ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা সঙ্কট উত্তরণে জোরালো সুসমন্বিত বৈশ্বিক সাড়া দরকার

তিন প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা (কোভিড-১৯) মহামারির এই সঙ্কট মোকাবিলায় এখনই সকল দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি জোরালো, সু-সমন্বিত এবং বৈশ্বিক সাড়া প্রয়োজন। গতকাল ডিজিটাল প্লাটফর্মে আইএলও আয়োজিত গ্লোবাল লিডার’স ডে’ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেয়া ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সঙ্কটগুলো উত্তরণের জন্য তিনটি প্রস্তাবও দেন তিনি। 

বিশ্বনেতাদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ু-ইন, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাবেক সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান-ওচা, সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফবেন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তেনিও গুতেরেস এই অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বতন্ত্রভাবে সবার জন্য উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন কিন্তু সকলে একত্রে এটি করতে পারি। এই বৈশ্বিক দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা বিশ্বায়ন এবং কানেকটিভিটিকে হুমকিতে ফেলেছে। করোনা মহামারি এখন কেবল স্বাস্থ্য সমস্যা নয় বরং এটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কটে রূপ নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারিতে অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিলিয়ন বিলয়ন ডলারের রফতানি আদেশ হারিয়েছি। অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, লাখ লাখ শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছে। তবে এর বিরূপ প্রভাব দুর্বল, অভিবাসী এবং নারী শ্রমিকদের ওপর বেশি পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। চলমান করোনা সঙ্কটে শ্রমিক সমস্যাগুলো উত্তরণে তিনটি প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
১. এই সঙ্কটের সময় বিদেশের বাজারে অভিবাসী শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখতে হবে। ২. যদি অব্যাহতি দিতেই হয় তবে শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুবিধাসহ ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য বরখাস্ত সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। ৩. মহামারির পরে অর্থনীতিকে সক্রিয় করতে কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে এবং যার ফলে রেমিট্যান্সে ঘাটতি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেমিট্যান্স আমাদের মূল উপাদান। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বেকার অভিবাসী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে আমরা ২০ শতাংশের বেশি রেমিট্যান্স আয় হারাবো। আমরা সকলে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বায়নের মাধ্যমে বিশ্বকে বদলে দেয়ার কথা বলেছিলাম। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের আশ্রয়ে থাকা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ১.১ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি সঙ্কট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে প্রণোদনা হিসেবে অর্থনৈতিক ও সমাজের বিভিন্ন সেক্টরের মানুষকে সহযোগিতা করতে ১২.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করি। এই সহায়তা প্যাকেজ জিডিপির ৩.৭ শতাংশের সমান। তিনি বলেন, রফতানি শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি দিতে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারিতে বেকার হওয়া ৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষকে সরাসরি নগদ এবং অন্যান্য সুবিধা দেয়া হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন