ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

তবুও ফিরছে কর্মমুখী বাণিজ্যিক রাজধানী

লাখো মানুষের ভিড়-হুড়োহুড়ি স্বাস্থ্যবিধির শর্ত মানা ও মানানোর গরজ কম

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

রুজি-রোজগারের টানে ছুটে চলা লাখো মানুষের ভিড় হুড়োহুড়ি। গায়ে গা-ঘেঁষে সড়ক মোড় ফুটপাত রাস্তাঘাটে জনস্রোত। যানজট আর জনজট। বন্দর-ঘাটে, ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র, ব্যাংক-বীমা, হাট-বাজার, ইপিজেড গার্মেন্টসহ শিল্পাঞ্চল কোথায় নেই মানুষের ভিড়-জটলা? তালগোল পাকানো অবস্থা। লকডাউন শিথিল একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অফিস, সংস্থা-বিভাগ, প্রতিষ্ঠানগুলোসহ ব্যবসা-বাণিজ্যিক কর্মকান্ড খুলে দেয়ার সুবাদে যেন হুমড়ি খেয়ে বেরিয়ে পড়েছে মানুষজন।
গতকালসহ দু’দিনে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অক্সিজেন-ফতেয়াবাদ থেকে পতেঙ্গা-হালিশহর কালুরঘাট-মোহরা থেকে পাহাড়তলী-অলংকার-কাট্টলী সবখানে হঠাৎ একযোগে কর্মব্যস্ত জনজীবনের চালচিত্র। স্বাস্থ্যবিধির ‘কঠোর’ ১৬ শর্ত পূরণ করে জীবিকার তাগিদে ব্যস্ততার কথা আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু বাস্তবে তা মেনে চলা এবং মানানোর গরজ কমই চোখে পড়েছে। এক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের জোর জবরদস্তি কিংবা বাড়াবাড়ি দৃশ্যত কম। আবার মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, অফিসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মস্থলে বসার ব্যবস্থা, বয়স্ক ও অসুস্থদের আসতে বারণ, অফিসে অযথা আড্ডা ও ভিড় করতে না দেয়া ইত্যাদির মাঝেও অনেক ক্ষেত্রে অভ্যাসের ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনতা ও সতর্কতা আগের চেয়ে বেশিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে ৭০ লাখ জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে সব মিলিয়ে বেশিরভাগ লোকের স্বাস্থ্যবিধি এড়ানো কিংবা লঙ্ঘনের হুজুগ, নির্লিপ্ততা রয়েই গেছে। এরফলে এক ধরনের শৈথিল্যকে মেনে নেয়াই হচ্ছে। চট্টগ্রামে চলাচলরত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, সীমিত পরিসরে চলা গণপরিবহন ও যাত্রীদের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই।
অন্যদিকে করোনাকারণে ঝুঁকি-ঝক্কির অন্যপিঠে তবুও ফিরে আসতে শুরু করেছে কর্মমুখী বাণিজ্যিক রাজধানী তার আসল রূপে। দীর্ঘদিন নির্জীব ভূতুরে বেহাল দশা কাটিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরীর প্রাণচাঞ্চল্য গতকাল অবধি বেশ কিছুটা ফিরেছে। শূণ্যদশায় আটকে থাকা নগরীতে গত দু’দিনে শত শত কোটি টাকা ব্যবসা-বাণিজ্যে নগদ হাতবদল এবং ব্যাংকিং লেনদেন হয়েছে।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনা সতর্কতার মাঝেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, শিল্প-কারখানার চাকা যতদূর সম্ভব গতিশীল রাখার কোনো বিকল্প নেই। এরজন্য সরকারের প্রতিশ্রুত প্রণোদনা ও সার্বিক সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ, জিইসি, বন্দর-পতেঙ্গা এলাকা, এ কে খান, কর্নেলহাট, ষোলশহর, মুরাদপুর, জুবিলি রোড, নিউমার্কেট, দেওয়ানহাট, মনসুরাবাদ, পাহাড়তলী, রেয়াজুদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, নতুন ব্রিজ, স্টেশন রোড, দামপাড়া, নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশ, হালিশহরসহ অনেকগুলো অর্থনৈতিক কর্মচঞ্চল জায়গায় গত মার্চ মাস থেকে ছিল স্থবির ও অচল। এখন মানুষের কোলাহল বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনে-রাতে।

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ২৬ মার্চ ছুটির দিন থেকেই আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সামাল দিতে সার্বক্ষণিক (২৪/৭) জেগেই আছে। তবে এতদিন ছিল সীমিত পরিসরে জনবল। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, এখন বন্দরের সবক’টি বিভাগ পুরোদমে জনবল নিয়েই সচল। আমদানি-রফতানিমুখী কন্টেইনার ও খোলা সাধারণ পণ্যসামগ্রী পরিবহনও বেড়ে যাচ্ছে। পণ্যভার থাকলেও জটমুক্ত রয়েছে বন্দর।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলো ফের চালু, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ভাড়া বৃদ্ধি না করেই এবং এক আসন ফাঁকা রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে দেশের প্রেস্টিজিয়াস ট্রেন খ্যাত দুইটি ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা চালু, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বাড়তি ভাড়ায় হলেও অভিজাত বাস-কোচগুলো চালু, প্রাইভেট যানবাহন চলাচল ইত্যাদি সামগ্রিক যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় খুব ধীরে ধীরে হলেও হ্রাস পেতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন