতে সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন ওঠে, এটা কি সরকারের সিদ্ধান্তে হয়েছে, নাকি কতিপয় অতিউৎসাহীর অতিভক্তির কারণে হয়েছে? এমন তো নয় যে, অরুন্ধতী সরকারবিরোধী কোনো অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনি কথা বলতে এসেছিলেন। আর তার কথা তো মানুষ, মানবতা আর তাদের অধিকার নিয়ে। যতদূর জানা গেছে, পুলিশের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারের উপর মহলে কোনো খবর ছিল না। এমন কি ঘটনা জানার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরক্তি প্রকাশ করা হয়েছে । বোঝা যাচ্ছে, শেষ মুহ‚র্তে মাইডাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের অনুমতির পেছনে শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা কাজ করেছে। কিন্তু এ ঘটনায় আমাদের গণতন্ত্র, কথা বলার স্বাধীনতা, সর্বোপরি একজন বিদেশি মেহমানের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন সম্বন্ধে যে ধারণা অরুন্ধতীর হলো, তা কি আমাদের জন্য সুখকর বা মর্যাদাকর? আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের যে চিত্র ভারত তথা বহির্বিশ্বে গেল তাও কি সম্মানজনক? সরকারের উচিত এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো। খুঁজে বের করা দরকার এমন একটি অস্বস্তিকর ঘটনার সৃষ্টি করলো কারা। আমরা অতীতে দেখেছি, কতিপয় অতিউৎসাহী সরকারি কর্মকর্তার অবিমৃশ্যকারি পদক্ষেপের কারণে সরকারকে বিব্রত হতে হয়েছে। মনে রাখা দরকার, এ ধরনের ঘটনার জন্য সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।
এবার আসা যাক অরুন্ধতী কী বলেছেন তার বক্তৃতায়, সে প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন,‘গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেয়া নয়। গণতন্ত্র মানে হলো মৌলিক অধিকারসহ অন্যান্য অধিকারের কথা বলা। কিন্তু গণতন্ত্রের সংগঠনগুলো এখন অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। এটা কেবল বাংলাদেশে নয়, পুরো উপমহাদেশের অবস্থা।’ অরুন্ধতী তার প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ নিয়েও কথা বলেছেন। বলেছেন তার দেশে মানুষের পক্ষে কথা বলায় তাকে যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সেসব কথাও।
অরুন্ধতী রায় গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেয়া নয় বললেও আমরা কিন্তু ভোট দেয়ার অধিকারকেই গণতন্ত্রের প্রধান অলঙ্কার বলে মনে করি। কারণ আমাদের ধারণা, নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেই গণতন্ত্রের সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে। অথচ গণতন্ত্রের যে বিশাল ক্যানভাস রয়েছে আমরা সে কথা অনেক সময়ই ভুলে থাকি। রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বোৎকৃষ্ট এ পদ্ধতির সাথে মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি বাক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকারও যে সর্ম্পকিত সে ব্যাপারে আমরা অনেকটাই অসচেতন। প্রশ্ন উঠতে পারে, অরুন্ধতী গণতন্ত্রের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে যে বললেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, তার দেশ ভারতেও একই অবস্থা বিরাজমান-এর দ্বারা তিনি কি আমাদের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কথা বলে ফেললেন না? হ্যাঁ বলেছেন। তবে, তা বাস্তবতা বিবর্জিত নয়। কেননা, আমাদের দেশে গণতন্ত্রের বর্তমান দশার কথা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির আবর্তে পড়ে গণতন্ত্রের এখন হাঁসফাঁস অবস্থা। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের পরিমাপ করে নিজেদের দলীয় স্বার্থের ব্যারোমিটারে। সাধারণ মানুষ কতটুকু গণতন্ত্র উপভোগ করতে পারছে তা নিয়ে তারা ভাবছে, এমনটি মনে হয় না। সাধারণ মানুষ এখন গণতন্ত্র, রাজনীতি এসবকে রাজনৈতিক দলগেুলোর ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার পাশাখেলা বলেই ধরে নিয়েছে। আর সেজন্যই রাজনীতি, নির্বাচন ইত্যাদি ব্যাপারে এখন আর তাদের তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতি সে কথারই জানান দিয়েছে।
গত ১ মার্চ ছিল ভোটার দিবস। নির্বাচন কমিশন বেশ ঘটা করেই দিবসটি উদযাপন করেছে। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঢোল-সহরত সহযোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালীও হয়েছে। কমিশন অফিস থেকে জাতীয় সংসদ ভবন পর্যন্ত সে র‌্যালীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ওইদিন নির্বাচন কমিশন ভবনের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার ভাষণে বলেছেন, ‘ভোটার যত সচেতন হবে, নির্বাচনও তত সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে’। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। স্বাভাবিক অবস্থায় এমনটিই হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কী বর্তমানে স্বাভাবিক সময় পার করছি বা অতীতে কখনো কী স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল? বিগত কয়েকটি নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে প্রশ্নের মুখোমুখি। জনগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারছে না। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো তা কি স্বাভাবিক ছিল? বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে নামতে দেয়নি সরকারি দল। তারা আরো অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে। কোথাও কোথাও তারা দলীয় কর্মীর চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। এসব খবর চাপা থাকেনি। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ সময়ে তা থাকার কথাও নয়। মুহ‚র্তে তা দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেসব ছবি ও খবর আমাদের গণতন্ত্রের হতচ্ছাড়া দশাকেই কী তুলে ধরেনি?
গণতন্ত্রের শরীর থেকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ঘা না শুকোতেই তাতে আরেকটি আঘাত এলো ২৮ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বাস্তবতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার দৈন্যদশাকেই প্রকটভাবে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের নির্বচনী ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতি আমাদেরকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, সেদিন ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। অনেকের মতে, প্রকৃত ভোটসংখ্যা আরো কম। তাছাড়া ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোর যে সচিত্র সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা ছিল হতাশাজনক। বেলা দশটা-এগারোটা পর্যন্ত কোনো কোনো বুথে ভোটের বাক্স ছিল ফাঁকা। ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। সিইসি অবশ্য বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয়। ভোটার কম হওয়ার জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ভ‚মিকাকে দায়ী করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ নেই। বাস্তবিক, নির্বাচনে যদি শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকে তাহলে সে নির্বাচনের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ কমে যায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। প্রতিদ্ব›িদ্বতাহীন এ নির্বাচনে তাই ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হয়নি।
কেউ কেউ এখানে ভোটারদের সচেতনতা বা ভোটের অধিকার বিষয়ে দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কারণ, ভোটার হওয়া এবং ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। একদিক দিয়ে কথা ঠিক আছে। কিন্তু ভোটার সাধারণ কেন তাদের সে দায়িত্বশীলতাকে এড়িয়ে গেল? এ প্রশ্নের জবাব পওয়া যাবে উক্ত উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শাফিন আহমেদের একটি উক্তিতে। ভোটের দিন মিডিয়াকে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন থেকে দেশবাসী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে’। শাফিন আহমেদের এই একটি বাক্যকে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে আমাদের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও নির্বাচনের হতাশজনক চিত্রই প্রকট হয়ে ধরা দেবে। এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, রাজনীতি, ভোট ইত্যাদির প্রতি আমাদের জনসাধারণের একটি বিরাট অংশের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এটা একদিনে বা হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনগণের অধিকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতা, দলীয় সঙ্কীর্ণতার গন্ডিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আটকে রাখা প্রভৃতি কারণে রাজনীতি থেকে মানুষ অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তাদের কাছে রাজনীতি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা দখলের কসরৎ বৈ কিছু নয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাদের মনে এ ধারণার জন্ম দিয়েছে যে, রাজনীতি তাদের জন্য কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বয়ে আনে বেশি। বলা নি®প্রয়োজন, জনগণের এ রাজনীতি বিমুখতা গণতন্ত্রের পথচলার জন্য সহায়ক নয় মোটেই।
মাইডাস সেন্টারে অরুন্ধতীর বক্তৃতা, ভোটার দিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির করুণ চিত্র আপাত দৃষ্টিতে হয়তো পরষ্পর সম্পর্কিত নয়। কিন্তু আমরা যদি এগুলোর সারমর্ম একত্রিত করে পর্যালোচনা করি, তাহলে একটি নিবিড় সম্পর্ক সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অরুন্ধতী গণতন্ত্র মানেই শুধু নির্বাচন নয় বললেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ভোটের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়ে আসছে। জনগণের ভোটের অধিকার যদি প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাহলে গণতন্ত্রের অন্যান্য অনুষঙ্গগুলো আপনা আপনিই জায়গা করে নেবে। তবে, ভোটের সে অধিকার কবে কীভাবে জনগণ ফিরে পাবে, সেটাই প্রশ্ন।
লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন