ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

দেশের উন্নতির ব্যারোমিটার তরতর করে উপরে উঠছে। কিন্তু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাসমূহ কি বাস্তবায়িত হয়েছে? এমন প্রশ্ন দেশের বেশিরভাগ মানুষের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল সুর হচ্ছে, অবাধ গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা এবং সকলের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসন। স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি দ্বারপ্রান্তে। দুঃখের বিষয়, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে গণতন্ত্র এখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি । কখনো গণতন্ত্রের খোলসে, কখনো সামরিক তন্ত্র-এর মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্র এক দলীয় শাসনে বন্দি হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে জাপা’র চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। গত ১৯ আগস্ট তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে’। স্মরণীয় যে, গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। দলমত নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনভাবে যুক্তিযুক্ত মতামত ব্যক্ত করার অধিকার। এক্ষেত্রে এখন ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো তাদের কার্যক্রম এবং মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারছে না। এমনকি কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা পর্যন্ত হুমকি দিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ খোদ ভারতেই এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা, প্রতিবাদ চলছে। দেশের ছাত্র রাজনীতির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। এরশাদের পতনের পর থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের কোন নির্বাচন হয়নি (চলতি বছর ডাকসু নির্বাচন ছাড়া)। উপরন্তু একদলীয় ছাত্র রাজনীতি তথা যখন যে দল ক্ষমতায় থেকেছে, শুধুমাত্র তারই ছাত্র সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে একই অবস্থা ট্রেড ইউনিয়ন অঙ্গনেও। ফলে দেশে তরুণ ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। অথচ কতিপয় আমলা ও ব্যবসায়ী অনবরত বিনা বাধায় সরকারী দলের হয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন। কিন্তু সে নির্বাচনী ব্যবস্থা অগ্রহণযোগ্য হতে হতে নির্বাসিত হতে চলেছে। নির্বাচনের দিনের কাজ এখন আগের রাতেই শেষ হয়ে যায়। যা দেশ-বিদেশের সর্বত্রই প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে, ন্যায় বিচার এখনো সোনার হরিণ হয়েই রয়েছে। এ ব্যাপারে আদালতের একটি মন্তব্য স্মরণযোগ্য। ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ বিশেষত শিশু ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার দায় মূলত রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগও জবাবদিহিতার উর্ধ্বে নয়। গত ১৮ জুলাই বগুড়ার একটি শিশু ধর্ষণ মামলার আসামির জামিনসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত’। প্রায় একই অবস্থা দেশের প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই লক্ষ্যণীয়। এতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর পর্যন্ত প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। তার ওপর বারবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাই প্রমাণ করে দেশে সরকারের ভিন্নমত প্রকাশ করা কত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কি কেউ আগামীতে বিরোধী দল থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশপ্রহণ করতে রাজী হবে সহজে রাজী হওয়ার কথা নয়। ফলে শিক্ষাঙ্গনের নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়ে যাবে সরকারী ছাত্র সংগঠনের নেতারা। খুন, গুম, অপহরণ, মাদক ইত্যাদির তো অন্ত নেই। এসব কর্মের সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িত রয়েছে বলে প্রায়ই মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এমনকি বিষয়টি জাতি সংঘ পর্যন্ত গড়িয়েছে। যেমন: বাংলাদেশে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী ‘কমিটি এগেইনস্ট টর্চার’। এক্ষেত্রে অভিযোগ যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্তের সুপারিশ সহ প্রায় ৯০টি সুপারিশ করা হয়েছে গত ৯ আগস্ট। এর প্রেক্ষিতে নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুত্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কি অগ্রগতি হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি ফলোআপ রিপোর্ট জমা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে ৭টি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন। অবশ্য জাতিসংঘের এই কমিটি যখন গত ৩০-৩১ জুলাই জেনেভায় পর্যালোচনা সভা করেছিল, তাতে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বেই একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। তাতে তিনি আইন শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগসমূহ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশে এমন কোনও অপরাধ নেই যার সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পৃক্ততা নেই, যোগসাজশ নেই বা অংশগ্রহণ নেই। আইনের রক্ষক হয়ে একটি অংশ ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই আবার ভালো কাজও করছেন। দেশ-বিদেশে পুরস্কৃতও হচ্ছেন। কিন্তু তাদের একটি অংশ ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন এটি রোধ করা না গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘনকারী রাখতে হবে’। ২২ আগস্ট জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে এইচআরএফবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অপরদিকে, দেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। এর অনেকগুলো কয়েক যুগ আগের। গত ২২ আগস্ট আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের আদালতগুলোয় ৩১ বা ৩২ কিংবা ৩৩ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে । এটা অস্বাভাবিক সংখ্যা। অস্বাভাবিক এই মামলা জট দ্রæত কমিয়ে আনতে হবে’। কিন্তু বিচারকের সব পদ পূরণ না করে রাজনৈতিক মামলা করা বন্ধ না হলে তা করা কি সম্ভব? সম্ভব নয়। বিচারাধীন মামলার এ সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায় দেশে অপরাধের হার কত। উল্লেখ্য, সব অপরাধ আদালত পর্যন্ত গড়ায় না। আদালতের বাইরে অসংখ্য অপরাধ থেকে যায়। এ দেশের সাধারণ মানুষ নিরুপায় না হলে মামলায় জড়ায় না। দ্বিতীয়ত: বিচার হওয়া মামলা নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে। কারণ, দেশের বিচার বিভাগ এখনো পূর্ণ স্বাধীন নয়। এছাড়া কতিপয় বিচারপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগ খোদ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের। তিনি গত ২২ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা তিন বিচারপতি ছাড়াও হাইকোর্টের আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও গত ২২ আগস্ট সাংবাদিকদের বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের অনুসন্ধান বিচার বিভাগের অন্যদের জন্য একটি বার্তা। বাংলাদেশে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায় তাদেরকে বিচার কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পর্যন্ত নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয় এখন দুদকে তদন্তাধীন। এই হচ্ছে উচ্চ আদালতের অবস্থা ! নিম্ন আদালতের অবস্থা আরও খারাপ বলে অনেকের অভিমত। এছাড়া, প্রশাসনের আরও বহু লোকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনের লোকজনের মধ্যেই নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলার প্রচন্ড অভাব রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সর্বত্রই দলীয়করণের কারণেই এবং জবাবদিহিতা না থাকায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ ঘোর অন্ধকারের দিকে নিপতিত হবে।

দেশে বেকারত্ব সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে । আইএলও’র প্রতিবেদন মতে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ছিল ৪.৪%। আর উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০.৭%, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭% স্নাতকই বেকার। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ কর্তৃক পরিচালিত ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা ২০১৭’ শীর্ষক সমীক্ষা মতে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬.৪%। সেই তুলনায় কম শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার কম। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের বেকারত্বের হার ৭.৫%। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্কিলস ফর টুমরোস জবস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কলেজগুলো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা ৭০% গ্র্যাজুয়েট বেকার থাকে এবং বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪.২% । উল্লেখ্য, উক্ত তথ্য প্রকাশের পর দেশে বেকারত্ব কমেনি । বরং বেড়েছে। কারণ, প্রতিবছর ২১ হাজারের বেশি তরুণ শ্রম বাজরে প্রবেশ করছে। কিন্তু এর অর্ধেক লোকেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না দেশে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিমত হচ্ছে: ‘লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে সরকার। একেবারে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত এখন লুটপাট চলছে। টিআর কাবিখা থেকে শুরু করে একেবারে মেগাপ্রজেক্ট পর্যন্ত সব জায়গায় ভাগ-বাটোয়ারা চলছে। আগে সরকার ছিল অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। এখন হয়েছে, অব দ্য লুটেরাস, বাই দ্য লুটেরাস, ফর দ্য লুটেরাস। এ ছাড়া আর কিছু নেই’। গত ২০ আগস্ট এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন । অপরদিকে, দুদক চেয়ারম্যান গত ২১ আগস্ট বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিকাশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দুর্নীতি’। আর ঋণ খেলাপি নামক এক মরণ যাত্রা শুরু হয়েছে দেশে। ঋণ খেলাপির ভারে ব্যাংকগুলো ন্যুজ্ব হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য সরকার নানা সুবিধা ঘোষণা করেছেন। তবুও খেলাপির পরিমাণ কমেনি, বরং বেড়েছে। কারণ, যে ব্যাধিতে যে ওষুধ দরকার, সেটা না দিলে যা হয়, তাই হয়েছে এ দেশের ব্যাংকগুলোতে। স্মরণীয় যে, দুর্নীতির একটি বিরাট অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই লুটপাট ও দুর্নীতি যে শুধু এই সরকারের আমলেই শুরু হয়েছে, তা নয়। কম-বেশি আগেও ছিল। আর এই লুটপাটের মাধ্যমেই কতিপয় মানুষ রাতারাতি আঙ্গুল ফলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে। স্বাধীনতার পূর্বে সাবেক পাকিস্তানে ধনী পরিবার ছিল ২২টি। এখন শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ধনী পরিবারের সংখ্যা ২২ হাজারের অধিক হয়েছে । অতি দ্রুত ধনী হওয়া দিক দিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষ যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। তাদের অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। আয় বৈষম্য বাড়তে বাড়তে এখন বিশ্ব মানদন্ড অনুযায়ী প্রায় সর্বোচ্চ হয়েছে। অন্যদিকে, জিডিপি, মাথাপিছু আয় যে হারে বাড়ছে, সে হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ফলে দারিদ্র বিমোচনের হার শ্লথ হয়ে পড়েছে। উপরন্তু দরিদ্র মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও অপ্রতুল। বিশ্ব পর্যায়ে নিম্নতর। স¤প্রতি প্রকাশিত এডিবি’র প্রতিবেদন মতে, ‘সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে এশিয়ার ২৫টি দেশের ‘দ্য সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন্ডিকেটর ফর এশিয়া : অ্যাসেসিং প্রগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জিডিপির মাত্র ১.২% পরিমাণ আর্থ-সামাজিক সুরক্ষায় খরচ করে। তালিকার শীর্ষে থাকা জাপান খরচ করে জিডিপির ২১ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ এশিয়ার নিচের দিকে পাঁচটি দেশের একটি। বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভুটান ও লাওস। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ২১তম। বাংলাদেশের মাত্র ১৬.৬% মানুষ সামাজিক সুরক্ষার কোনও না কোনও সুবিধা পান। তবে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির মাত্র ০.২% গরিব মানুষের পেছনে খরচ হয়। আর ধনীদের পেছনে খরচ হয় ০.৮%। এর মানে, গরিবের পেছনে যত টাকা খরচ হয়, এর চারগুণ বেশি টাকা ধনীদের জন্য খরচ হয়। জানা যায়, দেশে এখন ৭৪ লাখ লোক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পান। এই কর্মসূচির আওতায় সরকার বিধবা ভাতা, দরিদ্র নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি দিয়ে থাকে। এ ছাড়া টেস্ট রিলিফ, ভিজিডি, কাবিটা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচিও আছে। তবে সব নাগরিক পায় এমন কোনও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাংলাদেশে নেই। গত অর্থবছরে ১৬ ধরনের কর্মসূচিতে ২৭,৫২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে । ১০ বছর আগে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮,৯০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪,৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ২.৫৮% । এই হিসাবের মধ্যে অবশ্য সরকারি পেনশনভোগীদের জন্য বরাদ্দ করা টাকাও আছে। কিন্তু সরকারি চাকরির পর অবসরভোগীদের প্রায় শতভাগই দারিদ্র্যসীমার ওপরে বাস করেন। তাই পেনশন বাবদ খরচ বাদ দিলে সামাজিক নিরাপত্তায় খরচ জিডিপির ২ শতাংশের মতো হয়। প্রসঙ্গত দেশে শুধুমাত্র মানুষের মধ্যেই বিশাল আয় বৈষম্য আছে, তা নয়, অঞ্চল ভিত্তিতেও ব্যাপক বৈষম্য আছে। তাই অবহেলিত অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার এখনও ৬০-৭০%। এছাড়া, নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি সুরক্ষা বেশি। আর এসব বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে সরকারের মাধ্যমেই। তাই সরকারকেই সব বৈষম্য দূর করতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Reza ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৩২ পিএম says : 0
HAPPENING RAPE ,DEVELOPING RAPIST & ADVOCATES .WHAT WILL DO OUR COUNTRY WITH A LARGE NUMBER OF RAPISTS ?
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন