সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

মহানগর

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়

প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সায়ীদ আবদুল মালিক : ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। গুলশান আর্টিজান রেস্টুরেন্ট এবং ঈদের দিন শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা ঘটলেও ঈদে শিশুদের বিনোদনে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে কিছুটা শঙ্কিত ও সতর্ক রয়েছেন অভিভাবকরা। যদিও প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রেই রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গতকাল শনিবার ছিল ঈদের টানা ৯ দিনের ছুটির শেষ দিন। ছুটি থাকায় রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে নগরীর বাসিন্দারা নগরির বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় জমান। ঈদ উপলক্ষে নতুনরূপে সজ্জিত বিনোদন কেন্দ্রে শিশু-কিশোরেরা নিজেদেরও আরো রঙিন করে তুলেছে।
গতকাল রাজধানীর শিশুপার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি লেক, চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিল, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শ্যামলী শিশু মেলা কিংবা ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কÑসবখানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ এসব বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে সময় কাটিয়েছেন।
রোদ উপেক্ষা করে সকাল থেকেই শাহবাগের শিশুপার্কের রাইডগুলোতে চড়ার জন্য অভিভাবকসহ শিশুদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রখর রোদ থাকলেও শিশুদের মুখচ্ছবিতে ছিল না বিরক্তির ছাপ।
শাহবাগ শিশুপার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরই আমরা নিজেদের আনন্দ-বিনোদন ভুলে শিশুপার্ক পরিচালনা করি। এটা আমাদের প্রতি বছরের ঈদের সময়ের কাজ। শিশুপার্কে আসা শিশুরা যাতে আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ৯ বছর বয়সী আদিবা শিশুপার্কে এসেছে বাবার হাত ধরে। ট্রেনে ওঠার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কষ্টের কথা জানতে চাইলে তার বাবা আবদুর রহিম বলেন, ভিড় বেশি তাই কষ্টও একটু বেশিই হচ্ছে। কিন্তু বাচ্চার আবদার মেটাতে এটুকু সহ্য করতেই হবে আমাদের।
তিনি বলেন, বাচ্চার রাইডে চড়া শেষ হলে এখান থেকে যাব হাতিরঝিলে। সেখানে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যোগ দেবে। ওখান থেকে রিকশায় বেড়ানোর ইচ্ছা আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটু শঙ্কায় আছেন।
শিশুপার্কের মতো একই অবস্থা শ্যামলীর শিশুমেলায়। এই পার্কেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সঙ্গে এই সব বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। লোকে লোকারণ্য ছিল ঢাকা চিড়িয়াখানাও। চিড়িয়াখানায় হাজার হাজার দর্শনার্থী এসেছেন পশুপাখি দেখার জন্য।
মিরপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। বাড়তি ভিড় সামলাতে ও দর্শনার্থীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা প্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার দর্শনার্থী আসেন। কিন্তু ঈদের দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি। আজ আরও বেশি হবে বলে জানা যায়।
বছরের অন্য সময়ে রাজধানীর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও ঈদের ছুটিতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনে কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লক ব্লাস্টার সিনেমাসহ রাজধানীর সব প্রেক্ষাগৃহে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর প্রদর্শনীতে হাউসফুল যাচ্ছে।
শ্যামলীতে শিশুদের বিনোদনের জন্য বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত শিশু মেলায়ও জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবেশমুখে দর্শনার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে টিকিট বিক্রেতাদের। অল্প পরিসরে সেখানে অনেক রাইডারের ব্যবস্থা থাকায় শিশুদের প্রিয় পার্কের তালিকায় রয়েছে এটি।
শ্যামলীর শিশু মেলা পার্কের ব্যবস্থাপক নূরুল হুদা মুকুল বলেন, আবহাওয়া ভাল থাকায়, পার্কে দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেশি হয়েছে।
মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গতকাল দুপুরে চিড়িয়াখান গেইটে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইন দিয়ে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করছে।
ঘুরতে আসা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সঙ্গে কথা হয় মিরপুর চিড়িয়াখানায়। তাদের একজন নাজনীন সোলতানা, তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় এসেছি। অনেকদিন ঢাকায় থাকলেও বহুদিন এখানে আসা হয়নি। পরিবারের সঙ্গে ছোটবেলায় এসেছি, কিন্তু তখন হইহুল্লোড় করতে পারিনি। এবার পরিকল্পনা করে এসেছি মজা করব।
চিড়িয়াখানার ভেতরে হকারদের আনাগোনা এবং তাদের পণ্য কিনতে বাধ্য করার চিত্র চোখে পড়েছে। কোথাও যুগল দেখলে তাদের সামনে নানা ফন্দি করে কিনতে বাধ্য করে। দর্শনার্থীদের এই ভোগান্তি থেকে এবারও রক্ষা করতে পারেনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
চিড়িয়াখানা দেখে বোটানিকাল গার্ডেনের প্রবেশ মুখেও ভিড় ছিল বিকেল পর্যন্ত। জাফর আহমদ চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী তার পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসছেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে। সময়ের অভাবে তিনি আসতে পারেন না। তাই আজ (গতকাল) সরকারি ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি।
পুরনো ঢাকার লালবাগের কেল্লায়ও ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকেই আসতে থাকে দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সরজমিন দেখা গেছে, প্রচ- ভিড় থাকায় যারা টিকিট বিক্রির দায়িত্বে আছেন তারা অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন। গেট দিয়ে ঢুকলে প্রথমেই পরীবিবির মাজার। দর্শনার্থীরা প্রথমেই মাজারের সামনে গিয়ে দেখছেন কবরটিকে। কেউ বসে সময় কাটাচ্ছেন। শিশুরা শুকনো ফোয়ারার নিচে নেমে উল্লাস করছে। তারপর ছুটছেন পাশের দক্ষিণ দিকের দুর্গে। নানা বয়সী দর্শনার্থী দুর্গে উঠছেন আর ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এরপর ছুটছেন কেল্লার দরবার হল ও হাম্মামখানায়। দরবার ঘরের নিচতলায় হাম্মামখানায় প্রচন্ড ভিড় ছিল। মোগল স্থাপত্যের নিদর্শনটি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করায় সেই আমলের বিভিন্ন হালকা-ভারী অস্ত্র, যুদ্ধের পোশাক, গোসলখানা ও ব্যবহার্য তৈজসপত্র ঘুরে-ফিরে দেখছিলেন দর্শনার্থীরা।
লম্বা ছুটির শেষ দিনে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দনপার্ক এবং গাজীপুরের সাফারিপার্কেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
নয় দিনের ছুটির পর অফিস খুলবে আজ রোববার। স্বচ্ছন্দে রাজধানী কিংবা এর আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর শেষ দিন ছিল গতকাল শনিবার। আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে ব্যস্ততা। হয়ত ঢাকার চিরচেনা যানজটও। তাই যতটুকু সম্ভব মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা নগরবাসীর।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন