ঢাকা, সোমবার , ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০৬ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

বিমানবন্দরে রফতানি পণ্যের কার্গো সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা থেকে শুরু করে কার্গো সার্ভিসের সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার বিষয়টি নতুন নয়। বহুদিন ধরেই বন্দরটির সেবার মান নিয়ে দেশে-বিদেশে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অতীতে বন্দরটির নাজুক নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ এ বন্দর ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। সেবার নি¤œমান, যাত্রী হয়রানি, মালামাল খোয়া যাওয়া, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবসহ এন্তার অভিযোগ সত্তে¡ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। সংস্থাটি কেবল করব, করছি বলে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এই উন্নতি না হওয়ার কারণে এখন দেশের পণ্য রফতানি কারকরা পার্শ্ববর্তী কলকাতা ও কলম্বো বিমানবন্দর ব্যবহার করা শুরু করেছে। গতকাল একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি ব্যয়বহুল হওয়ায় সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য রফতানিকারকরা কলকাতা ও কলম্বো বিমানবন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের বাজার হারাতে বসেছে বন্দরটি। এর মূল কারণ, বিমানের বাড়তি ভাড়া, স্ক্যানিং ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অতিরিক্ত চার্জ। এছাড়া অবকাঠামোগত সমস্যা, পণ্য রাখার পর্যাপ্ত স্থানের অভাব, পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং কার্গো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অলিখিত চার্জের কারণে রফতানিকারকরা বন্দরটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিমানবন্দরে কম সময় ও ব্যয়ে অধিক সুবিধা পাওয়ার কারণে সেগুলো ব্যবহার শুরু করেছে। এতে কার্গো পরিবহনে বিমানের আয়ও কমে গেছে।

এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার যে, রফতানিকারকরা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যেখানে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে সেখানে যাবে। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রফতানিকারকদের এ সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে না বলে তারা পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করা শুরু করেছেন। রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যয়বহুল বিমানবন্দর। সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরও এত ব্যয়বহুল নয়। যেখানে শাহজালাল বিমানবন্দরে স্কেনিং চার্জ, হ্যান্ডলিং চার্জসহ খরচ হয় ১৮-২০ ইউএস সেন্ট, সেখানে কলকাতা ও কলম্বো বিমানবন্দরে খরচ হয় মাত্র ১২ সেন্ট। সেখানে পণ্য রাখার পর্যাপ্ত জায়গা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি চার্জ এবং সময়ও কম লাগে। সব মিলিয়ে শাহজালালের চেয়ে শতকরা ২৫ ভাগ খরচ কম হয়। সঙ্গত কারণে রফতানিকারকরা এ সুবিধা নেবেন। বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগের বেশি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রফতানি করা হয়। বিমানের চেয়ে সমুদ্রপথে খরচ কম লাগায় রফতানিকারকরা এ পথ বেছে নেন। শুধুমাত্র জরুরি ভিত্তিতে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ার কার্গো বেছে নেয়া হয়। আমাদের দেশে সাধারণত পোশাক রফতানিকারকরা সমুদ্র পথে যথাসময়ে বায়ারের কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে, খরচ বেশি পড়লেও এয়ার কার্গো বেছে নেন। এতে বিমানের লাভ হয়। প্রতি মাসে বিমানবন্দর দিয়ে গড়ে আড়াই হাজার টন পোশাক রফতানি হয়। ভর মৌসুমে তা আরও বৃদ্ধি পায়। রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, শাহজালাল থেকে সরাসরি ইউরোপে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ২.২০ ডলার খরচ হয়। পাশাপাশি হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ ৮ সেন্ট এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশকে (সিএবি) বিভিন্ন সিকিউরিটি স্ক্যানিং চার্জ বাবদ আরও ৬ সেন্ট দিতে হয়। এ খরচ পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধার অভাবও রয়েছে। ফলে অনেক রফতানিকারক সময় ও খরচ বাঁচাতে সেসব বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। এতে বিমান যেমন ক্লায়েন্ট হারাচ্ছে, তেমনি এ খাতে তার আয়ও কমছে। যদিও বিমানের এক কর্মকর্তা দাবী করেছেন, প্রতিবেশীরা যে দামে পরিবহন করে সে দামেই তারা করছেন। যদি তাই হয়, তবে রফতানিকারকরা কেন প্রতিবেশী দেশের কার্গো সার্ভিস বেছে নিচ্ছেন? বলার অপেক্ষা রাখে না, শাহজালাল বিমান বন্দরের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যাত্রী হয়রানি, মালামাল খোয়া যাওয়া, চুরি হওয়া থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের আচরণ সন্তোষজনক নয়। এই সমস্যার মধ্যে বিদেশিদেরও পড়তে হচ্ছে। বিমান কর্তৃপক্ষ কেবল উন্নতি হচ্ছে বলে দাবী করছে। অথচ বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। কবে বিমানবন্দরটি বিশ্বমানের হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কার্গোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রফতানিকারকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এই বিমানবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর দায় বিমান কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দর যদি আমাদের রফতানিকারকদের সন্তোষজনক ও সাশ্রয়ী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে, তাহলে আমাদের বিমান কেন তা পারছে না? আমাদের দেশের রাজস্ব অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এমনিতেই আমাদের সার্বিক রফতানি নিম্নমুখী। তার ওপর যা হচ্ছে, তাও সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে এর চেয়ে পরিতাপের বিষয় আর কিছু হতে পারে না। বলা যায়, বিমান কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সারাবিশ্বই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, স্টেকহোল্ডারদের নানাবিদ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আকৃষ্ট করছে, সেখানে আমাদের বিমান কর্তৃপক্ষ উদাসীন হয়ে রয়েছে। ক্রমাগত ক্লায়েন্ট হারাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিমান কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। রফতানিকারকরা যাতে পাশ্ববর্র্তী দেশের বিমানবন্দরমুখী না হয়, এ ব্যবস্থা করা। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে যে উচ্চমাত্রায় চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাথে সামঞ্জস্য করে ধার্য করা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
ash ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:৩২ পিএম says : 0
PROSHASHON JODI OPODARTHO HOY, TAHOLE SHOB KHETREI OROJOKOTA R SHRISHTHI HOY
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন