ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

লক্কড়-ঝক্কড় ট্রেন ও লাইন আতঙ্ক কাটছে না যাত্রীদের

এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সিলেট অঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপদ রেল ভ্রমণটি এখন শুধুমাত্র লক্কড় ঝক্কড় ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইন ও ব্রিজের কারণেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ রেল পথের যাত্রীরা চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। কুলাউড়ার বরমচাল বড়ছড়া ব্রিজের ওই দুর্ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক বেড়েছে যাত্রীদের মধ্যে। দুর্ঘটনা কবলিত বগি হতে অসহনীয় পচাঁ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরো ৩ দিন সময় লাগবে।

বড়মচাল, কুলাউড়া, শমশের নগর, ভানুগাছ ও শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের সাথে আলাপে জানা যায়, লক্কড় ঝক্কড় রেল লাইন ও ব্রিজগুলোর কারণে প্রতিনিয়তই মৃত্যুর ঝুকি বাড়ছে। দীর্ঘ দিন থেকে ত্রুটিপূর্ণ এই লাইনটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ না হওয়াতে ক্ষোভের অন্ত নেই যাত্রীদের। ঝুঁকিপূর্ণ রেল পথ দিয়ে রেল ভ্রমণ অনিরাপদ বলে তারা তাদের অভিমত ও নানা অভিযোগ জানান।

সিলেট আখাউড়া রেল পথের ১৭৯ কিলোমিটারের মধ্যে অধিকাংশই চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ওই পথের রেল লাইন, ফিসপ্লেট, ক্লিপ, হুক, স্লিপার, নাট, বল্টু, সিগন্যালসহ সহযোগী যন্ত্রাংশ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন, জরাজীর্ণ বগি, ঝুঁকিপূর্ণ ও মান্দাতা আমলের স্টেশন আর সিডিউল বির্পযয় যেন নিয়তি।

এদিকে, কুলাউড়ার বরমচাল বড়ছড়া ব্রিজের উপর দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে নিচে পড়ে যাওয়া বগি হতে বুধবার সকাল থেকেই অসহনীয় পচাঁ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওখানে বগিটি পড়ে আছে। ওই বগির সাথে রেল সড়কের পশ্চিম পাশে পড়ে থাকা আরো ২টি বগি ও রাস্তার পূর্ব পাশে দাঁড়ানো ১টি বগি এখনো ফেলে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দিন ট্রেন লাইন সচল করতে ওই চারটি বগি দুর্ঘটনাস্থলে ফেলে রেখেই লাইন মেরামতের পর সচল করা হয়।

দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে এখনো ছোট বড় মানুষের জুতো ও ট্রেনের ভেঙ্গে যাওয়া খুচরা যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বড়ছড়ার ওই ব্রিজ দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামে। এছাড়া আশপাশ এলাকার বৃষ্টির পানিও নিস্কাশন হয়। এমনিতে নাব্য হ্রাসের কারণে ছড়াটির পানি নিস্কাশন আগের মত হয় না। তারপর দুর্ঘটনার পর ট্রেনের বগি ব্রিজের নিচে পড়ে থাকায় পানি আটকে যাচ্ছে।
গত বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ওই ছড়াতে পড়ে থাকা বগির কারণে ছড়াটির পানি দ্রুত নিস্কাশন হচ্ছে না। এতে করে পুরাতন ওই রেল ব্রিজের ক্ষতি ও আশপাশের গ্রাম গুলোর ঘরবাড়ি ও ক্ষেত কৃষি আটকে থাকা পানির কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছে। তাদের জোর দাবি যত দ্রুত সম্ভব ওই বগিসহ অন্য ৩টি বগি উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার।

এদিকে, কুলাউড়ার বড়ছড়া ব্রিজ এলাকায় উপবন ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ের বিভাগীয় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরো ৩ দিন সময় চেয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় রেল লাইন সচল, সরেজমিন পরিদর্শনসহ নানা কারণে অধিকতর তদন্তের জন্য তারা আরো ৩ দিন বাড়তি সময় চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শাহ শফি নূর মোহাম্মদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ৫ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিতে আছেন বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী (পরিবহন) নাঈমুল ইসলাম, বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শাহ শফি নূর মোহাম্মদ। বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান জাবির, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিকমিনিকেশন প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা আলম ও বিভাগীয় চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল আহাদ। এছাড়াও ৪ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি তদন্ত টিমও দুর্ঘটনার কারণ জানতে কাজ করছে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন