ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সরকারি গাছ কাটলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বয়সী ১৫/২০টি ফলদ ও বনজ গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সব গাছের বর্তমান বাজার মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। গাছ কাটার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কিছু কাটা গাছের গুঁড়ি দেখিয়ে সে সবের মূল্য নির্ধারণের জন্য সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তর একই জায়গায় হলেও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কার্যালয়টি শহরের নয়াটোলা জসিমবাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। আর এ দপ্তরের সীমানা প্রাচীরের চতুর্দিকে বিভিন্ন বয়সী অনেকগুলো বনজ ও ফলজ গাছপালা রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়টি পৃথক জায়গায় হওয়ায় প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক অফিস চত্বরের বিভিন্ন বয়সী প্রায় ১৫/২০টি ফলদ ও বনজ গাছ কেটে অত্যন্ত গোপনে বিক্রি করা শুরু করে। গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থেকে শুরু হয়ে গত সোমবার পর্যন্ত ওই সব গাছ কাটা করা হয়। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস চত্বরের গাছ কাটার খবর পেয়ে গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে বেশ কিছু গাছের গুড়ি ও কাটা গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায় যে গাছ কাটার পর অনেক গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক জানান, তার অফিসের পাশে দিয়ে ১১ হাজার কেভি ক্ষতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন রয়েছে। অফিসের একটি গাছের ডালপালার কারণে তা একবারে বিপদজনক অবস্থায় ছিল। এছাড়াও অফিস ভবনের ওপরে গাছের ডালপালা থাকায় অফিসে রোদ ও আলো-বাতাস পাওয়া যায় না। গাছের ডালপালায় অফিসভবন সারাক্ষণ অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। এতে মশা মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অফিসে বসে ঠিকভাবে কাজকর্ম করা দূরহ হয়ে পড়েছে। তাই একটি কদম গাছসহ কিছু গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। তিনি জানান, কাটা গাছের মূল্য সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাটা গাছের গুড়িগুলো আজ বুধবার উন্মুক্ত লিলামের মাধ্যমে বিক্রি কর্ াহবে বলে জানান তিনি। আর অফিস চত্বরের গাছের ডালপালা কাটার জন্য জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে কথা হলে সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন