ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কালভার্টের মুখ আটকে দিয়েছে প্রভাবশালীরা গোয়ালন্দে পানির দাবিতে পাট চাষীদের বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গোয়ালন্দ উপজেলা সংবাদদাতা : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের কয়েকশ’ কৃষক রোববার দুপুরে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে এসে পানির দাবিতে বিক্ষোভ করে। পানির অভাবে ইউনিয়ন দুটির শত শত কৃষক তাদের জমির পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষক আয়নাল মোল্লা, ওসমান সরদার, হানিফ ব্যাপারীসহ অনেকেই জানান, ওই এলাকায় অন্তত ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটগুলো মাঠে পড়ে আছে। শুকিয়ে মরেও যাচ্ছে। কিন্তু জাগ দেয়ার মতো পানি না থাকায় কাটতে পারছেন না। নদী অনেকদূর। ঘোড়ার গাড়িতে করে নিতে গেলে এক বিঘা জমির পাটে প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো পরিবহন খরচ লাগে। এভাবে নিতে গেলে তাদের অনেক লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাই এলাকায় পানি প্রবেশের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।
রোববার ওই এলাকার কৃষকরা কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার দাবিতে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় কৃষকরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। পরে চেয়ারম্যান এসে কৃষকদেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।
জানা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা থেকে কাটাখালীগামী সড়কের লালনের বাড়ির সামনে একটি এবং দক্ষিণ চরপাচুরিয়া থেকে কাটাখালীগামী সড়কের দুটি কালভার্টের মুখ দুই বছর আগে ভরাট করে বাড়ি ও মাছের ঘের তৈরি করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। গত বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের পাট পচানোর কাজে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এবং কালভার্টের মুখ বন্ধ থেকে নদীর পানি প্রবেশ করতে না পারায় দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৭ ও ৯নং ওয়ার্ড এবং ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৩,৪,৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের অন্তত ২ হাজার কৃষক পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার বলেন, এলাকার শত শত কৃষক পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত অবৈধভাবে আটকে দেয়া কালভার্টগুলোর মুখ খুলে দিয়ে অথবা সুবিধাজনক জায়গায় রাস্তা কেটে পানি প্রবেশ করার ব্যবস্থা করতে হবে। কাটা জায়গায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে আপাতত চলাচল করে আগামী শুষ্ক মৌসুমে সেখানে নতুন করে কালভার্ট দেয়া যাবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম নুরুল ইসলাম জানান, কৃষক পাট নিয়ে সত্যিকার অর্থেই চরম বিপাকে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে সরেজমিন গিয়ে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন