ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

অবহেলিত নার্গিসের জন্মভূমি

মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল, দৌলতপুর (কুমিল্লা) থেকে ফিরে : | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৯, ১২:২৫ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি সরকারিভাবে নিলেও নার্গিসের জন্মভ‚মি ও কবিতীর্থ কুমিল্লার দৌলতপুর আজও চরম অবহেলিত। অনেকেই বিগতদিনে দৌলতপুরে কবির নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতির ফুল ফুটিয়েছেন। বাস্তবে স্থানটির কোন পরিবর্তনের বিন্দুমাত্র ছোঁয়া নেই বলে স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
জানা যায়, ১৯২১ সালে আলী আকবর খান আর কবি নজরুল কলকাতায় পাশাপাশি থাকতেন। আলী আকবর খান কবি নজরুলকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার দৌলতপুরে নিয়ে আসেন। বেড়াতে এসে আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে সৈয়দা আসার খানমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কবির।
গভীর ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হয়ে ইরানি এক সাদা গুল্মপুষ্পের নামে কবি তার নাম দিলেন নার্গিস।
কবি দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো বেদনা-অভিমান, অবেলা, অনাদৃতা, পথিক প্রিয়া, বিদায় বেলা প্রভৃতি। দীর্ঘ দু’মাসের আবেগঘন প্রেমের পর নার্গিসের সাথে পরিণয়ের রাতেই এক অভিমানে কবি তাকে ত্যাগ করে চলে যান। তবে কবির মানসলোকে নার্গিস ছিলেন দীর্ঘকাল।
১৯৩৭ সালে কলকাতার চিৎপুর থেকে কবি নার্গিসকে উদ্ধেশ্য করে লিখেছিলেন, তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করিনা এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি। আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না। যার পরম পরশে কবি অগ্নিবীণা বাজিয়েছেন সেই নাগির্সের জন্মভূমি ও কবিতীর্থ ক্ষেত দৌলতপুর আজও চরম অবহেলিত। এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির নামে হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান।
কবিপত্মী নার্গিস বংশের উত্তরসূরি বাবলু আলী খান বলেন, এ বাড়ির পুকুরঘাটের আম গাছ তলায় কবি দুপুরে শীতলপাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খানবাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে নজরুল মঞ্চ। প্রতিবছর কবির জন্মদিনে সেখানে জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান করে থাকে। এর বাইরে আর কিছুই এখানে হয়নি।
নজরুল গবেষক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ বলেন, কবি নজরুলের নামে দৌলতপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়িটিকে জাদুঘর বানিয়ে কবি পত্মী নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক ও বাসরখাটটি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Aminul Islam ২৫ মে, ২০১৯, ১:৩৮ এএম says : 0
জয় হোক কবি নজরুল তোমার,আবার কি আসিবে তুমি বলিবে হিংসা বিদ্বেষ নিন্দাবাদ।
Total Reply(0)
Tofik Rahman ২৫ মে, ২০১৯, ১:৩৮ এএম says : 0
Allah take jeno jannat basi kore Amin
Total Reply(0)
Rabeya Bela ২৫ মে, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
Najrul banglar ohongkar.
Total Reply(0)
হাসিবুল ইসলাম ২৫ মে, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
ধন্যবাধ ইনকিলাবকে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। আশা করবো খবরটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়বে।
Total Reply(0)
গনি মিয়া ২৫ মে, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
কবিপত্নীর জন্মভূমি সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করি। এখনই উদ্যোগ নেওয়া হোক।
Total Reply(0)
সানী ২৫ মে, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
সরকারের কাছে দাবি জানাবো কবিপত্নীর জন্মভূমি যাতে সংরক্ষণ করে।
Total Reply(0)
Mazharul Islam Mobin ২৫ মে, ২০১৯, ২:৪৯ পিএম says : 0
এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়
Total Reply(0)
Tarek Aziz ২৫ মে, ২০১৯, ২:৫০ পিএম says : 0
নজরুল গবেষক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ সাহেবের সাথে আমি একমত পোষণ করছি
Total Reply(0)
জুয়েল ২৫ মে, ২০১৯, ২:৫২ পিএম says : 0
রিপোর্টার মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল সাহেবকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি।
Total Reply(0)
Kamal ২৫ মে, ২০১৯, ২:৫৩ পিএম says : 0
অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন