ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

জনবল সঙ্কটে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০৪ এএম

চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীর চরম সঙ্কটের মধ্যে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্র্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের এ বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ১৯৬৯ সালে বরিশাল সদর হাসপাতাল ও সরকারি শিশু সদন ভবনে ৩৬০ শয্যার এ হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা হলেও ১৯৭৮ সালে বর্তমান নিজস্ব ভবনে ৫শ’ শয্যার হাসপাতাল চালু করা হয়। কিন্তু বছর তিনেক আগে ৩৬০ শয্যার জনবল কাঠামোর নিয়েই হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হলেও জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। আর এ জনবল সঙ্কটের মধ্যেই সাম্প্রতিক করোনা সংক্রমনে হাসপাতালটির প্রায় অর্ধশত চিকিৎসক ছাড়াও আরো বিপুল সংখ্যক নার্স ও চিকিৎসা কর্মী আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো সঙ্কটাপন্ন।

গত কয়েক বছর ধরে তীব্র জনবল সঙ্কটে এ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন মুখ থুবড়ে পরার উপক্রম। হাসপাতালটির পূর্বের জনবল কাঠামো অনুযায়ী সোয়া ২ শ’ চিকিৎসক পদের মধ্যে ১২৭টিই শূণ্য। অনেক বিভাগে রেজিস্ট্রার ও সহকারী রিজিস্ট্রারের পদগুলো পর্যন্ত শূণ্য। এর বাইরে হাসপাতালাটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকগণ পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজর ২২টি বিভাগীয় প্রধান পদের বিপরিতে মাত্র একজন পূর্ণঙ্গভাবে দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তার প্রভাব পড়ছে হাসপাতালেও। চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। পুরো হাসপাতালের স্টাফ নার্র্স, টেকনোলজিস্ট, ব্রাদার, ওয়ার্ড বয় থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মী সঙ্কট প্রকট। এরইমধ্যে সম্প্রতি ৫০ শয্যার একটি আলাদা করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে হাসপাতালটিতে। এছাড়া করোনা সংক্রমিত রোগীদের জন্য কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আলাদা আইসিইউ চালু করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের এ সেবা প্রতিষ্ঠানটি যে কোন স্বাস্থ্য সঙ্কটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছে। গত বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যখন অবনিত ঘটে, তখন ৪ শ’ ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে এ হাসপাতাল। বর্তমান করোনা মহামারীতেও ডেঙ্গুর মত দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ রোগীই এ হাসপাতালের স্মরনাপন্ন হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীর অভাবে গোটা হাসপাতালটির কার্র্যক্রম চরম বিপর্যয়ের কবলে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, জনবল সঙ্কট অত্যন্ত পুরোনা সমস্যা। বিষয়টি নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়ে থাকে। সরকার এ হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলে জানিয়ে অদূর ভবিষ্যতেই এখানে আরো জনবল নিয়োগ দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন