ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক বিএনপির

৮৭ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্যাকেজ প্রস্তাবনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনায় সৃষ্ট মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সেই সাথে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দলটি। গতকাল চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি করেন। করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক প্যাকেজ প্রস্তাবনা ঘোষণার জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মহাসচিব করোনা মোকাবেলায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্যাকেজ প্রস্তাবনা বিএনপির পক্ষে তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় যে কোনো গঠনমূলক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগে শামিল হতে বিএনপি প্রস্তুত। এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দম্ভ, অহঙ্কার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে সরকারকেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এই মহাদুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কাশি, জ্বর হলেই তা করোনা নাও হতে পারে। তাই এখন প্রয়োজন পরীক্ষা পরীক্ষা আর পরীক্ষা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সরকারের রোগ পরীক্ষা এবং আক্রান্তের পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অথচ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে তারাই সুফল পেয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও আইইডিসিআর’র হটলাইনে ফোন করে সেবা পাচ্ছে না। বাংলাদেশে গত দুই মাসে আট লাখ মানুষ করোনা হটলাইনে ফোন করেন। ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১০০ জনকে টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি কেস করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।

দেশে মৃত্যুর হার করোনা বিধ্বস্ত ইতালির তুলনায় অনেক বেশি দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১০.৪ শতাংশ অথচ ইতালিতে মৃত্যুর হার ১০.২ শতাংশ। নিঃসন্দেহে রোগ পরীক্ষার স্বল্পতাই এই হিমশীতল মৃত্যুহারের কারণ। প্রতি হাজারে কোরিয়া যেখানে টেস্ট করেছে ছয়জন, সেখানে বাংলাদেশ প্রতি ১০ লাখে টেস্ট করেছে মাত্র ছয়জন। এটা কি উদাসীনতা না উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ মহাদুর্যোগের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ এ তথ্যের অস্বচ্ছতার কারণে জাতিকে কোনো চড়া মূল্য দিতে হয় কি না সেটাই আশঙ্কা।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা কিট নিতান্তই অপ্রতুল। হাসপাতালে পিপিই ও পরীক্ষা কিটের অভাবে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের চিকিৎসা করছে না। এমনকি অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করছে না। এক কথায় সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে নেয়া পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, স্থানীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং শাটডাউনের কারণে কর্মহীন দুস্থ জনগণের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহামারীর ভয়াবহতা অনুভব করে বিএনপিই প্রথম জনগণের মধ্যে গণসচেতনতামূলক সচিত্র লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ শুরু করে।

দিনমজুর শ্রেণির কষ্ট লাঘবের জন্য বিএনপি সারাদেশে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) হেল্পলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সহযোগিতা প্রদান শুরু করেছে। প্রতিদিন এ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র পরিসরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এলাকাভিত্তিক দরিদ্র জনগণের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী ও সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে। যতদিন প্রয়োজন সীমিত সামর্থের মধ্যে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং যেসব সংবাদকর্মী মহামারীর নিউজ, তথ্য, চিত্র কভার করছেন জাতির পক্ষ থেকে আমরা তাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

বিশ্বব্যাপী যেসব বিজ্ঞানী, রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও গবেষক মানব সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।

নভেল করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিাতিতে দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ‘প্যাকেজ প্রস্তাবনা’ দিয়েছে বিএনপি। স্বল্পমেয়াদি খাতে ৬১ হাজার কোটি টাকা, মধ্যমেয়াদি খাতে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অতিরিক্ত আরো ৮ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাবনা রয়েছে এতে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনায় সুনির্দিষ্টভাবে খাতওয়ারি বরাদ্দের কথা বলা হয়নি। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি খাতের আওতায় ২৭ দফার এই প্রস্তাবনায় সুপারিশসমূহ সরকারের কাছে প্রেরণ করবে বিএনপি

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য জিডিপির ৩ শতাংশ অর্থ সমন্বয়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করতে হবে। শাটডাউন প্রত্যাহার হলে নতুন করে একটি সংশোধিত আর্থিক প্যাকেজ প্রদান করতে হবে যে, সকল সেক্টরের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সাধারণ ছুটিপূর্ব স্তরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। এসময়ে বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন