ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

ধর্ষিত শিশু, লজ্জিত দেশ

ফুয়াদ খন্দকার | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৯, ৩:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ। এদেশ কে তুলনা করা হয় মায়ের সাথে। যার জন্যে আমরা এ দেশকে মা বলে সম্বোধন করি। অথচ এই মায়ের দেশে আমার মা বোনেরা তো নিরাপদ থাকতে পারেন না এমনকি ছোট্ট অবুঝ শিশুরাও নিরাপদ না। অথচ এ দেশের সরকার নারীদের উন্নয়নের জন্য নিয়েছেন হাজারো উদ্যোগ। এদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, সংসদের স্পিকার নারী, শিক্ষা মন্ত্রী নারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নারী দেশের এত উচ্চ পর্যায়ে নারীদের অবস্থান থাকার পরেও প্রতিনিয়ত সংবাদের পাতায় নারী নির্যাতনের খবর দেখতে পাই। তাহলে আসলে সমস্যা ঠিক কোন জায়গায়? এক তরফা ভাবে শুধুই সরকারের উপরে দোষ চাপিয়ে দিয়ে আপনি তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারবেন ঠিক ই কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন এর বিপক্ষে আপনি কি করছেন?
অথচ আমাদের নিজেদের নোংরা মানষিকতার জন্যেই নারীদের আমরা ভোগ্যপণ্য মনে করি। সোসাল মিডিয়ায় কোন নির্যাতনের খবর আসলেই এসব নোংরা মানুষ গুলোর খোজ পাওয়া যায় মন্তব্যের ঘরে। মেয়েটি কেনো হিজাব পরেনি, এমনি এমনিই কি আর ধর্ষণ হয়? নিশ্চই মেয়েটির ঝামেলা আছে, বাবা মায়ের জন্যে মেয়েটির এই অবস্থা, পর্দা করলে কি এরকম হতো? এ ধরনের হাজারো মন্তব্যের দেখা নিলে সেখানে। এত বড় একটি অমানবিক কাজ হয়েছে তা নিয়ে অথবা ধর্ষকের শাস্তি নিয়ে যেনো মানুষের কোন মাথা ব্যথা নেই৷ তাদের সমস্ত আগ্রহ ঐ মেয়েটিকে নিয়েই । শুধু মাত্র যে ঘটনা গুলো ভাইরাল হয়ে আলোড়ন তুলে শুধু মাত্র সে ঘটনা নিয়েই কিছুদিন হৈচৈ হয় তারপর আবার যেই লাউ সেই কদু।
তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেই শুধু মাত্র নারীদের পোষাকের কারণেই তারা নির্যাতিত হয় তবে যে ছোট্ট শিশু গুলোও আপনাদের লালসা থেকে রেহাই পায়না সে ক্ষেত্রে আপনারা কি বলবেন? এই বাচ্চাদের তো ধর্ম বোঝার মতো বয়স ই হয়নি। তবে তাদের উপরেও কেনো এই অত্যাচার?
৬ মাসের একটা শিশুকে শুনলাম সেদিন তার আপন চাচা ধর্ষণ করেছে। ৬ মাস! মাত্র ৬ মাস। পৃথিবীর কিছুই তো বুঝতে শিখেনি। কিছুদিন আগে আরেক মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেফতার হলেন ছোট্ট বাচ্চাদের নির্যাতনের জন্যে।
এখানে আপনি ধর্মের কি ব্যাখ্যা দাড়া করাবেন? তাও একজন নয়, দু জন নয়, আট -আটজন শিশুকে ধর্ষনের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন ধর্মীয় শিক্ষক যদি এ হীন কাজ করেন তাহলে মানুষ আর কাদের ভরসা করবে? এরা শুধুই ধর্মের লেবাসে ধর্মকে কলংকিত করে।
আজ শুনলাম সায়মা নামের ৭ বছরের একটা শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। খবর টা দেখার পর থেকে আর ঘুমাতে পারছিনা। ভিতরটা ছটফট করছে। কিভাবে পারে এ অমানুষগুলো?

আসলে যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের চেঞ্জ না করতে পারবো ততদিন যতই ধর্ম অথবা সরকারের দোহাই দেই না কেনো এ সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না। পাশাপাশি ধর্ষকদের যদি কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো তাহলে কেউ অপরাধ করার আগে দশবার ভাবতো। বেশীর ভাগ সময় দেখা যায় প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।

আর কতদিন আমরা মুখ বুজে সহ্য করবো? কবে আমাদের মা বোনেরা নিরাপদ ভাবে চলাফেরা করতে পারবে? কবে এ দেশ থেকে নারী নির্যাতন বন্ধ হবে?
যখন এইসব নির্যাতিত ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মুখটা দেখি তখন হৃদয়ের ভেতর থেকে হাহাকার বের হয়ে আসে "আহা বাংলাদেশ, লজ্জা! লজ্জা!"

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
মোঃ আব্দুল কাদির ৭ জুলাই, ২০১৯, ৪:০৯ পিএম says : 0
আপনি কি লিখলেন আর কি বুঝাতে চাইলেন? যে বিষয় নিয়ে শুরু করলেন তার কোন সমাধান না দিয়েই লেখার ইতি টানলেন? কেন এসব হচ্ছে আর তার প্রতিকার কি এবিষয়ে তো কোন কিছুই লিখলেন না? কেন পত্রিকার পাতা ভরাচ্ছেন?
Total Reply(0)
Md.Rafe hussain ৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:৩৩ এএম says : 0
Valo
Total Reply(0)
Md.Rafe hussain ৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:৩৪ এএম says : 0
Valo
Total Reply(0)
মোহাম্মদ ৭ জুলাই, ২০১৯, ৬:২৯ পিএম says : 0
"আসলে যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের চেঞ্জ না করতে পারবো ততদিন যতই ধর্ম অথবা সরকারের দোহাই দেই না কেনো এ সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না"কেন আমরা নিজেদের চ্যাঞ্জ করব? কার ভয়ে বা কাকে খুশি করার জন্য?ভাল করে শুনেন,এমনে এমনে কেউ চ্যাঞ্জ হয়না, হবেনা। প্রথমত আল্লার ভয় থাকতে হবে, দ্বিতীয়ত থাকতে হবে রাষ্ট্রেরর পক্ষ থেকে নগদে কঠোর শাস্তিরর ব্যবস্থা।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ ৭ জুলাই, ২০১৯, ৬:২৯ পিএম says : 1
"আসলে যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের চেঞ্জ না করতে পারবো ততদিন যতই ধর্ম অথবা সরকারের দোহাই দেই না কেনো এ সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না"কেন আমরা নিজেদের চ্যাঞ্জ করব? কার ভয়ে বা কাকে খুশি করার জন্য?ভাল করে শুনেন,এমনে এমনে কেউ চ্যাঞ্জ হয়না, হবেনা। প্রথমত আল্লার ভয় থাকতে হবে, দ্বিতীয়ত থাকতে হবে রাষ্ট্রেরর পক্ষ থেকে নগদে কঠোর শাস্তিরর ব্যবস্থা।
Total Reply(0)
আব্দৃল্লাহ ৭ জুলাই, ২০১৯, ১০:৫৪ পিএম says : 0
যতদিন জবাব দিহিতামুলক সরকার না আসবে তত দিন এরম ধর্ষণ, খুন হত্যা চলতে থাকবে
Total Reply(0)
anowar hossain ৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৫ পিএম says : 0
এ সমস্থ ঘটনার জন্য কোন মন্তব্যের প্রয়োজন নেই প্রতিবাদ আরও জোরালো প্রতিবাদ করুন যাতে ঐ নরপশুর প্রকাশ্য ফাঁসী হয়।
Total Reply(0)
anowar hossain ৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৫ পিএম says : 0
এ সমস্থ ঘটনার জন্য কোন মন্তব্যের প্রয়োজন নেই প্রতিবাদ আরও জোরালো প্রতিবাদ করুন যাতে ঐ নরপশুর প্রকাশ্য ফাঁসী হয়।
Total Reply(0)
করিম ৮ জুলাই, ২০১৯, ২:৩৮ পিএম says : 0
আবাসিক হোটেলে আকাম কুকাম সব হয় , ও খানে যেতে পারে না শিশু ধর্ষন না করে ত্রখন ভূজো মজা
Total Reply(0)
মুফতি রফিকুল ইসলাম ৯ জুলাই, ২০১৯, ৮:৫৪ পিএম says : 0
অপরাধ দমনের জন্য কুরআন বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করা অপরিহার্য। তাহলেই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। •হত্যাকাণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে হত্যা কারীর ফাঁসি বা মৃত্যুদন্ডের মাধ্যমেই। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ولكم فى القصاص حياة يا اولى الالباب অর্থাৎ:হে জ্ঞানী গণ হত্যার বিচার অপরাধীকে হত্যার মাধ্যমেই রয়েছে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জীবন ব্যবস্থা।
Total Reply(0)
Hasan M.D. anwar ১২ জুলাই, ২০১৯, ৭:০২ পিএম says : 0
1st stop all necket picture from mobile. Every body seen this picture action like this. Think this matter. Before not like this. Now why like due to only mobile necket picture.
Total Reply(0)
Miah Muhammad Adel ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১০:৩৯ পিএম says : 0
উচ্চ শিক্ষিত হলেই আর উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত যে নোংরামির প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই ব্যক্তিত্বসমূহ। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সবাই তো তার করুণার পাত্র। তারা যে স্বাধীনভাবে একটা উদ্যোগ নিবেন সে ভাবনা মনে আনার সাহসের অভাব। Abdullah ibn Umar reported: The Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, said, “Every one of you is a shepherd and is responsible for his flock. The leader of people is a guardian and is responsible for his subjects. A man is the guardian of his family and he is responsible for them. A woman is the guardian of her husband’s home and his children and she is responsible for them. The servant of a man is a guardian of the property of his master and he is responsible for it. No doubt, every one of you is a shepherd and is responsible for his flock.” Source: Ṣaḥīḥ al-Bukhārī 6719, Ṣaḥīḥ Muslim 1829
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন