ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মাদারীপুরে নিহত দু’জনের পরিবারে আহাজারী

ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবি

মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

দালালদের খপ্পরে জিম্মি হয়ে সাগর পথে লিবিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার পথে ভ‚মধ্যসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মাদারীপুরের নিহত জাকির হোসেন (২৮) ও সজিব হোসেনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত জাকির হোসেন শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং চর গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ছেলে এবং সজিব হোসেন সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া গ্রামের আজিজ শিকদারের ছেলে। নিখোঁজ রয়েছে সদর উপজেলার মনির হোসেন মাতুব্বর (২২), নাদিম মাতুব্বর (১৭), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও রাজৈর উপজেলার নাঈম সিকদার (১৯) নামের চার যুবক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে অর্থ উপার্জনের জন্য নূর-নবী খলিফা ও নূর ইসলাম খলিফা নামের দুই দালালের হাত ধরে বিদেশে পারি জমায় জাকির। জাকিরকে স্থলপথে তুরস্ক নেয়ার কথা থাকলেও দালাল চক্র লিবিয়া নিয়ে জিম্মি করে। লিবিয়ায় জাকির হোসেনকে আটকে রেখে পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা দাবী করে তারা। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই ছেলেকে বিক্রি করে দিবে অথবা অনাহারে রাখবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এ পর্যন্ত পরিবার প্রায় ৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দালালচক্রের কাছে দেন। বৃহস্পতিবার ভ‚মধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকুল থেকে ৭৫ জন অভিবাসী নিয়ে ইটালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া ট্রলার ডুবিতে নিহত হন জাকির হোসেনসহ ২৭ বাংলাদেশি।
জাকির হোসেনকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের লোকজন। স্বামীকে হারিয়ে কান্না যেন থামছেই না স্ত্রী শান্তা আক্তারের। অবুঝ দুটি কন্যা সন্তানকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই পরিবারের লোকজনের। এদিকে সন্তান ট্রলার ডুবিতে নিহত হওয়াকে যেন বিশ^াসই করতে পারছেনা নিহত জাকিরের বাবা-মামা।
অন্যদিকে সজিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির চারপাশে মানুষের ভিড়। সজিবের মা ও বোন যেন একটু পর পরেই সজিবের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেই যাচ্ছে। সজিবের মা মোবাইল হাতে নিয়ে বারবার বলছিল যে তার সাথে ছেলে সজিবের শেষ কি কথা হয়েছিল। তার ছেলে আর বেঁচে নেই এটি কিছুতেই যেন মানতে পারছে না এই মা। শোকময় পরিবারটি এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও বইছে শোকের মাতম।
সজিবের স্বজনরা জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়েই গত ঈদের পরের দিন এক দালালের হাত ধরে লিবিয়া যায় সজিব। এরপর লিবিয়াতে ছয় মাস কাজ করার পরে নোয়াখালীর রুমান নামে এক দালালের খপ্পরে পরে সজিব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন