ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানির বৃহৎ প্রকল্প উদ্বোধন

দিনে ৫ লাখ ৮০ হাজার লিটার পানি পাবে ৩০ হাজার মানুষ

বিশেষ সংবাদদাতা কক্সবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে শুরু হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। গত বুধবার এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন। জানা গেছে, পৃথিবীর যেকোন মানবিক সংকটে স্থাপিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রমের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী (জাইকা) সহায়তায় এ পানি সরবরাহ কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। বুধবার দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার ১২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আইওএম ও জাইকা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দ‚তাবাসের মিনিষ্টার তাকেসী-ইতো, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি হিতোশী হিরাতা, আইওএম’র বাংলাদেশ মিশন প্রধান জর্জ গিগৌরী।

প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন এ প্রকল্পের উদ্বোধনের পর অতিথিদের প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা দেন আইওএম-এর সংশ্লিষ্টরা। তিনি জানান, এই সৌরবিদ্যুৎ চালিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মাধ্যমে দৈনিক ৫ লাখ ৮০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন করা হবে। প্রধান অতিথি বলেন, এ প্রকল্প দুটি সংস্থার সম্মিলিত কাজের সুফল। এর মাধ্যমে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটবে। জাপান দ‚তাবাসের মিনিষ্টার তাকেসী-ইতো বলেন, বাংলাদেশ সাত লাখেরও বেশি শরণার্থী গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন লাখ লাখ লোকের পানির চাহিদা মিটাব। এর মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ছয় নম্বর শর্ত ‘সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ’ নিশ্চিত হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এ নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড় এবং খুবই সাশ্রয়ী। যৌথ প্রচেষ্টার একটা বড় সাফল্য এটি। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২ এবং ১৯ নম্বর ক্যাম্পের ৮৭ পানি সরবরাহ পয়েন্টে ৩৫৮টি ট্যাপে ২৪-ঘন্টা পানি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি এ পানির নেটওয়ার্কের বিশুদ্ধতা রক্ষায় রয়েছে একটি পরিশোধক প্লান্ট।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জর্জ গিগৌরী বলেন, এ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কটির সাথে পরিচিত করানোর জন্য আমরা রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে শরণার্থীদের সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে আইওএম। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এখানকার অধিবাসীরা এ প্রযুক্তির সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে সেজন্যে কাজ করবে আইওএম।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন