ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

সমগ্রতাবাদ ও তার বিপদ

তৈমূর আলম খন্দকার | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

মানুষ সামাজিক জীব, এ নিয়ে কোনো বির্তক নাই। মানুষের প্রকৃতিগত আচরণ ব্যাখ্যা করলে মোটা দাগে তিনটি আচরণ পরিলক্ষিত হয়। যথা: (১) স্বভাবগতভাবেই মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা নিজ স্বার্থ ভিত্তিক (Self Interested), (২) মানুষ সমাজসম্পৃক্ত (Socially Concerned), অর্থাৎ সমাজের চাওয়া না চাওয়ার প্রতি গুরুত্ব প্রর্দশন করে, (৩) অন্য একটি শ্রেণি রয়েছেন, যারা পরিবেশের মাধ্যমেই নিজেকে (Blank Slates) সীমাবদ্ধ রাখে। মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যাচাই হোক, বাহ্যিকভাবে মানুষ সমাজকে ডিঙ্গিয়ে চলতে পারে না। তবে ব্যতিক্রম যারা, তারা অসামাজিক বা সমাজবহির্ভূত হিসাবে চিহ্নিত, যদিও এতে তাদের কিছুই আসে যায় না। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করলে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন থেকে ভিন্নতর, যা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিমাপ করা কঠিন।
সমাজ তার নিজস্ব সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল। সংস্কৃতি বলতে সাধারণত: আমরা মানুষের বিনোদনকে মনে করি। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন অর্থাৎ বছরের পর বছর স্বতস্ফূর্ত অনুশীলনে একটি গোষ্ঠি বা এলাকা বা জাতির নিজস্ব আঙ্গিকে গড়ে উঠায় সে গোষ্ঠি, এলাকা, সমাজ বা জাতির আচরণীয় বিষয়ই সংস্কৃতি হিসেবে স্বীকৃত। সমাজ ও সংস্কৃতি পরস্পর সম্পূরক এবং মানুষ মানুষের সাথে পারস্পারিক বন্ধনে আবদ্ধ। আইন মানুষকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রে লিখিত সংবিধান নাই, সে রাষ্ট্রগুলি সামাজিক মূল্যবোধ, Custom এবং Culture এর ভিত্তি করেই চলে। লিখিত ও অলিখিত সংবিধানের মধ্যে যে তারতম্য রয়েছে, আইনের সাথে সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির তারতম্য সে টুকুই, এর বেশি কিছু নয়। সেখানে সমাজ যত শক্তিশালী সে এলাকায় জনগণ ততটুকু নিরাপদ এবং আস্থাশীল। ক্ষমতায় দুষ্টক্ষত সমাজকে তার নিজস্ব অবস্থানে থাকতে বাধাগ্রস্ত করলেও সমাজ ও সংস্কৃতি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। যখনই ক্ষমতার দাপটের নিকট সমাজ-সংস্কৃতি পরাস্ত হয় তখনই সমাজে নেমে আসে CRECK DOWN অথবা BREAK DOWN। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হলেও নিজ স্বার্থকে অধিক মাত্রায় প্রাধান্য দেয় বলেই বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই পরিবারে বসবাস করেও কেউ জীবন নির্বাহ করে Individual(নিজ স্বার্থ) Capacit নিয়ে এবং কেউ চলেছে Collective (সমষ্ঠিগত) Capacity-তে। ওহফরারফঁধষ এবং ঈড়ষষবপঃরাব এর সংঘাতে গোটা সমাজ ব্যবস্থা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, যার Check and Balance রক্ষা হচ্ছে শুধুমাত্র সামাজিক সংস্কৃতির মাধ্যমে। যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ অর্থাৎ Individualness প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে যেখানে সমষ্টিগত Collectiveness প্রাধান্য পাচ্ছে সেখানে ব্যক্তির পাশাপাশি গোটা সমাজ উপকৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বা নীতিমালা সমষ্টিগত চিন্তার পক্ষে, কিন্তু যাদের হাতে রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব তারা ব্যক্তি (Individual) স্বার্থ সংরক্ষণে নিজেকে নিয়ে বিভোর থাকে। ব্যক্তি চিন্তার (Individua) প্রতিফলন যখন দেয়াল টপকে সমাজের নিকট প্রকাশ পায় বা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করায় জনস্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয় তখনই সূত্রপাত হয় লড়াই সংগ্রামের বা শ্রেণি সংগ্রামের উৎপত্তি সেখানে থেকেই। কোনো মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতিতে বিশ্বাসী হলেও তাকে কারো না কারো উপর নির্ভর করতে হয়। ইংরেজিতেDependency এর পাশাপাশি Co-dependency (সহ-নির্ভরশীলতা) নামে দুটি শব্দ আছে যার যোগসূত্র সমাজের প্রতিস্তরে দেখা যায়। কিন্তু মানুষের মধ্যে এর উপলব্ধি অনেক সময়ই দেখা যায় না বা অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানুষগুলি Co-dependency এর সূত্র স্বীকার করে না। তারা মনে করে যে, সে নিজের গুণাবলিতেই গুণান্বিত বা তার নিজস্ব যোগ্যতার কারণে সমাজে তার মাথা অনেক উঁচু পর্যায়ে। মানসিকতা প্রকাশের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠির সংস্কৃতির প্রকারভেদ প্রকাশিত হয়। তবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠির প্রকাশ ভঙ্গি ভিন্নতর হতে পারে। সমগ্রতাবাদিতা অন্যান্য গুণাবলির সাথে একছত্রবাদ মানুষের এটা একটি বৈশিষ্ট্য, তবে সকলের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। যারা সমগ্রতাবাদী বা একছত্রবাদে বিশ্বাসী তারা পৃথিবীর সকল সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করে তা নিজ আয়ত্তে আনার জন্য ব্যাকুল-ব্যতিব্যস্ত থাকে, সকল ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত রাখতে চায়, এর বাস্তবায়নের জন্য হত্যা, গণহত্যা থেকে শুরু করে পৈশাচিক কোনো কাজ করতে বিবেক তাদের বাধা দেয় না। পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজা, বাদশা, সম্রাট, রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপ্রধান উপাধীধারীদের একছত্রবাদ বা সমগ্রতাবাদী মানসিকতার কারণে অনেক যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে, হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, লাখো কোটি মানুষ ভিটাবাড়ি ছাড়া হয়েছে। এটাকে একটি মানসিক রোগও বলা যেতে পারে। পৃথিবীর সব সম্পদ নিজের করায়ত্ত করার মানসিকতা বা অন্যের সম্পদ দখলে রাখা এবং সকল ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, প্রভাব এককভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রতি লোভ মানসিক রোগ ছাড়া আর কি হতে পারে!
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, (১) ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, (২) ১৯৩৯-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, (৩) ১৮৫১-১৮৬৪ সাল পর্যন্ত তাই পিং বিদ্রোহ, (৪) ১২০৭-১৪৭২ সাল পর্যন্ত মোগল শাসন আমল, (৫) ৭৫৫-১৭৬৩ সাল পর্যন্ত লুসান রেবেলিয়ন, (৬) ১৬১৬-১৬৬২ সাল পর্যন্ত কুইঙ্গ সা¤্রাজ্যের পতন, (৭) ১৩৬৯-১৪০৫ সাল পর্যন্ত তৈমুর লংয়ের যুদ্ধবিগ্রহ, (৮) ১৮৬২-১৮৭৭ সাল পর্যন্ত দুনগান অভ্যুথান, (৯) ১৯১৭-১৯২১ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার যুদ্ধ, (১০) ১৮০৩-১৮১৫ সাল পর্যন্ত নাপোলিওনিক যুদ্ধ, এ ধরনের বহুযুদ্ধে লক্ষ কোটি মানুষের সম্পদ ও প্রাণ হরণ হয়েছে একছত্রবাদ বা সমগ্রতাবাদী নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য। আদর্শিক যুদ্ধের পরিবর্তে একছত্রবাদ বা সমগ্রতাবাদী প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের পরিমাণই অনেকগুণ বেশি।
আধুনিক বিশ্ব সভ্যতার দাবিদার। কিন্তু আধুনিকতার পাশাপাশি মানবাধিকারের কথা যত উঁচু গলায় বলা হয়, এর চেয়ে বেশি গতিতে মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ড রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যবস্থাপনায় হয়ে থাকে। সম্প্রতি মিয়ানমারের ঘটনায় পরিলক্ষিত হয় যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে রাখাইন রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র দয়াদক্ষিণার মতো করে রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য পাঠায় কিন্তু প্রতিকারের বা স্থায়ী নিরাপত্তার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে মালোয়েশিয়ার রাজধানী কোয়ালামপুরে অনুষ্ঠিত গণআদালত (Public Tribunal) মায়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করার জন্য ১৭টি সুপারিশ করে যার মধ্যে চতুর্থ সুপারিশে ২০০৮ সালে সংবিধানের সংশোধনী এবং ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবি ছিল অন্যতম। উক্ত আইনগুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাখাইন মুসলমান জনগোষ্ঠিকে তিলে তিলে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মিয়ানমার সরকার ১৯৮২ সালে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন পাশ করে এবং রাখাইনদের অধিকার বঞ্চিত করার জন্যই সংবিধানে ২০০৮ সালে সংশোধনী আনয়ন করে। রুয়ান্ডাতে সংখ্যাগরিষ্ট হুটু (HUTU) গ্রুপ তুটছি (TUTSI) গ্রুপের উপর গণহত্যা শুরু করার পূর্বে নিজেদের মধ্যে প্রতিপালনের জন্য ১০টি নির্দেশনা জারি করে। বিভিন্ন নিয়ম পদ্ধতি গ্রহণের মধ্যে তুটছি’দের দুর্বল করার পর ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট Habyarimana এর বিমান ক্রাস হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই সংখ্যাগরিষ্ঠ HUTU গ্রুপ TUTSI-দের হত্যা শুরু করে।
ঔঊড-দের উপর গণহত্যা শুরু করার পূর্বে হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মান ওয়াকার্স পার্টি (NAZI) ১৯২০ সালে ২৫ ধারা সম্বলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করে। উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে JEW-দের বিভিন্নভাবে দুর্বল করার পর গণহত্যা শুরু করে। ১৯৫০ সালে ৭টি নীতিমালা গ্রহণ করে নুরেনবার্গ ট্রাইবুনাল গঠনের মাধ্যমে ঘঅতও-দের বিচার শুরু হয়।
পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জনগণের উপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তা ছিল অবশ্যই এবহড়পরফব. কিন্তু উক্ত হত্যাযজ্ঞকে এবহড়পরফব বলে বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বীকৃতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তা অবশ্যই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ব্যর্থতা। বিশ্ব দরবারে বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের জ্ঞান এবং এ মর্মে উপস্থাপিত যুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার আমার অধিকার নাই, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট বিষয়টি দৃষ্টিকটু হয়ে রইল এ মর্মে যে, একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ব্যর্থ হয়েছেন।
ক্ষমতাবান বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্তৃক ক্ষমতাহীনদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার উদ্দেশ্যে অনেক গণহত্যা হয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এর কোনো সংজ্ঞা ছিল না। তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী Winston Churchill এ হত্যাকে Crime without name বলে বর্ণনা দিয়েছেন। একটি জাতির বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বা বিরোধীদের তিলে তিলে ধ্বংস করার অভিপ্রায় বা হত্যাযোজ্ঞকে প্রথম Robert Lemkin Genocide নামে উল্লেখ করেছেন। তিনি গ্রিক শব্দ Geno অর্থাৎ মানুষ এবং Cide অর্থাৎ হত্যাকে সংযুক্ত করে এবহড়পরফব নামে উদ্ভাবন করেছেন যা বর্তমানে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। Genocide সম্পর্কে Robert Lemkin যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা নিম্নরূপ: By Genocide we mean the destruction of a nation or an ethnic group. Generally speaking, Genocide does not necessarily mean the immediate destruction of a nation, except when accomplished by mass killings of all members of a nation. It is intended rather to signify a coordinated plan of different actions aiming at the destruction of essential foundations of the life of national groups, with the aim of annihilating the groups themselves. The objectives of such a plan would be disintegration of the political and social institutions of culture, language, national feelings, religion and the economic existence of national groups and the destruction of the personal security, liberty, health, dignity and even the lives of the individuals belonging to such groups. Genocide is directed against the national group as an entity and the actions involved are directed against individuals, not in their individual capacity, but as member of the national groups.
১১ ডিসেম্বর ১৯৪৬ Genocide সম্পর্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯৬(২) অনুচ্ছেদে যে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিম্নরূপ: Genocide is a denial of the right of existence of entire human groups, as homicide is the denial of the right to live of individual human being, such denial of the right of existence shocks the conscience of mankind, results in great losses to humanity in the form of cultural and other contributions represented by these human groups and is contrary to moral law and to the spirit and aims of the United Nations. Many instances of such crimes of genocide have occurred when racial, religious, political and other groups have been destroyed, entirely or in part.
নিজ ইচ্ছা মোতাবেক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার জন্য ইচ্ছামাফিক আইন প্রয়োগ এবং একই আইনকে দু’ভাবে প্রয়োগ করে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতাবান কর্তৃক ক্ষমতাহীনদের তিলে তিলে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া দিয়েই এবহড়পরফব এর বীজ বপন করা হয়। ক্ষমতাসীনরা কোন কারণেই তাদের প্রতিপক্ষ জীবিত রাখতে চায় না, যদি তারা সমগ্রতাবাদী বা একছত্রবাদী নীতিতে বিশ্বাসী হয়। একই আইন দু’ভাগে অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের জন্য যা মধু এবং ক্ষমতাহীনদের জন্য বিষ হিসেবে প্রয়োগ হচ্ছে। সরকারি দল যে কর্মসূচি পুলিশ প্রটেকশনে অনায়াসে করছে, বিরোধীদল সে একই কর্মসূচি পালনে সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে রাষ্ট্র কর্তৃক বঞ্চিত হয়ে পুলিশ কর্তৃক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের অনেক উদাহারণ প্রদান করা যাবে। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ জাতীয় ঐক্যের প্রতিবন্ধক।
ইংরেজিতে Totalitarian শব্দের পরিভাষায় বলা হয়েছে যে, Totalitarian is a system of government in whcih there is only one political party, demanding that people submit totally to the requiremt of the state (Ref: Oxford Dictionary, Page-1263) এবং বাংলা শব্দার্থ এই যে, সমগ্রতাবাদী অর্থাৎ যে রাজনৈতিক দল একটি দল ভিন্ন অন্য কোনো প্রতিদ›দ্বী দলকে মানতে রাজি নয়। বাংলাদেশে কি এর ব্যতিক্রম হচ্ছে? বিচার বিশ্লেষণ করবেন দেশের জনগণ।
লেখক: কলামিস্ট ও আইনজীবী

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন