ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মৌলবাদি রাজনীতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভাল নয় : মোহাম্মদ এ আরাফাত

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:৩৪ পিএম

প্রতিক্রিয়াশীলদের আদর্শ দিয়ে পরাজিত করতে হবে বলে মন্তব্য করে সুচিন্তা বাংলাদেশ ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেছেন, মৌলবাদি রাজনীতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য ও অর্থনীতির জন্য ভাল নয়।
আরাফাত বলেন, দেশের ভেতর থেকে রাজনীতি মাপা কঠিন। বাইরে দেখলে আমরা কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি করছেন। তিনি ক্ষমতায়ও এসেছেন মৌলবাদকে ধারণ করে। এছাড়া ব্রিটেনের রাজনীতিও উগ্রবাদকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের নরেন্দ্র মোদিও সেই মৌলবাদকে ধারণ করে ক্ষমতায় এসেছেন। ফলাফল কী হলো-যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ভারতের অর্থনীতি নিচে নামতে শুরু করেছে।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজনে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে অদম্য শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে হত্যা করে থেমে যায়নি, তারা পরে জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করেছে। এমনকি ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন সেই সংখ্যাটিও তারা বদলে দিয়েছে। তারা এই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংজ্ঞাও পাল্টে দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জিডিপি ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতো দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট বয়স ৪৮ বছর। প্রতিক্রিয়াশীলরা ওয়ান ইলেভেনসহ মোট ২৮ বছর ক্ষমতায় ছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো মাত্র সাড়ে ১৯ বছর। এই সময়ে পাকিস্তান থেকে আমরা জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয়, জিডিপিসহ সবক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছি। এটি বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে ধারণ করে ক্ষমতায় আসেননি। তিনি এসেছেন জনসমর্থন নিয়ে। সেই লক্ষে তিনি কাজ করছেন। তার প্রমাণ তিনি বিশ্বকে দেবেন এভাবে- বাংলাদেশের জিডিপি দেখো, মাথাপিছু আয় দেখো, শিক্ষার হার দেখো।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, প্রগতির চিন্তা-ধারা কখনও ইসলামের বিরুদ্ধে নয়। ইসলামের আবির্ভাব হয়েছে সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে। আমরা কেন ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করব?

তিনি বলেন, যারা ইসলামে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন তাদেরকে প্রগতির কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা তুলে ধরাও ঈমানী দায়িত্ব। অন্তত আমি নিজে এমন মনে করি। তাই আমাদের দায়িত্ব হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নগুলো মানুষের মাঝে পৌঁছিয়ে দেওয়া।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আর্থ-সামাজিক থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। একসময় রাজনীতি ছিলো এক পক্ষ ডান আরেক পক্ষ বাম কেন্দ্রিক। সবার একটাই চাওয়া ছিলো পকেট ভারি করা। এই থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি সেক্টর ভিত্তিক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ইশতিহার ভিত্তিক রাজনীতি প্রচলণ করেন একমাত্র শেখ হাসিনা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে সাড়ে ১০ বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরকম ভাতা দেওয়া হয় শুধু উন্নত দেশগুলোতে। এমনকি প্রত্যেক নাগরিককে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী। তিনি ‌'বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে অদম্য শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সমন্বয়ক তপন চক্রবর্তী।

বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, সুচিন্তার উপদেষ্টা স্থপতি আশিক ইমরান, বিশিষ্ট ব্যাংকার আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সিজার প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশন এর ট্রেজারার তারেক শমী, আজ সারাবেলার সম্পাদক জব্বার হোসেন, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইমরান, সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সমন্বয়ক আবু হাসনাত চৌধুরী, ডা. হোসেন আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, কার্যকরী সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, প্রণব চৌধুরী, সরফরাজ নেওয়াজ রবিন, বোখারী আজম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। পরে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন