ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়ক বিলীনের পথে

মু. আব্দুর রশীদ, ঝালকাঠি থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম


 ঝালকাঠি উপজেলা সদরের সাথে শেখেরহাট ইউনিয়নের একমাত্র প্রবেশ পথ গাবখান চ্যানেলের নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ৬ কিলোমিটারের এই সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না। গাবখান চ্যানেলের তীর সংলগ্ন সড়কটি প্রতিদিন ভাঙনের পাশাপাশি গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
এলজিইডি বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সঠিকভাবে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ ঢালাই উঠে আগেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবহনগুলো যাত্রীদের নিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গাবখান নৌ রুটের ভারি ও মালবাহী জাহাজ চলাচল করায় পানির স্রোতে সড়কের মাটি ও গাছ ভেঙে পরছে প্রতিদিন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কটি গাবখান চ্যানেলের ভাঙনের কবলে পরে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জায়গার উপর নির্মিত এ সড়কের রক্ষাণাবেক্ষণ করছে এলজিইডি। গাবখান চ্যানেল দিয়ে ভারি নৌযান চলাচল করায় পানির স্রোতে সড়কটির এ বেহাল অবস্থা। এ সড়ক দিয়ে ঝালকাঠি থেকে শেখেরহাট হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী, আমিরাবাদ, স্বরুপকাঠি, বেকুটিয়া থেকে পিরোজপুর অল্প সময়ে যাতায়াত করা যেত। কিন্তু বেহাল দশার কারণে এসব রুটের অধিকাংশ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যা প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও নদী ভাঙনরোধ করতে না পারায় এ বরাদ্দ কোন কাজে আসছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় , নদী ভাঙনরোধে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এর বাস্তবায়ন ঘটবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কের গাবখান, সারেঙ্গল, মীর্জাপুর, রাজপাশা, শিরযুগ অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল। নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ছোট হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এভাবে অব্যাহত থাকলে এ পথে যান চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পরবে।
শিরযুগ এলাকার ইজিবাইক চালক আবুল হোসেন বলেন, এ সড়কটি হয়ে বেকুটিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত যেতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট। অথচ ঝালকাঠি থেকে বেকুটিয়া যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগে। কিন্তু নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ায় এ পথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জানান, প্রতিদিন নদীতে ভেঙে যাওয়ায় এ সড়কটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পরেছে। গাবখান চ্যানেল দিয়ে ভারী নৌযান চলাচলে পানির স্রোতে সড়কটি নদীতে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি রক্ষায় ভাঙন প্রতিরোধে আগে ব্যবস্থা না নিলে বন্যা প্রকল্পের বরাদ্দের ৩ কোটি টাকা কাজে লাগছে না। তবে এ বিষয়ে ঝালকাঠি-২ আসনের সাংসদ আমির হোসেন আমুর মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান বলেন, আমাকে এলজিইডি এ বিষেয়ে অবগত না করলেও ইতোমধ্যেই আমি এই সড়কের ৩৭শ’ মিটার ভাঙন রোধে প্রস্তাব পাঠিয়েছি পানি উন্নয়ন বোর্ডে। স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন